Published : 25 Sep 2025, 07:10 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কবে নাগাদ ক্যান্সারের চিকিৎসা বের করতে পারবে সেই বিষয়ে ধারণা দিয়েছেন চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যান।
তিনি বলেছেন, এআই যে গতিতে এগুচ্ছে তা দেখে মনে হচ্ছে এআই খুব শিগগিরই ক্যান্সারের চিকিৎসা বের করতে পারবে।
মঙ্গলবার ‘অ্যাবান্ডান্ট ইন্টেলিজেন্স’ শিরোনামের এক ব্লগ পোস্টে এ প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ার বলেছেন, ১০ গিগাওয়াট কম্পিউটিং শক্তি থাকলে এআই এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাবে, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কিছু সমস্যার সমাধান করতে পারবে এটি।
অল্টম্যান বলেছেন, তার কোম্পানি এমন এক কারখানা গড়ার পরিকল্পনা করছে, যা প্রতি সপ্তাহে এক গিগাওয়াট পরিমাণ নতুন এআই অবকাঠামো তৈরি করবে। এরপরও ১০ গিগাওয়াট কম্পিউটিং শক্তির মাত্রায় পৌঁছাতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
“এআই যদি সেই পথেই এগোয় যেমনটি আমরা ভাবছি তবে অবিশ্বাস্য অনেক কিছু সম্ভব হয়ে উঠবে।
“১০ গিগাওয়াট কম্পিউটিং শক্তি থাকলে ক্যান্সারের চিকিৎসা খুঁজে বের করতে পারবে এআই। এ পরিমাণ শক্তি দিয়ে এআই পৃথিবীর প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ব্যক্তিগতভাবে উপযোগী শিক্ষা দেওয়াও সম্ভব করে তুলবে।”
এরইমধ্যে বাস্তব জীবনের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এআইয়ের ব্যবহার চলছে। যেমন, মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগলের এআই স্টার্টআপ ডিপমাইন্ড-এর ‘আলফাফোল্ড’ নামের এক এআই টুল টিকা ও ওষুধ আবিষ্কারের গবেষণা দ্রুততর করতে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।
ক্যান্সার নির্ণয় পদ্ধতির উন্নয়নে সাহায্য করলেও এখন পর্যন্ত কোনো রোগ পুরোপুরি সারাতে পারেনি এআই। কারণ ক্যান্সার কেবল রোগই নয়, বরং শত শত আলাদা রোগের সমষ্টিও। অত্যাধুনিক এআইও হয়ত ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় জটিল বিভিন্ন প্রক্রিয়া বুঝতে পারবে না।
ওপেনএআইয়ের সঙ্গে মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার এক ঐতিহাসিক এআই অবকাঠামো চুক্তির ঠিক একদিন পরই অল্টম্যানের এমন মন্তব্য এল। এ চুক্তির মাধ্যমে কোম্পানি দুটি এমন ডেটা সেন্টার বানাবে, যা প্রচুর শক্তি ব্যবহার করে উন্নত এআই চালাতে পারবে।
এ প্রকল্প নিয়ে এনভিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং বলেছেন, “ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এআই অবকাঠামো প্রকল্প এটি।
“এ পার্টনারশিপের মূল উদ্দেশ্য এমন এক এআই অবকাঠামো তৈরি করা, যা কেবল গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবনেও কাজে লাগবে।
“আমরা আসলেই বুদ্ধিমত্তাকে প্রতিটি অ্যাপ্লিকেশন, ব্যবহারের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি যন্ত্রের সঙ্গে যোগ করতে যাচ্ছি। এ যাত্রার এখনও শুরুতে রয়েছি আমরা এবং এ ১০ গিগাওয়াটের কম্পিউটিং শক্তি বানানোই হবে আমাদের প্রথম বড় পদক্ষেপ।”