১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘অভিমান করে’ ভারতে বাংলাদেশি শিশু, ‘পুশইন-পুশব্যাক’ উত্তেজনার পর ফেরত

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে বিজিবি।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jun 2026, 03:18 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:24 PM

কুড়িগ্রামে ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে নয় বছর বয়সী এক বাংলাদেশি শিশু ‘মা-বার সঙ্গে অভিমান করে’ ভারতে ঢুকে পড়ে।

পরে এ নিয়ে ‘পুশইন’ ও ‘পুশব্যাক’ জটিলতার পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শিশুটিকে ফেরত নিয়ে আসে বিজিবি।

শনিবার ১১ টা ৪৫ মিনিটের দিকে ফুলবাড়ী সীমান্ত পিলার ৯৪৩-এর ৩এস এর কাছে খায়রুল ইসলামের বাড়ির পেছনের বাঁশঝাড় এলাকায় বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে সংক্ষিপ্ত পতাকা বৈঠকের পর শিশুটিকে ফেরত দেওয়া হয়। 

এরপর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন কাশিপুর বিওপির সুবেদার ইব্রাহিম জানিয়েছেন। 

শিশুটির বাড়ি ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে; তার বাবার নাম জালাল হোসেন। সে স্থানীয় একটি স্কুলের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। 

ঘটনার বর্ণনায় কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক বলেন, “শনিবার বেলা ১টার দিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৯৪৩-এর সাব-পিলার ৩-এর কাছাকাছি এলাকায় বিএসএফ একটি মেয়ে শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। এ সময় তা ঠেকাতে শক্ত অবস্থান নেয় বিজিবি। 

“এরপর শিশুটিকে ঘিরে বিকাল পর্যন্ত দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ‘পুশইন’ ও ‘পুশব্যাক’ চলে। এক পর্যায়ে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শেষ বিকালের দিকে বিএসএফ শিশুটিকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় এ খবর ছড়িয়ে পড়ে।”

তিনি বলেন, “এদিকে শিশুটির মা সন্তানকে খুঁজতে খুঁজতে সীমান্তে এসে জানতে পারেন, বিএসএফের হাতে এক কন্যা শিশু আটক হয়েছে। পরে তিনি নিশ্চিত হন যে, ওই শিশুটি তারই সন্তান। পরে তিনি ঘটনাটি বিজিবিকে জানালে তারা বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।”

শিশুটির মা নাজমা বেগম বলেছেন, শনিবার বেলা ১১টার দিকে স্কুলে পাঠানোর সময় তার মেয়ে খাওয়ার জন্য বায়না ধরে। কিন্তু তিনি খাবার না দিয়েই মেয়েকে স্কুলে পাঠিয়ে দেন। 

তার ভাষ্য, “বেলা ১২টার দিকে মেয়ে খাবারের জন্য বাড়িতে চলে আসে। স্কুলের সময় শেষ হওয়ার আগে বাড়ি ফেরায় আমার স্বামী তার সঙ্গে রাগারাগি করেন। পরে তিনি মেয়েকে আবার স্কুলে দিয়ে আসেন এবং ক্লাস শেষ করে বাড়িতে এসে খাবার খেতে বলেন।” 

“পরে ছুটির সময় স্কুলে গিয়ে দেখি, মেয়ে সেখানে নেই। এদিক-ওদিক খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে জানতে পারি, মেয়ে সীমান্তে গেছে এবং বিএসএফ তাকে ধরে ভারতের ভেতরে নিয়ে গেছে।” 

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন কাশিপুর বিওপির সুবেদার ইব্রাহিম বলেন, শিশুটি বাংলাদেশি নাগরিক, এ তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর বিজিবি পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেয়। পরে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে প্রায় ১৫ মিনিট পতাকা বৈঠক হয়। 

শিশুটিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তরের সময় কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক ও ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলমসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।