Published : 30 Jun 2026, 01:32 PM
উড়ুক্কু গাড়ির মতো এয়ার ট্যাক্সি ও আগামী প্রজন্মের উন্নত প্রযুক্তির আকাশযান পরীক্ষার জন্য ওকলাহোমাতে বিশেষ এক কেন্দ্র নির্মাণ করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
২০২৭ সালের মধ্যে প্রস্তুত হতে যাওয়া এ কেন্দ্রটি দেশটির জাতীয় আকাশসীমায় চালকহীন ড্রোন ও আধুনিক প্লেন ব্যবস্থায় নিরাপত্তা যোগের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
ওকলাহোমা সিটিতে অবস্থিত এক হাজার একশ একর আয়তনের ‘মাইক মনরনি অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার’-এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে, যাতে তা নতুনভাবে বিকশিত হওয়া বিভিন্ন প্লেন প্রযুক্তিকে প্রয়োজনীয় সুবিধা দিতে পারে।
এর মধ্যে রয়েছে ৮৩ লাখ ডলার ব্যয়ে নির্মিত বিশেষ এক পরীক্ষা ক্ষেত্র, যা ‘ভার্টিকাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং প্রসিডিওর্স অ্যান্ড অ্যানালাইসিস রেঞ্জ’ বা সংক্ষেপে ‘ভি-পার’ নামে পরিচিত।
মার্কিন ‘ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বা এফএএ-এর তথ্য অনুসারে, এ বিশেষ ক্ষেত্রটি আকারে বড় ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড বিভিন্ন প্লেনের জন্য তৈরি করা হচ্ছে, যা খাড়াভাবে টেইক অফ ও ল্যান্ডিংয়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে।
এ কেন্দ্রে আকাশযানের ল্যান্ডিং ও টেইকঅফের জায়গা, একটি ট্যাক্সিওয়ে, বিদ্যুচ্চালিত প্লেন চার্জিংয়ের সুবিধা এবং পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনা কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে ডেপুটি সেক্রেটারি স্টিভেন ব্রাডবেরি বলেছেন, “উন্নত প্রযুক্তির বিভিন্ন এয়ার মোবিলিটি এয়ারক্রাফটকে কীভাবে নিরাপদে দেশের জাতীয় আকাশসীমা ব্যবস্থার সঙ্গে যোগ করা যায় তা আরও ভালোভাবে বুঝতে এফএএ-কে সাহায্য করার ক্ষেত্রে ‘ভি-পার’ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
“কেন্দ্রটি আমাদের গবেষণা করার, জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ও প্লেন চালনা শিল্পের ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।”
এফএএ বলেছে, এ কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ ২০২৭ সালের গ্রীষ্মকালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এর পরিধি আরও বাড়ানো হতে পারে।
যার মধ্যে রয়েছে, অতিরিক্ত কিছু অবতরণ ক্ষেত্র তৈরি করা, চার্জিং সক্ষমতা বাড়ানো, দ্বিতীয় একটি ভার্টিপ্যাড নির্মাণ এবং ছোট আকারে উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য একটি রানওয়ে তৈরি করা।
এ রূপরেখায় বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য উচ্চাভিলাষী সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, আগামী বছরের মধ্যে আধুনিক উড্ডয়ন প্রযুক্তির প্রদর্শন ও প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু, ২০৩০ সালের মধ্যে শহুরে ও গ্রামীণ এলাকায় নতুন ধরনের প্লেন পরিচালনা এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে উন্নত প্লেন পরিচালনা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। যার মধ্যে প্রতিকূল পরিবেশ বা পর্যাপ্ত জনবল নেই এমন এলাকায় সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা চালকহীন ফ্লাইট পরিচালনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্য অনুসারে, শহরের প্লেন পরিচালনা প্রকল্পগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সিংহভাগই আসবে বেসরকারি উৎস থেকে।
পাশাপাশি, মার্কিন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা ‘সম্পূর্ণভাবে মার্কিনভিত্তিক একটি সরবরাহ শৃঙ্খল’ গড়ে তোলার বিষয়টিকে উৎসাহিত করবেন।
২০২২ সালে পাস হওয়া এ সংক্রান্ত এক আইন এবং ২০২৫ সালের জুনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জারি করা এক নির্বাহী আদেশের পরই এ জাতীয় কৌশলটি প্রকাশ হয়।
ওই নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প আকাশসীমায় ‘আমেরিকান ড্রোনের আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
‘ন্যাশনাল বিজনেস এভিয়েশন অ্যাসোসিয়েশন’ বা এনবিএএ-এর তথ্য অনুসারে, হেলিকপ্টারের মতো দেখতে এ ‘ইলেকট্রিক ভার্টিকাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং’ বা ইভিটিওল যানগুলো এমন সব দুর্গম স্থানে মানুষ ও পণ্য পরিবহন করবে, যেখানে বর্তমানে সহজে যাতায়াত করা যায় না।
এগুলো হাইব্রিড ইলেকট্রিক সিস্টেম, ব্যাটারি বা সম্ভাব্য ক্ষেত্রে হাইড্রোজেন ফিউয়েল সেলের সাহায্যে চালিত হতে পারে। এ বছরের মার্চে পুরো দেশজুড়ে আটটি ‘ইভিটিওল’ পরীক্ষামূলক কর্মসূচির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে নিউ ইয়র্ক, টেক্সাস, ইউটাহ, পেনসিলভানিয়া, লুইসিয়ানা, ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত।
উন্নত এ প্লেন চলাচল ব্যবস্থার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের আকাশযান রয়েছে, যেগুলো সাধারণত ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ফুটের কম উচ্চতায় চলাচল করে। এ ইভিটিওল যানগুলো হয়ত কেবল শুরু।
এদিকে, নাসা বলেছে, তারাও এ এয়ার ট্যাক্সি ও ড্রোনের মতো শিল্পের বিকাশে দিকনির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করছে।
সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছে, “উদ্যোগটি ২০৩০ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ ও সফল শিল্প গড়ে তোলার পথ তৈরি করবে।”
এয়ার ট্যাক্সির শব্দের প্রতি মানুষ কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায় তা নিয়ে গবেষণা করছে নাসা। গবেষণায় উঠে এসেছে, যেসব এলাকার পরিবেশ আগে থেকেই বেশি কোলাহলপূর্ণ বা শব্দবহুল, সেখানকার বাসিন্দারা এয়ার ট্যাক্সির শব্দে বেশি বিরক্ত বোধের কথা জানিয়েছেন।
নাসার তথ্য অনুসারে, “লস অ্যাঞ্জেলেস, নিউ ইয়র্ক এবং ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায় পরিচালিত ‘ভ্যানগার্ড’ গবেষণার সঙ্গে যোগ দলের সদস্যরা এ ফলাফলের পেছনের কারণ আরও ভালোভাবে বুঝতে ‘বর্তমানে ডেটা বা তথ্য বিশ্লেষণ করছেন’।”