Published : 11 Jul 2026, 04:17 PM
এবারের বিশ্বকাপে শক্তিতে পিছিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে হারের ঘটনা বিরল নয়। তাছাড়া, নকআউট পর্বে কেইপ ভার্ড ও মিশর কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে আর্জেন্টিনার। অনেক কিছু পক্ষে থাকলেও, সুইজারল্যান্ডকে তাই সহজ প্রতিপক্ষ মানতে নারাজ লিওনেল স্কালোনি। শারীরিকভাবে শক্ত-পোক্ত সুইসদের সমীহ করছেন আর্জেন্টিনা কোচ।
শিরোপা ধরে রাখার মঞ্চে ওঠা থেকে, আর মাত্র দুই সিঁড়ি দূরে আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার-ফাইনালে, ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় ৭টায় (এএম) প্রথম সিঁড়ি পার হতে তারা মুখোমুখি হবে দারুণ উজ্জীবিত সুইজারল্যান্ডের।
আর্জেন্টিনা যেখানে শিরোপাধারী, সেখানে সুইজারল্যান্ড ১৯৫৪ সালের পর, এই প্রথম উঠেছে কোয়ার্টার-ফাইনালে। ট্রফি জেতা তো দূর অস্ত, আজও সেমি-ফাইনালেই ওঠা হয়নি তাদের। কিন্তু এবার মুরাত ইয়াকিনের দলের চোখে বড় স্বপ্নের আঁকিবুকি।
দুই দলের সবশেষ দেখার স্মৃতিও আর্জেন্টিনার পক্ষে। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় তারা যথেষ্ট ভুগিয়েছিল মেসিদের। কিন্তু আনহেল দি মারিয়ার অতিরিক্ত সময়ের গোলে, সুইসদের হারিয়েছিল আলবিসেলেস্তারা।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে দাপুটে ছিল আর্জেন্টিনা। তিন ম্যাচের সবগুলো জিতে উঠে আসে নকআউটে। কিন্তু এরপরই শুরু হয় কঠিন পরীক্ষায়। শেষ বত্রিশে কেইপ ভার্ডের বিপক্ষে কাঁপতে কাঁপতে ৩-২ ব্যবধানে জিতে আর্জেন্টিনা।
শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে হারের শঙ্কা উঁকি দিয়েছিল প্রবলভাবে। দুই গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা, শেষ দিকের ঝড়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে ৩-২ ব্যবধানে জিতে। সুইসজারল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে তাই সতর্ক স্কালোনি।
“কেউই সহজ প্রতিপক্ষ নয়। আমরা সবাই সেটা জানি। সুইজারল্যান্ড খুবই ভালো একটি দল; তারা সবসময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং জয়ী হয়। তাদের শক্তিশালী ঐতিহ্য এবং অভিজ্ঞ ফুটবলার আছে।
“তারা কঠিন প্রতিপক্ষ হবে (আমাদের জন্য) এবং তারা এখানে একটা লক্ষ্য নিয়ে এসেছে। তাদের কিছু আকর্ষণীয় খেলোয়াড় আছে, বিশেষ করে শারীরিক বৈশিষ্টের দৃষ্টিকোণ থেকে।”
সুইসদের বিপক্ষে ম্যাচেও গোলের জন্য আর্জেন্টিনা তাকিয়ে থাকবে লিওনেল মেসির দিকে। ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা এরই মধ্যে ৮ গোল করে, দলকে পথ দেখিয়েছেন প্রতিটি ম্যাচে।
আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে আছেন, লাউতারো মার্তিনেস ও হুলিয়ান আলভারেস। সাধারণত, সেরা একাদশে তাদের একজনকে সুযোগ দেন স্কালোনি। তবে, সবশেষ মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে অবশ্য মার্তিনেস দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামার পর, মাঠে এক সঙ্গে খেলেছিলেন তিনজনই।
দুজনের মধ্যে মার্তিনেস এ পর্যন্ত করেছেন এক গোল, গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে। এখনও জালের দেখা পাননি আলভারেস।
ক্যানসাস সিটির ম্যাচে এই দুই ফরোয়ার্ডকে এক সঙ্গে খেলানোর ব্যাপারে মনস্থির এখনও করেননি স্কালোনি। তবে, মিশরের বিপক্ষে দুজনের একসাথে খেলার ইতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি, মাথায় আছে আর্জেন্টিনা কোচের।
“দুজনের ব্যাপারে আমরা মূল্যায়ন ইতিবাচক। তারা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কিছু করছে। সাধারণত, একজন খেলে, কিন্তু সেদিন (মিশর ম্যাচে) তারা একসাথে খেলেছে এবং আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে। আমাদের জন্য এটা শক্তির জায়গা। আমি জানি না, দুজনে শুরুর একাদশে সুযোগ পাবে কিনা, তবে তাদের বিষয়টি মাথায় আছে আমার।”