উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
Published : 04 Jun 2026, 03:38 PM
মিডফিল্ডারদের পারফরম্যান্সে আপনি কি সন্তুষ্ট? তুষ্টি-অতুষ্টির প্রসঙ্গ পিটার জেমস বাটলার অবশ্য কৌশলে এড়িয়ে গেলেন। মারিয়া মান্দার একাধিক এলোমেলো পাস, বদলি নেমে মনিকা চামকার বিবর্ণতা নিয়েও বললেন না কিছু। তবে, নেপালের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর, মারিয়ার নেতৃত্বে দল যেভাবে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে কাঙিক্ষত ফল বের করে এনেছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট।
আলাদা করে মারিয়াকে প্রশংসা করতে গিয়ে এই মিডফিল্ডারকে ‘রাফ ডায়মন্ড’ বললেন বাটলার। যার অর্থ লুকানো প্রতিভা, যে রত্ন ঠিক পলিশ করা নয়, একেবারেই অকৃত্রিম। ভারতের গোয়ায় উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের স্বপ্ন মারিয়ার হাত ধরেই পূরণ করতে এসেছে বাংলাদেশ।
অধিনায়ক হিসেবে মারিয়ার শুরুটা মালদ্বীপকে ৪-২ গোলের জয় দিয়ে. কিন্তু ওই ম্যাচে দল ছিল না সেরা ছন্দে। ভারতের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারের ম্যাচে দল ছিল আরও ছন্নছাড়া। সেদিন, আক্রমণ, রক্ষণ, মাঝমাঠে-কোনো কিছুই হয়নি ঠিকঠাক।
নেপালের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালের আগে শিউলি আজিমের মায়ের মৃত্যুতে মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল। অনুশীলন ছাড়াই, স্রেফ ভিডিও সেশন পুঁজি করে মাঠে নামে মেয়েরা।
বিষন্ন, বিধ্বস্ত দলকে এক সুঁতোয় গেঁথেছেন মারিয়া। বিশেষ করে, মাঠের লড়াইয়ে নেপালের বিপক্ষে গীতা রানীর গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, লড়াকু মারিয়ার নেতৃত্বেই দল ঐক্যবদ্ধ ছিল, মনে করেন বাংলাদেশ কোচ।
“প্রথমত, আমার মনে হয়, মারিয়া সবসময়ই একজন 'রাফ ডায়মন্ড'। ও একজন যোদ্ধা, একজন লড়াকু খেলোয়াড়, ও মাঝমাঠে খেলেছে। আমি নিজে মাঝমাঠে ৫০০-র বেশি ম্যাচ খেলেছি, তাই আমি জানি, সে কীভাবে খেলে এবং তার মানসিকতা কেমন। আমার মনে হয়েছে, নেপাল ম্যাচের কিছু সময়ে সে অসাধারণ ছিল, আবার কিছু সময়ে বেশ খাটতে হয়েছে। কিন্তু এটা সেমি-ফাইনাল, এখানে অনেক চাপ থাকে, অনেক উত্তেজনা থাকে এবং ম্যাচের গুরুত্বও অনেক বেশি ছিল।”
“(পিছিয়ে পড়ার পর বার্তা ছিল) শুধু টিকে থাকা। কখনো কখনো একটি গোল হজমের পর আরেকটি গোল খেয়ে বসার আশঙ্কা থাকে। মূল বিষয় ছিল টিকে থাকা, পরের ১৫-২০ মিনিটের ঝড়টা সামলানো। কিন্তু আমি কি আমার মিডফিল্ড নিয়ে শতভাগ সন্তুষ্ট? আমার শুধু মনে হয়েছে, আজ আমাদের সত্যিই ফল বের করে আনার জন্য লড়াই করতে হয়েছে, মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হয়েছে আর মারিয়া ছিল সেই লড়াইয়ের মূল চালিকাশক্তি।”
মাঝমাঠের দৃঢ়তা বাড়াতে মোমিতা খাতুনকে তুলে মনিকা চাকমাকে নামিয়ে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করেন বাটলার। প্রত্যাশা ছিল, দুটি সাফ জয়ী এই মিডফিল্ডার মারিয়ার সাথে জুটি গড়ে, দখল নেবেন মাঝমাঠের। কিন্তু গোঁড়ালির চোট সারিয়ে ফেরা মনিকা পারেননি নিজের সেরাটা মেলে ধরতে। ৭৯তম মিনিটে তাকে তুলে নিয়ে শাহেদা আক্তার রিপাকে নামান কোচ। এরপর বাড়তে থাকে বাংলাদেশের খেলার গতি।
অবশেষে, যোগ করা সময়ে প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলে জয়ের বন্দরে পৌঁছেও যায় বাংলাদেশ।
জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে শনিবার ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বাটলার নিশ্চিত নন, মনিকা শিরোপা লড়াইয়ে খেলতে পারবেন কিনা।
“মনিকার চোটের ব্যাপারে... আমি জানি না, আমাদের এটি মূল্যায়ন করতে হবে, এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না। আমার মনে হয়, সে হয়তো গুরুতর চোট পেয়েছে এবং দেখে মনে হচ্ছে, সে হয়তো আর সামনে খেলতে পারবে না। আমি অবশ্য নিশ্চিত নই, কেবল অনুমান করছি।”
“রিপা যখন মাঠে এলো, সে ভালো করেছে। আর দুর্ভাগ্যবশত মনিকা চোট পেল। আমি এখানে বসে এটা-সেটা নিয়ে অনেক কথাই বলতে পারি। তবে আজ (বুধবার) আমাদের সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন ছিল, তা হলো দৃঢ়তা এবং সংকল্প এবং ধৈর্য ধরা। খেলায় টিকে থাকাটাই কখনো কখনো একমাত্র করণীয় হয়ে দাঁড়ায়। কারণ আপনি ভালো করেই জানেন, সামনে আমাদের যে গতি রয়েছে, তা দিয়ে আমরা যেকোনো সময় পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করতে পারি এবং সেটাই আমরা করেছি।”