Published : 15 Jul 2026, 11:09 AM
মাঠের লড়াইয়ে দল ছিল অসহায়, মাঠের বাইরে কোচ! ম্যাচজুড়ে বেশ কবারই দেখা গেল, ডাগআউটে চুপচাপ বসে আছেন দিদিয়ে দেশোঁ। যেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না, কী করবেন। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যর্থতা মেনে নিচ্ছেন ফ্রান্সের কোচ। পাশাপাশি কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন তিনি রেফারিকেও। তার মতে, বিশ্বকাপ সেমি-ফাইনালের মতো ম্যাচ পরিচালনার যোগ্যতা রেফারির ছিল না।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে টানা তৃতীয় ফাইনালে খেলার খুব কাছে ছিল ফ্রান্স। কিন্তু আসরজুড়ে যে দলকে মনে হয়েছে অপ্রতিরোধ্য, সেমি-ফাইনালে তারা মুখ থুবড়ে পড়েছে বাজেভাবে। ২-০ গোলের জয়ে স্পেন স্রেফ ফুটবল শিক্ষা দিয়েছে ফরাসিদের।
ম্যাচের পর দেশোঁ স্বীকার করে নিয়েছেন, স্পেনের কাছে স্রেফ বিধ্বস্ত হয়েছেন তারা। টেকনিক্যাল, ট্যাকটিক্যাল, শারীরিক, কোনো দিক থেকেই প্রতিপক্ষের ধারেকাছে যেতে পারেনি গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দলটি। ম্যাচজুড়ে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করেছে স্প্যানিশরা। তারকায় ঠাসা ফরাসিরা স্রেফ অসহায়ের মতো ছুটোছুটি করেছে উদ্দেশ্যহীন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশোঁর কণ্ঠেও তা ফুটে উঠল।
“এই স্পেন দল স্পষ্টতই খুবই শক্তিশালী এবং তারা আজ রাতে তা প্রমাণ করেছে।
আমরা আমাদের স্বাভাবিক মানের চেয়ে কিছুটা নিচে ছিলাম এবং আগের ম্যাচগুলোর তুলনায় টেকনিক্যাল ভুল বেশি করেছি। শারীরিকভাবেও আমরা এক ধাপ পিছিয়ে ছিলাম।”
সেমি-ফাইনালে আসার পথচলায় ফ্রান্সের মূল চালিকাশক্তি ছিল তাদের আক্রমণভাগ। কিন্তু আট গোল করা কিলিয়ান এমবাপেকে এ দিন বলেল জোগান যথেষ্ট দিতে পারেননি সতীর্থরা। মাইকেল ওলিসে, বাহডলি বাহকোলা, উসমান দেম্বেলেরা ছিলেন নিজেদের ছায়া। বলা ভালো, তাদেরকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল স্পেন।
দেশোঁ বললেন, এই স্পেনকে হারানোর মতো যথেষ্ট ভালো ফুটবল তার দল মেলে ধরতে পারেনি।

“স্পেনের সামর্থ্য সম্পর্কে আমরা জানি এবং পরের পর্বে যাওয়ার সামান্যতম সুযোগ পেতে হলেও আমাদের সেরাটা দিতে হতো। আমরা তা পারিনি।”
ফ্রান্সের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে রক্ষণভাগের বড় ভরসা উইলিয়াম সালিবার চোট। ম্যাচের শুরুর দিকে হলুদ কার্ড পাওয়া আদ্রিয়া হাবিও পরে ছিলে একদমই ম্রিয়মান। এসব ভুগিয়েছে দলকে।
দেশোঁ বললেন, পাসিং লেন দ্রুত বুঝতে পারা এবং আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষেত্রে স্পেনের দুর্দান্ত দক্ষতা ফ্রান্সকে কোনো ছন্দ খুঁজে পেতে দেয়নি।
“স্প্যানিশরা নিজেদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে এবং পাসের গতিপথ বুঝতে পেরে তা প্রতিহত করতে খুব পারদর্শী।
“আমরা কোনো সমাধান খুঁজে পাইনি। এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত আমরা যে আক্রমণাত্মক এবং টেকনিক্যাল দক্ষতা দেখিয়েছি, তা এই ম্যাচে দেখাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য আংশিকভাবে আমরাই দায়ী, তবে আমাদের তা করতে না দেওয়ার জন্য স্পেনও কৃতিত্বের দাবিদার।”
২০১৮ আসরের চ্যাম্পিয়নরা পরের আসরে নাটকীয় ফাইনালে হেরে যায় টাইব্রেকারে। এবার দারুণ সমৃদ্ধ স্কোয়াড নিয়েও থামতে হলো ফাইনালের আগে।
স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় ড্রেসিং রুমে সবাই মুষড়ে পড়েছে, লুকালেন না কোচ।
“তাদের হতাশাটা প্রবল। এই ছেলেরা দারুণ লড়িয়ে। ওদের এই যাত্রার সমাপ্তি দেখাটা কষ্টদায়ক।
আমরা যা কিছু করেছি, তা আমি ফেলে দিতে চাই না। অনেক ভালো কিছু করেছি আমরা আসরজুড়ে। কিন্তু এই ম্যাচে স্পেন দেখিয়েছে যে, তাদের আরও কিছু করার ক্ষমতা আছে।”
দেশোঁ প্রশ্ন তুললেন রেফারিংয়ের মান নিয়েও। অবশ্য সরাসরি না বলে বিচারের ভার ছেড়ে দিলেন তিনি অন্যদের হাতেই।
“চতুর্থ এবং পঞ্চম কর্মকর্তা শীর্ষ মানের ছিলেন, আমি সাইডলাইনে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু মাঠের রেফারি... আমি কিছু বলব না, কিন্তু আপনাদের জিজ্ঞাসা করছি: ‘বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল পরিচালনার মতো মান তার ছিল কি?’ আপনারাই ভালো বলতে পারবেন।”
এই ম্যাচ দিয়ে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে ১৪ বছরের পথচলার সমাপ্তিও হচ্ছে দেশোঁর। ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের কোচিংয়ে ২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় ফ্রান্স, চ্যাম্পিয়ন হয় পরের বিশ্বকাপে, ২০২২ আসরে হয় রানার্স আপ। ৫৭ বছর বয়সী কোচের শেষটা হবে এবার তৃতীয় স্থানের লড়াই দিয়ে।