Published : 15 Jul 2026, 11:21 AM
সিনেমার চিত্রনাট্য হাতে পেয়ে সংলাপের সংখ্যা গোণার চেয়ে চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা ও গভীরতাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজটি করতে চূড়ান্ত সম্মতি দেন অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু।
এই অভিনেতার সিনেমা 'মাস্তুল' দেশব্যাপী মুক্তি পাবে শুক্রবার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে হয়েছে সিনেমাটির বিশেষ প্রদর্শনী।
এই সিনেমায় বাবুর কোনো সংলাপ নেই, কিন্তু ভাব-অভিব্যক্তিতেই পর্দায় চরিত্রটি জীবন্ত করে তুলেছেন তিনি। চরিত্রটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমনটাই বলেছেন এই অভিনেতা।
চলচ্চিত্রটির মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে একটি জ্বালানীবাহী তেলের ট্যাংকারের বৃদ্ধ পাচক মকবুল এবং বন্দর এলাকার এক পথশিশু নূরাকে ঘিরে। তাদের মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কের সমীকরণে সিনেমাটিতে উঠে এসেছে নদী ও বন্দরের প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রা, একাকীত্ব, স্নেহ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও বেঁচে থাকার লড়াই।
‘পাচক মকবুল’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাবু৷ সিনেমায় কোনো সংলাপ নেই তার, তবুও এই চরিত্রে যুক্ত হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “সিনেমায় আমাদের কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রী আছে, যারা স্ক্রিপ্ট পেলে কয়টা ডায়ালগ আছে তা মার্ক করে। কিন্তু থিয়েটার থেকে আমরা যারা এসেছি, আমরা কখনো এটা করি নাই। অভিনয় আসলে শুধু সংলাপ না, এটি অ্যাকশন এবং রিঅ্যাকশন।
আমার চরিত্রটির জার্নি বা গ্রাফটা কেমন, সেটাই মূল বিষয়। আমরা সবসময় চেষ্টা করি নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে চরিত্রের মধ্যে ডুবে থাকার।"

'মাস্তুল' সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে এসে দেখার আহ্বান জানিয়েছে বাবু।
তিনি বলেন, "আপনারা সিনেমাটি দেখেছেন, সবাইকে অনুরোধ করব পরিবার নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে এসে সিনেমাটি দেখার। সিনেমাটি দেখে একটা গল্প নিয়ে ফিরবেন।"
সিনেমায় ফজলুর রহমান বাবু ছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন দীপক সুমন, আমিনুর রহমান মুকুল, আরিফ হাসান, সিকদার মুকিত, শাহজাহান শোভন ও সিফাত বন্যাসহ অনেকে।
চলচ্চিত্রটির চরিত্র বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রিমিয়ারে কথা বলেন পরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। তিনি বলেন, "আমার কাস্টিং ফিলোসফি খুবই সিম্পল। আমার কল্পনার চরিত্রটির সাথে সামনে থাকা রক্ত-মাংসের মানুষের অবয়ব যখন মিলে যায়, আমি তাকেই কাস্ট করি। এই সিনেমাতে সবচেয়ে বেশি অডিশন দিতে হয়েছে ‘সুকানি’ চরিত্রটির জন্য।
“অনেক নামী অভিনেতা এই চরিত্রের দৌড়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত আমরা দীপক সুমনকে বেছে নিয়েছি, তার কাজের কোনো তুলনা নেই।"
সিনেমাটি নিয়ে নূরুজ্জামান বলেন, “আমি যে সিনেমা দেখতে চাই, সেটাই বানাতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, এই ধরনের সিনেমা দেখার মত একটি দর্শকশ্রেণি বাংলাদেশে আছে। হয়তো সংখ্যায় খুব বড় নয়, কিন্তু দিন দিন সেই দর্শক বাড়ছে।”
ওই বিশেষ প্রদর্শনীতে দেশের শিল্প-সাহিত্য ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রদর্শনী শেষে চলচ্চিত্রটির মেকিং ও থিম নিয়ে প্রশংসা করেন ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ সিনেমার পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকের।
তিনি বলেন, "পুরো সিনেমাটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। এটি দেখতে অনেকটা প্রামাণ্যচিত্রের মত মনে হলেও এর ভেতরে একটি দারুণ গল্প রয়েছে। বিশেষ করে সিনেমায় যে জীবনযাত্রা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা আমাদের অনেকের কাছেই বেশ অচেনা। এমন একটি ভিন্নধর্মী ও সুন্দর থিম নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচালককে ধন্যবাদ।"
গত বছর মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে ‘স্পেশাল মেনশন’ পুরস্কার পায় ‘মাস্তুল’। এরপর একাধিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার পর এটি ঢাকার দর্শকদের সামনে এলো।
‘সিনেমাকার’ প্রযোজিত এই চলচ্চিত্রের ডিজিটাল ডিস্ট্রিবিউশন ও প্রচারে যুক্ত রয়েছে ‘টঙঘর টকিজ’। সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান, শিল্প নির্দেশনায় হুসনাইন লিঙ্কন।
সংগীতে চৈতন্য রাজবংশী, কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে যুবরাজ শামীম এবং প্রচারের গানের সংগীত পরিচালনায় ছিলেন লাবিক কামাল গৌরব।