Published : 14 Jul 2026, 10:07 PM
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘সুরসম্রাট দি আলাউদ্দীন সঙ্গীতাঙ্গন’ এর জমির মালিকানা নিয়ে ‘দ্বন্দ্বে’ নিম্ন আদালতের দেওয়া রায় বাতিল করেছে আপিল ট্রাইব্যুনাল।
পাশাপাশি মামলাটি পুনরায় বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালের (এলএসটি আপিল ট্রাইব্যুনাল) বিচারক এবং জেলা ও দায়রা জজ আলমগীর মুহাম্মদ ফারুকী এ রায় ঘোষণা করেন।
ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. মাসুম বলেন, “উভয় পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আদালত আপিল মঞ্জুর করেছেন এবং মামলাটি পুনরায় বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে (ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল) পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।”
মামলার বিবরণে বলা হয়, ১৯৫৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুরাতন জেল রোডে সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁর কেনা বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘দি আলাউদ্দীন সঙ্গীতাঙ্গন’। ২০২০ সালে এই প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ৪৯ শতক জমির মধ্যে ৮ শতকের মালিকানা দাবি করে জনৈক হাবিব খাঁসহ ৪ জন আদালতের দ্বারস্থ হন।
হাবিব খাঁ নিজেকে আলাউদ্দীন খাঁর বড় মেয়ে সরোজা বেগমের নাতি দাবি করে ২০২০ সালের ১০ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালে বিএস খতিয়ান সংশোধনের মামলা করেন।
অভিযোগ ওঠে, ব্রহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক পদাধিকার বলে সঙ্গীতাঙ্গনের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির এবং নির্বাহী প্রধান সাধারণ সম্পাদক হলেও, মামলায় তাদের যথাযথভাবে বিবাদী করা হয়নি। পরে ‘একতরফা’ মামলায় ২০২৫ সালের ২৫ মে বাদীপক্ষের অনুকূলে রায় দেওয়া হয়।
ওই রায়ে ৮ শতক জমি বাদীপক্ষের নামে দেখাতে বিএস খতিয়ান সংশোধনের আদেশ জেলা প্রশাসকের কাছে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ অবস্থায় আলাউদ্দীন সঙ্গীতাঙ্গনের সভাপতি হিসেবে তৎকালীন জেলা প্রশাসক দিদারুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ওই রায়ের বিরুদ্ধে ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করেন। দীর্ঘ শুনানির পর মঙ্গলবার আদালত নিম্ন আদালতের আগের রায়টি বাতিল করে পুনঃবিচারের এই আদেশ দিল।
আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম আবিদ বলেন, “আদালতের সুবিবেচনাপ্রসূত এ রায়ে আমরা আনন্দিত। পুনঃবিচারের আদেশের ফলে নিম্ন আদালতের একতরফা রায় রদ হল। এর মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হব যে, নালিশি ভূমিতে প্রতিপক্ষের দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।”
সুরসম্রাট দি আলাউদ্দীন সঙ্গীতাঙ্গন সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বলেন, “এর মাধ্যমে একটি একতরফা রায় বাতিল হল। এই দাবি গোটা ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর এবং রায়ে সেই আইনগত বিষয়টিই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
সঙ্গীতাঙ্গনের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম এবং জেলা উদীচীর উপদেষ্টা সৈয়দ মো. জামালও এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
রায় ঘোষণার সময় আপিলকারীর পক্ষে সরকারি কৌঁসুলি ছাড়াও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মফিজুর রহমান বাবুল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ কে এম আবদুল হাইসহ তিন শতাধিক আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বিবাদীপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ কে মো. শাহাদত হোসেন ও অ্যাডভোকেট আবিদ উল্লাহ।
এদিকে রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁর বংশধর সুরকার শেখ সাদী খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখনও রায়ের বিস্তারিত তিনি শোনেননি। পুরো বিষয়টি জেনে পরবর্তীতে প্রতিক্রিয়া দেবেন।