Published : 24 May 2026, 11:21 AM
ম্যানচেস্টার সিটিকে বদলে দিয়েছেন পেপ গুয়ার্দিওলা। বদলে দিয়েছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগকেও। খেলার ধরন দিয়ে এমন ছাপ রেখেছেন যে, তাকে অনুসরণ করতে চান অনেকেই। তবে তিনি নিজেই চান না তার অনুকরণ হোক বা তার ঘরানার পুনরাবৃত্তি হোক। ম্যানচেস্টার সিটির বিদায়ী কোচের চাওয়া, তার উত্তরসূরী দল পরিচালনা করবেন নিজের মতো করেই।
ম্যানচেস্টার সিটিকে ইংলিশ ফুটবল ও ইউরোপিয়ান ফুটবলের পরাশক্তি করে তোলার নায়ক, ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসের অবিশ্বাস্য সফল এক অধ্যায়ের রচয়িতা গুয়ার্দিওলার গৌরবময় পথচলা থামবে রোববারই। ঘরের মাঠে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে এই ক্লাবে তার ১০ বছরের কোচিং ক্যারিয়ার।
এরপরও এই ক্লাবের সঙ্গে বন্ধন তার ছিন্ন হচ্ছে না। ম্যানচেস্টার সিটির বৈশ্বিক দূত হিসেবে কাজ করবেন ৫৫ বছর বয়সী সাবেক এই ফুটবলার। তবে সেসব তো আসলে কেতাবি পদ। কোচিং ছেড়ে যাওয়া মানে একরকম ক্লাব ছেড়ে যাওয়াই।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিন বছরের চুক্তিতে সিটিতে যোগ দিয়েছিলেন গুয়ার্দিওলা। সাফল্যের স্রোতে সেই মেয়াদ গড়িয়েছে ১০ বছরে। টানা চারটিসহ মোট ছয়টি প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা এসেছে এই সময়ে, ক্লাবের ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফিও ধরা দিয়েছে। গুয়ার্দিওলার ১০ বছরে সিটির ট্রফি কেসে যোগ হয়েছে ২০টি ট্রফি।
সেই অভাবনীয় সাফল্য ধরে রাখার দায়িত্ব পরের কোচের। সংবাদমাধ্যমের যা খরব, তাতে সেই মানুষটি হতে পারে এন্টসো মারেস্কা। সিটিরই সাবেক সহকারী কোচ তিনি, পরে সামলেছেন পার্মা, লেস্টার সিটি ও চেলসিকে। নতুন কোচ কোন পথে এগিয়ে নেবেন সিটিকে, শুরু হয়ে গেছে সেই আলোচনা।
শেষ ম্যাচের আগের দিন এই প্রশ্ন ছুটে গেল গুয়ার্দিওলার দিকেও। উত্তরসূরীর জন্য তিনি পথ দেখিয়েও দিলেন।
“এই ধরনের কাজে কপি-পেস্ট করে লাভ নেই।”
“এখানে হতে হবে স্বতন্ত্র, স্বাভাবিক এবং নিজের মতো। নতুন ম্যানেজারও হবেন তার মতোই। যখনই এটা আরেকজনের নকল হয়ে যাবে... তখন সবাই হয়ে উঠবে সবার মতো। সবাইকে থাকতে হবে নিজের মতো… এমনটাই হতে হবে। সেটি হলেই সবকিছু ভালো হবে।”
সিটিতে যখন কোচিংয়ের এই পালাবদলের প্রস্তুতি চলছে, ক্লাবটি তখন প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে মামলার রায়ের জন্যও অপেক্ষা করছে।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে ১১৫টি অভিযোগ ওঠার পর থেকে গুয়ার্দিওলা বারবার সিটির পক্ষ সমর্থন করে আসছেন। ক্লাব যে শেষ পর্যন্ত অভিযোগমুক্ত হবে, এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই বলে বিদায় বেলায়ও তিনি বললেন।
“কারণ আমি তাদের বিশ্বাস করি!”
“আমি তাদের বিশ্বাস করি। কারণ আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের আচরণ ও কাজের ওপর আমার আস্থা আছে। তাই যা ঘটেছে, তার একটা সমাধান হবে। আমি তাদের বিশ্বাস করি।”
তার কোচিং ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়েও কৌতূহল জাগছে প্রবলভাবেই। শুধু সিটিরই নয়, ফুটবল ইতিহাসেরই সফলতম কোচদের একজন তিনি। বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখেও তিনি পেয়েছেন উপচে পড়া সাফল্য। এমন একজন কোচ নিশ্চয়ই ৫৫ বছর বয়সেই কোচিংকে বিদায় জানাবেন না!
কোনো একটি জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহের কথাও নানা সময়ে বলেছেন গুয়ার্দিওলা। ইংল্যান্ডের কোচ হতে চান কি না, সেই প্রশ্ন সরাসরিই করা হলো তাকে। তিনি একদম উড়িয়ে দেননি সম্ভাবনা। তবে নিকট ভবিষ্যতে সেই সম্ভাবনা নেই বলেও সাফ জানিয়ে দিলেন। আপাতত কোচিং ও ফুটবল থেকে দূরে নিজের মতো করে সময় কাটাতে চান এই স্প্যানিয়ার্ড।
“ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আমার নেই, শুধু বিশ্রাম নেওয়া এবং আমার সন্তানদের বেড়ে ওঠার সময় তাদের সঙ্গে যে সময়টা কাটাতে পারিনি, তা পুষিয়ে নেওয়া ছাড়া। এমন অনেক কাজ আছে, যা আমি এখনও করিনি, সেগুলো করতে চাই।”
“আগামী সময়ের জন্য বা আগামী বছরগুলোর জন্য ফুটবল সম্পর্কিত কোনো কিছু নিয়ে এক মুহূর্তের জন্যও ভাবতে চাই না। আমি এটা নিয়ে ভাবছিই না। আমার বিশ্রাম প্রয়োজন, আত্মবিশ্লেষণ প্রয়োজন। এরপর দেখা যাবে কী হয়। আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই, শুধু বিশ্রাম নেওয়া আর এমন অনেক কাজ করা যা অতীতে করিনি, এমন সব অর্থহীন কাজ, যা আমি করতে চাই।”