উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
Published : 03 Jun 2026, 10:14 PM
হাতে একটা কাগজ, সেখানে কিছু নোটও টুকে এনেছেন পিটার জেমস বাটলার। নেপালকে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে এসে, কথার ফাঁকে সেই কাগজের দিকে তাকাতে থাকলেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচ। কদিন ধরে দলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নানা ঝড়ের কথা বললেন এক-এক করে।
গোয়ায় বুধবার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ২-১ গোলে জিতেছে বাংলাদেশ। তাতে দলের আকাশ থেকেও সরে গেছে মেঘটুকু।
হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ভারতে এসে স্বস্তির শুরু পেয়েছিল বাংলাদেশ। মালদ্বীপের বিপক্ষে পারফরম্যান্স সাদামাটা হলেও জিতেছিল ৪-২ গোলে। এরপর আসে ভারতের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারের ধাক্কা। তা সয়ে ওঠার আগেই দলের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে শিউলি আজিমের মার মৃত্যুর খবরে।
পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূলে চলে গিয়েছিল যে, নেপালের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কোনো অনুশীলনই করতে পারেনি বাংলাদেশ! তাই ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় কোচ বাটলারের কণ্ঠে ঝরল স্বস্তি।
“জানতাম এটা খুব কঠিন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটা ম্যাচ হতে যাচ্ছে। মূলত আবহাওয়ার কারণে, কারণ বেশ গরম এবং আর্দ্রতা ছিল। আমাদের সামনে অনেক সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছিল এবং আমাদের এমনভাবে সেগুলোর মুখোমুখি হতে হয়েছে যেখানে আমরা... আসলে, আমি এটা নোট করে রেখেছি।”
“কিছু সমস্যা আমাদের নিজেদের তৈরি ছিল। কিছু বিষয় ছিল খুবই দুঃখজনক, যেমন আমরা শিউলির (আজিম) মাকে হারিয়েছি; আমি তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। যদি কোনো সান্ত্বনা থেকে থাকে, তবে আমরা এই জয়টি আজিম পরিবারকে উৎসর্গ করছি। তবে হ্যাঁ, আমার মনে হয় আমরা ঝড়টা সামলে নিয়েছি। চোটের সমস্যা ছিল, গত দুদিন আমরা কোনো অনুশীলন করতে পারিনি। কিন্তু আমরা যদি হেরেও যেতাম, তাও আমি এখানে আসতাম এবং সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে নিতাম ও পরিস্থিতির সব দায়িত্ব নিতাম।”
শিউলির মায়ের মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন দল খেলতে নেমেছিল কালো ব্যাজ পরে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মারিয়া-প্রীতিদের শুরুর দিকে খেলা ছিল এলোমেলো। ২২তম মিনিটে পিছিয়ে পড়ে দল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ঋতুপর্না চাকমার গোলে সমতার স্বস্তি ফিরে। কিন্তু তখনও চেনা দাপট ফেরেনি মনিকা-শামসুন্নাহারদের খেলায়।
শেষ দিকে গোলের জন্য নেপালের রক্ষণে মরিয়া হয়ে চাপ দেয় বাংলাদেশ। সেই চাপ সামাল দিতে গিয়ে খেই হারিয়ে যোগ করা সময়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন প্রীতি রায়। তাতে ফাইনাল খেলা নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দৃঢ়তা দেখানো দলকে প্রশংসায় ভাসলেন বাটলার।
“আমি আমার খেলোয়াড়ি ও কোচিং জীবনে ইংল্যান্ডে এবং সারাবিশ্বে এমন অনেক ম্যাচ খেলেছি। আমি যা শিখেছি…সততার সাথেই বলতে পারি, আপনি কেমন খেললেন. সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া এবং শেষ মুহূর্তে এসে খেই হারিয়ে না ফেলা।”
“আপনাকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে, ফলাফল বের করে আনার জন্য লড়াই করতে হবে, আর আজ আমাদের সেই লড়াইটাই করতে হয়েছে। আমাদের মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হয়েছে এবং লড়াই করতে হয়েছে। আমার মনে হয়, মেয়েরা অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়েছে।”