Published : 04 Sep 2025, 01:49 AM
জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে দেশ যখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফেরার পথ খুঁজছে, তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদের ভোট এগিয়ে আসছে, ঠিক তখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা কীসের ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামনে এসেছে সেই প্রশ্ন।
প্রকৌশলের শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউনের’ রেশ না কাটতেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতার পেছনে ‘রাজনৈতিক ইন্ধন’ আছে কিনা, সামনে আসছে সে প্রশ্নও।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান এ অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি আশু সমাধানের আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার।
একজন ছাত্রীকে বাসার নিরাপত্তা প্রহরীর মারধরের ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্শ্ববর্তী জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের জেরে ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন ছাত্র। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা চলছে।

ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে শিক্ষকরা অবরুদ্ধ হলে সেখানে বহিরাগতদের হামলা সংকট সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল।
বুধবার থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস পরীক্ষা শুরু হলেও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ রয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ক্লাস পরীক্ষা শুরুর করা হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ঘিরে এ দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উত্তপ্ত।
প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ভোটার করার দাবিতে ছাত্রদলের আন্দোলন ঘিরে উত্তাপ ছড়ায়। প্রশাসন দাবি মেনে নিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করলেও স্নাতকোত্তরের একটি অংশের শিক্ষার্থীদের দাবি ঘিরে আবার উত্তেজনার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আর ডাকসু নির্বাচন নিয়ে হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ, আপিল বিভাগ থেকে সে আদেশ স্থগিত এবং যে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছিল, সেই রিটের আবেদনকারীকে ‘গণধর্ষণের হুমকি’ দেওয়া নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও অস্থিরতা রয়েছে।
প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পেশাগত দাবি আদায়ের আন্দোলনের পথ ধরে অস্থিরতা শুরু হলেও কর্মসূচি প্রত্যাহার করায় ক্যাম্পাসগুলো শান্ত হয়ে এসেছে।
তবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট কর্তৃপক্ষ ৩০ অগাস্ট থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্নাতক পর্যায়ের বিভিন্ন লেভেল ও টার্মের সব পরীক্ষা স্থগিত করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

২৮ অগাস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ডাক দিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-রুয়েট, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-কুয়েট ও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-চুয়েটে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করেছিল।
গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বতী সরকার দেশের হাল ধরে।
দেশকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফেরানোর লক্ষ্য ধরে রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগের মধ্যে রাস্তার আন্দোলন ও ‘মব’ সন্ত্রাসের মতো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে সরকার।
এছাড়া সংস্কার উদ্যোগ চলার মধ্যে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দ্রুত নির্বাচন দাবি এবং এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনের উত্তেজনা সরকারের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এমন অবস্থায় আগামী ফেব্রুয়ারির প্রধমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে রোডম্যাপও প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে যাচ্ছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন।
এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরি হল।
বিশ্লেষকরা যা বলছেন
প্রায় কাছাকাছি সময় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থির পরিস্থিতির পেছনে ‘রাজনৈতিক ইন্ধনকে’ দায়ী করছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে অস্থিরতার পেছনে অবশ্যই রাজনৈতিক ইন্ধন আছে বলে মনে করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার অধ্যাপক আ-আল মামুন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে অস্থিরতার পেছনে অবশ্যই রাজনৈতিক ইন্ধন আছে। এর একটি হতে পারে, পলাতক ফ্যাসিস্টের পক্ষের লোক দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। অপরদিকে যারা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছে–হতে পারে তারাও এ ইন্ধন যোগাচ্ছে।”
শিক্ষকদের অদক্ষতা ও বিচক্ষণহীনতাকেও দুষছেন অধ্যাপক মামুন।
তিনি বলেন, “শিক্ষকদের কথা তো ছাত্ররা শুনছেন না। শিক্ষকদের সেই ব্যক্তিত্ব এখন নেই। তাদের দৃষ্টিভঙ্গিরও সমস্যা আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিজে যখন তার ছাত্রীকে অকথ্য গালাগাল দিতে পারেন, সাধারণ মানুষ তখন কী করবেন?”
দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থির করতেও ক্যাম্পাসগুলোতে উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছে, এমন শঙ্কা প্রকাশ করে এ শিক্ষক বলেন, “দেশ এখন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তা হলে ভালো। এদিকে ‘ডিপ স্টেট’ ও ভূরাজনৈতিক কারণে দেশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দিকে না গিয়ে একটি অস্থির পরিবেশে চলে যেতে পারে; সে শঙ্কাও আছে।
“দেশ সেদিকে গেলে এ অস্থিরতা আরও বাড়বে। সে কারণেও ক্যাম্পাসগুলোতে অস্থিরতা ছড়ানো হতে পারে।”
কোনো রাজনৈতিক পক্ষ এর পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক মামুন বলেন, “ঢাকা বাদে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আশপাশে জামায়াতপন্থি শিক্ষকরা বাড়ি করেছেন, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা বিয়ে করে সংসার পেতেছেন। তারাইতো এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের গ্রামগুলোতেও একই অবস্থা।
“আমার প্রশ্ন হলো, তারা কেন পরিস্থিতি শান্ত করতে পারল না? তারা কি তাহলে উদ্যোগ নেয়নি? নাকি তারাই এ পরিস্থিতি তৈরিতে ইন্ধন যোগাচ্ছেন–এগুলোও ভেবে দেখতে হবে।”
দেশের স্বার্থকে বড় করে না দেখে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের দলীয় স্বার্থ বড় করে দেখায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে অস্থিরতা বাড়ছে বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান মামুন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অস্থিরতার অনেক কারণ। দলগুলো (বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে) নিজেদের মত খেলছে। পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র মতে, কোনো বড় পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি নাজুক থাকে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করছে না।
“নাজুক পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থের থেকে যখন দলীয় স্বার্থ বড় হয়ে যায় তখন এমন অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অদক্ষতা দেখছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনে গণঅভ্যুত্থানের পর যারা দায়িত্বে এসেছেন তারা রাজনৈতিক বিবেচনায় এসেছেন। তাই যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে রাজনৈতিক মতাদর্শের, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই পক্ষের প্রভাব বেশি। তাই ওই প্রশাসন অস্থির পরিস্থিতি কি নিয়ন্ত্রণ করবেন, তারাতো ওই ক্যাম্পাসে একটি পক্ষ।”
তবে, যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান পাবলিক ইউনিভার্সিটি সিস্টেমের স্কুল অফ সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্লোবাল স্টাডিজের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের শিক্ষক সাঈদ ইফতেখার আহমেদ ক্যাম্পাসে অস্থিরতার সবগুলো ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন দেখছেন না।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাটি দেখে মনে হচ্ছে এর পেছনে বড় কোনো রাজনৈতিক ইন্ধন নেই। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যে চাপা অস্থিরতা আছে তা রাজনৈতিক। আবার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে যা হয়েছে তা পারস্পরিক অসম্মানের বহিঃপ্রকাশ।
“স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিবির খুব সুবিধা করে উঠতে না পারলেও এবারের ডাকসু নির্বাচনে তারা সামনে থেকেই অংশ নিচ্ছে। একটা ‘অ্যান্টি শিবির’ ক্যাম্পাস হিসেবে এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে চাপা অস্বস্তি আছে; যেটা ডাকসু নির্বাচনের পরও যাবে না, ফল যাই হোক।”
সাইদ ইফতেখার বলছেন, “স্বাধীনতা পরবর্তী ৫৪ বছরে ঢাবি ক্যাম্পাসে যে প্রগতিশীলতার চর্চা হয়েছে তার সঙ্গে একটি ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনের আদর্শ সাংঘর্ষিক। সেজন্য আমরা দেখতে পাচ্ছি, যারা জুলাইয়ে শিবিরের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছেন, তারাও এখন শিবিরবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ শিক্ষক বলেন, “এদিকে বাংলাদেশ বৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-বাকৃবিতে যা হয়েছে তা শিক্ষক ছাত্রের মধ্যে একে অপরের প্রতি সম্মানহীনতার বহিঃপ্রকাশ। এখানে হয়তো কোনো একজন শিক্ষক তার নিজ রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাত্রকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছেন, যা বাকিদের কাছে বৈষম্য বলে মনে হয়েছে।
“আবার ছাত্ররা জুলাই অভ্যুত্থানের পর অনেকে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তারাই বসিয়েছেন। তারাও শিক্ষকদের প্রতি সে অর্থে শ্রদ্ধাশীল হচ্ছেন না। এর কারণেই বাকৃবির সংকট সৃষ্টি হয়েছে।”
যা বলছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়
ক্যাম্পাসগুলোতে অস্থিরতার পেছনে কোনো রাজনৈতিক ইন্ধন আছে কি-না সে বিষয়ে মন্তব্য জানতে শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরারের সঙ্গে মঙ্গল ও বুধবার বারবার চেষ্টা করে কথা বলা যায়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।
বুধবার সকালে উপদেষ্টার মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে ক্যাম্পাসগুলোতে অস্থিরতার পেছনে কোনো রাজনৈতিক ইন্ধন আছে কি-না সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এদিন সকাল, দুপুর ও বিকালে ফোনেও পাওয়া যায়নি তাকে।
তবে মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের কাছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় চলা অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করে দ্রুত এর সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার।

তিনি বলেছিলেন, “গত কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় যে কতগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, সেটিতে মন্ত্রণালয় অবহিত রয়েছে। অবশ্যই তার দ্বারা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। সেটাতে আমরা যথেষ্ট রকমভাবে উদ্বিগ্ন।
“আমরা মনে করি, যে কোনো সমস্যাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। সে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেটা সমাধানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশা করি দ্রুত এর সমাধান হবে। বিভিন্ন পার্টি তারা একে অপরকে বুঝে অবস্থান বদলিয়ে সর্বজনগ্রাহ্য একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন এবং যত দ্রুত সেটা হয় ততই মঙ্গলজনক।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, “আশা করি, কোনো সাহায্য সহযোগিতার দরকার হলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তা করা হবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
“আমরা সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যে আপনারা ধৈর্যের সাথে, সহিষ্ণুতার সাথে যেন সমাধানগুলো খুঁজে পাওয়া যায় তার দিকে ধাবিত হওয়া যায়, তার দিকে আহ্বান জানাচ্ছি।”
এই ধরনের পরিস্থিতি কারোর কাম্য নয় বলে মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, “সেটা শিক্ষকরাও চান না, ছাত্ররাও চান না, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চায় না। সে কারণেই আমাদের দিক থেকে আহ্বান দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানগুলো করে ফেলা। এজন্য স্থানীয় কমিউনিটিও কাজ করছে। আমাদের আশা খুব দ্রুত এর সমাধান আসবে।”
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের যথাযথ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে তা নিরসনে সুনির্দিষ্ট কার্যক্রমের প্রস্তাব দিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পুরনো খবর:
ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে অস্থিরতায় 'যথেষ্ট উদ্বিগ্ন' উপদেষ্টা আবরার
রাকসু: প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাব
'গণধর্ষণের হুমকিদাতা' আলী হুসেনকে গ্রেপ্তারের দাবি ঢাবি ছাত্রদলের
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: দিনভর সংঘর্ষে আহত দেড় শতাধিক, আইসিইউতে ২
৬ দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রেলপথ অবরোধ বাকৃবি শিক্ষার্থীদের