Published : 12 Jun 2026, 10:51 PM
ছয় নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় আদ-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করার পর সেখান থেকে পাঠানো রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দিতে রাজধানীর ছয় হাসপাতালকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
শুক্রবার রাতে অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আদ-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এ অবস্থায় ওই হাসপাতাল হতে রেফার করার রোগীকে তাৎক্ষণিক যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হল।
এতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদন থাকার কথাও বলা হয়েছে।

অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় ছয় হাসপাতালের নাম দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালগুলো হল-ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট।
রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা আসে বৃহস্পতিবার বিকালে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এ ঘোষণা দেন।
হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর কী হবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, “যত দ্রুত সম্ভব রোগীদের সরিয়ে ফেলতে হবে। কারণ লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পর আর চিকিৎসা দিতে পারবে না ওই হাসপাতাল।”
ঈদের আগের দিন ২৭ মে সকালে মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছটফট করতে করতে একে একে ছয় নবজাতক মারা যায়।
এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলার’ প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি; দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকা; বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই শিশুগুলোর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ।
গত ৪ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। সেদিনই বিকালে হাসপাতালকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, ৭ জুন বিকাল ৫টার মধ্যে জানাতে বলা হয় নোটিসে। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বুধবার বলেছিলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নোটিসের যে জবাব দিয়েছে তা ‘সন্তোষজনক নয়’।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির রোববার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।
পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যৌথ আলোচনায় এই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রত্যেক পরিবারকে ইতোমধ্যে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ক্ষতিপূরণ ও হাসপাতালের আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বুধবার বলেন, “এ ঘটনায় সরকার আইনজীবী নিয়োগ করে সঠিকভাবে প্রতিবেদন এবং সিদ্ধান্তের বিষয়ে সুপারিশ করবে।”
আরও পড়ুন:
লাইসেন্স বাতিল: আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ছাড়ছেন রোগীরা
ছয় শিশুর মৃত্যু: আদ-দ্বীন কর্তৃপক্ষের জবাব ‘সন্তোষজনক নয়’, বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
৬ নবজাতকের মৃত্যু: প্রতি পরিবারকে ‘৮০ লাখ টাকা দেবে’ আদ-দ্বীন
৬ শিশুর মৃত্যু: আদ-দ্বীনের লাইসেন্স কেন বাতিল হবে না, জানতে চেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
আদ-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যু: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলা’ ছিল, বলছে তদন্ত কমিটি
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ‘অবহেলায়’ ৬ শিশুর মৃত্যু, মামলা করলেন এক বাবা