Published : 07 Jun 2026, 06:42 PM
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যৌথ আলোচনায় এই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির জানিয়েছেন।
রোববার সুপ্রিম কোর্টে নিজ চেম্বারে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি আগে ঘোষিত অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও বহাল থাকবে। প্রত্যেক পরিবারকে ইতোমধ্যে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
কোরবানির ঈদের আগের দিন বুধবার ভোরের দিকে আদ-দ্বীন হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে থাকা ছয় শিশুর সবাই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে তাদের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় দেশব্যাপী ‘গভীর উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভের’ সৃষ্টি হয়।
ওই ঘটনায় গঠিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি; দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকা; বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই শিশুগুলোর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ।
“সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ভিকটিমদের পরিবারবর্গ, চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের বক্তব্য পর্যালোচনা এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় তদন্ত কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গত ২৭ মে ২০২৬ তারিখে ভোর রাত আনুমানিক ৫টা হতে সকাল ৯টার মধ্যে ছয়জন নবজাতকের আকস্মিক মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উক্ত সময়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকা, নার্স/স্টাফ এবং সর্বোপরি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অবহেলাজনিত বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।”
৪ জুন ওই প্রতিবেদন প্রকাশের দিনই আদ-দ্বীন হাসপাতালকে কারণ দর্শাও নোটিস দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় নোটিসে।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শিশির মনির বলেন, ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় শোকজের জবাব দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
“নোটিসের জবাব দিতে ৯ জুন পর্যন্ত সময় চেয়েছে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আইনজীবীকে সামনে রেখে সশরীরে জবাব দিতে চায় তারা।”