Published : 24 Jul 2026, 04:47 PM
বঙ্গভবন ছাড়ার পর মো. সাহাবুদ্দিন যে বাসায় উঠতে পারেন, সেই গুলশানের বাসাটি এখনো সুনসান।
তবে, বিকালে সেখানে টেলিফোনের সংযোগ দিতে এসেছিলেন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) দুই জন কর্মচারী।
শুক্রবার বিকালে গুলশানের ১২৩ নম্বর রোডের ‘গ্রিন ভিলা’ নামে ওই বাসার সামনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে একদমই ফাঁকা। ভেতরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য থাকলেও, বাইরে তেমন কোনো ব্যস্ততা চোখে পড়েনি।
পদত্যাগ করার পর এই বাসার পঞ্চম তলায় রাষ্ট্রপতির ওঠার কথা হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন বাসার নিরাপত্তা প্রহরী মো. মাছুম।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তিন-চারদিন আগে স্যার এসেছিলেন এই বাসায়। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় শতাধিক লোকজন এসেছিল। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে উনি এসেছিলেন, এরপর রাত পৌনে ৯টা নাগাদ উনি এখান থেকে চলে গেছেন।
“ইতোমধ্যে তার বাসায় টুকিটাকি বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে এসবির (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) কয়েকজন লোক রয়েছেন।”
বাসায় টেলিফোন সংযোগ দিতে আসা বিটিসিএলের টিসিএম (টেলিকমিউনিকেশন্স মেকানিক) আব্দুর রাজ্জাক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মূলত সরকারিভাবে আমরা এখানে নতুন টেলিফোন লাইন লাগাতে এসেছি, আমাদের অফিসের বসের নির্দেশে। আজকে যদিও বন্ধ, তবু বলা হয়েছে, উনি পদত্যাগ করলে এ বাসাতেই উঠবেন।

“এর আগের যে লাইন ছিল, সেটি রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই এখন নতুন লাইন লাগাতে এসেছি।”
শুক্রবার বিকালে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন।
পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।”
পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বলে দিছি, বুঝে নেন।”
তার আগে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যে থাইল্যান্ডে ব্যক্তিগত সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সংবাদ সম্মেলনে আসার কথা জানানো হয়।
শুক্রবার বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে তার এই ব্রিফিং হবে বলে সংসদ সচিবালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাষ্ট্রপতির বিষয় নিয়েই এ ব্রিফিং ডাকা হয়েছে।”
চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংককে যান হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই তার ফেরার জন্য ফিরতি টিকিট কাটা ছিল।
কিন্তু এর মধ্যেই বুধবার প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এক ফেইসবুক পোস্ট ঘিরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন শুরু হয়।
রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা এবং তার ঘনিষ্ঠ একজন বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। তবে স্পিকার দেশে না থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে।