১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মোবাইলে আলো জ্বালিয়ে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তারদের রিমান্ড শুনানি

তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেছেন, “৮টা পয়েন্ট পাওয়া গেছে; যার একটাও দেশের স্থিতিশীলতার পক্ষে যায় না।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 19 Sep 2026, 07:20 PM

Updated : 19 Sep 2026, 07:20 PM

লোড শেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে আদালতপাড়াতেও। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে রিমান্ড শুনানি হল ঢাকার তেজগাঁও কলেজ মসজিদ থেকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জনের।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে শনিবার এ দৃশ্য দেখা গেছে।

এদিন সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি নিয়ে আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক আরিফুর রহমান।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), রাম্মি মিয়া (২৯), কামিছুল ইসলাম (৩৬), সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাকিব আহমেদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।

শুক্রবার বিকালে তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদে গোপন বৈঠকের সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শেরেবাংলা নগর থানার জিডি সূত্রে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন সিটিটিসির ইন্সপেক্টর আখতার মোর্শেদ। দুপুরে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় তাদের রাখা হয়।

সাড়ে ৩টার দিকে তাদের হাজতখানা থেকে বের করে এজলাসের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়। ৩টা ৩৪ মিনিটে তাদের এজলাসে তোলা হয়। এজলাসে তোলার মিনিটখানেক আগেই লোড শেডিং শুরু হয়। বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষায় থাকেন সবাই।

৩টা ৪৭ মিনিটের দিকে বিচারক আরিফুর রহমান এজলাসে ওঠেন। তখনো বিদ্যুৎ আসেনি। বিচারকের পাশে প্রসিকিউশন বিভাগের কয়েকজন মোবাইলে আলো জ্বালিয়ে রাখেন।

এরপর রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। ইন্সপেক্টর আখতার মোর্শেদ রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘মিটআপ’ নামে একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। ওই গ্রুপের মাধ্যমে তারা উগ্রবাদী কথাবার্তা ও বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ করতেন এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার।

সিটিটিসির ইন্সপেক্টর আখতার মোর্শেদ বলেন, “তারা নতুন প্রজন্মকে তাদের মতাদর্শে দীক্ষিত করতে চায়। এজন্য তারা জড় হয়েছিল।

“জঙ্গি সংগঠনের আদলে এই সংগঠন। তারা অনেক সদস্য সংগ্রহ করেছে।”

মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন মন্তব্য করে তিনি আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের আর্জি জানান।

রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুল হক দিদার মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে শুনানি করেন।

তিনি বলেন, “দেশ গণতান্ত্রিকভাবে নতুন সম্ভবনার দিকে যাচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশের ইন্ধনে জঙ্গি সংগঠন করছে কি না, পার্শ্ববর্তী দেশ অর্থায়ন করছে কি না তা জানার জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।”

আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাসুদ-উর-রহমান রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন চান।

তিনি বলেন, “কী এমন আলামত পাওয়া গেল যে ৫৪ ধারায় তাদের সাত দিনের রিমান্ড চাইতে হবে? ন্যূনতম কি আলামত পাওয়া গেলে এত দিনের রিমান্ড চাওয়া যায় এবং রিমান্ড পাওয়া যায়?”

এসময় আখতার মোর্শেদ একটি কাগজ আদালতে জমা দেন।

তিনি বলেন, “৮টা পয়েন্ট পাওয়া গেছে; যার একটাও দেশের স্থিতিশীলতার পক্ষে যায় না।”

পরে মাসুদ-উর-রহমান বলেন, “বিরোধিতা করলেই জঙ্গি তকমা দেওয়া হয়। আগের সরকারের বিরুদ্ধেও তারা ফাইট করেছে।”

উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত প্রত্যেক আসামির তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

বিকেল ৪টার দিকে তাদের এজলাস থেকে কারাগারে নেওয়া হয়। তখনো বিদ্যুৎ আসেনি।

পরে কৌঁসুলি আজিজুল হক দিদার বলেন, “বিদ্যুৎ ছিল না। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়।

“বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মোবাইলের আলো দিয়ে আমরা শুনানি করেছি।”