Published : 19 Sep 2026, 05:00 PM
ঢাকার ফার্মগেইট এলাকার তেজগাঁও কলেজ মসজিদ থেকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান শনিবার এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), রাম্মি মিয়া (২৯), কামিছুল ইসলাম (৩৬), সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাকিব আহমেদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।
এদিন সিটিটিসির ইন্সপেক্টর আখতার মোর্শেদ আসামিদের আদালতে হাজির করে শেরেবাংলা নগর থানার জিডি সূত্রে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, উগ্রবাদ ছড়ানো এবং বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন যুবক শনিবার তেজগাঁও কোকাকোলা মোড় এলাকায় সমবেত হয়েছেন। পরে অভিযান চালিয়ে তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘মিটআপ’ নামে একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। ওই গ্রুপের মাধ্যমে তারা উগ্রবাদী কথাবার্তা ও বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ করতেন এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার।
সিটিটিসি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে আগেও উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নরসিংদীর পলাশ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া মারজুক আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিম কার্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং সাইবার তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ, ফেইসবুক, টেলিগ্রাম, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সোশাল মিডিয়ায় তাদের কথোপকথন ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই, ঘটনার পেছনের পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং উগ্রবাদী কার্যক্রমের অর্থের উৎস ও অর্থদাতাদের বিষয়ে তথ্য জানতে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে বলা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে আজিজুল হক দিদার রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাসুদ-উর-রহমান রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আর্জি জানান।
উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত প্রত্যেক আসামির তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।