লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও নারীহত্যার শিকারদের স্মরণে আয়োজিত এক মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে কেপটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থী একটি প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে আছেন।
Published : 19 Sep 2026, 07:07 PM
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের কাছে নয় নারীকে হত্যার পর ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, নারীরা প্রতিদিন যে বিপদের মুখোমুখি হচ্ছেন এসব সহিংসতা তারই প্রতিফলন।
পুলিশ জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলীয় এখুরহুলেনি শহরে দুই মাসে নয় নারীর মৃতদেহ খুঁজে পায়। এই হত্যাকাণ্ডগুলো পরস্পর সম্পর্কিত কি না, পুলিশ তা তদন্ত করে দেখছে।
নিহত নারীদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের দেহে পোশাক ছিল না আর যৌন নির্যাতনের লক্ষণ দেখা গিয়েছিল, জানিয়েছে রয়টার্স।
এই নিহতদের মধ্যে এলিজাবেথ মোসেলাকগমো (৩৮) নামের একজন অ্যাথলেটও আছেন। তিনি দৌড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন আর দুই দিন পর তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। শনিবার এক দৌড় আয়োজনের মাধ্যমে তাকে স্মরণ ও তার প্রতি সম্মান জানানো হয়।
দৌড়ে অংশগ্রহণকারীরা মোমবাতি প্রজ্বলন করেন আর একটি ব্যানার বহন করেন, যেটিতে লেখা ছিল, “যথেষ্ট হয়েছে। নারী হত্যা বন্ধ করুন।”
দৌঁড়ে অংশগ্রহণকারীরা সবাই কালো পোশাক পরে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে একজন, লেরাতো লেন্তসেলা বলেন, “আমাদের এখানে আসার কারণ হল আমরা একজন দৌড়বিদকে হারিয়েছি। কিন্তু আমরা কোনোখানেই নিরাপদ নই।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দৌড়ানোর সময় নিরাপদ নই, আমরা পোস্ট অফিসে নিরাপদ নই, ডেটে গিয়েও আমরা নিরাপদ নই, নিজেদের বাড়িতেও আমরা নিরাপদ নই, উবারেও আমরা নিরাপদ নই।”
এসব হত্যাকাণ্ডের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিয়ে ক্ষোভ আবার উস্কে উঠেছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাকে জাতীয় দুর্যোগ বলে ঘোষণা করা হয়। অনেক নারী বলছেন, বাড়তি মনোযোগ ও সরকারি প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও তাদের নিরাপত্তা বোধের ক্ষেত্রে খুব একটা উন্নতি হয়নি।
লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো দাতব্য প্রতিষ্ঠান উয়িনেনে ম্রওয়েতিয়ানা ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, “যথেষ্ট হয়েছে, আর না। আমাদের নারীদের ভয়হীনভাবে বেঁচে থাকার, হাঁটার, দৌড়ানোর আর অস্তিত্ব বজায় রাখার অধিকার আছে।”
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বৃহস্পতিবার বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা এ ধরনের সহিংসতার সঙ্গে অভ্যস্থ হয়ে উঠা অনুমোদন করতে পারে না। তদন্তের ক্ষেত্রে কোনো প্রচেষ্টাই বাদ রাখা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
কিন্তু দুর্নীতি ও সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশি ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। দেশটিতে প্রতি ১০টি খুনের মধ্যে মাত্র একটির রহস্য কখনো উদ্ঘাটিত হয়।