Published : 19 Sep 2026, 10:47 PM
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হারের দুই মাস পর আসরে দলের সামগ্রিক দিক নিয়ে কথা বললেন লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টিনা কোচের মতে, এবার ফাইনালে ওঠার পথে চার বছর আগে কাতারে শিরোপা জেতা আসরের চেয়েও অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল তাদের। তিনি জানালেন, খেলোয়াড়দের চোট ও ফিটনেসজনিত সমস্যার কারণে কঠিন সব সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল কোচিং স্টাফকে।
এশিয়ান মিডিয়া আউটলেট ‘মিগু’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনেক বিষয় নিয়েই কথা বলেছেন স্কালোনি। ৪৮ বছর বয়সি কোচ জানিয়েছেন, কাতারের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর সময় তাদের খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ ছিল।
“আগের বিশ্বকাপে আমরা অনেক ভালো অবস্থায় গিয়েছিলাম, যেখানে ৯৫ শতাংশ খেলোয়াড়ই তাদের সেরা ফর্মে ছিল; কিন্তু এবার আমরা ঠিক যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই নিয়ে গিয়েছিলাম। পরিস্থিতিটা ছিল ভিন্ন; খেলোয়াড়রা শতভাগ ফিট ছিল না, কিন্তু আমরা তাদের ওপর আস্থা রেখেছিলাম। আগের টুর্নামেন্টের চেয়ে এবার আমাদের অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।
“ছেলেদের কাছ থেকে আমরা কী চাচ্ছিলাম, তারা আমাদের কী বলেছিল- সেই সত্য এবং তাদের ওপর আস্থার ভিত্তিতেই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। গত আট বছরে যারা আমাদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে, তাদের ওপর আস্থা রাখাটা জরুরি ছিল। ফুটবলারের চেয়ে মানুষ হিসেবে তাদের গুরুত্ব বেশি। যারা খেলেছে, তারা সবাই নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই সুযোগ পেয়েছিল।”
গত জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের প্রতিটি ধাপ আর্জেন্টিনা পার করে নাটকীয়ভাবে, খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের কখনও হাল না ছাড়ার মানসিকতার কথা তুলে ধরলেন স্কালোনি।
“মিশর ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচগুলো আমাদের অনেকের জন্যই ছিল দুর্দান্ত; সবাই সেগুলো উপভোগ করেছে। আমরা কখনোই হাল ছাড়িনি, আর এটাই ছিল আমাদের দেওয়া সেরা বার্তা। এই জার্সিটা যে কারও জন্য নয়। তারা সবাই দারুণ খেলোয়াড় এবং একে অপরের সেরাটা বের করে আনে। হয়তো কারও বছরটা খুব ভালো যায়নি, কিন্তু বিশ্বকাপে তারা দুর্দান্ত খেলেছে। তারা একসঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, যা একটা বড় ইতিবাচক দিক; দলের মধ্যে একটা ইতিবাচক শক্তি কাজ করে।”
ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে পুরোটা সময় নিষ্প্রভ ছিল আর্জেন্টিনা দল। তাদের ১-০ গোলে হারের পর ফাইনাল নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথা বলা হয় সামাজিক মাধ্যম। তবে সেসবকে পাত্তা দিচ্ছেন না স্কালোনি।
“আমরা ভ্রাতৃপ্রতিম জাতি। মাত্র তিন-চারজন মানুষ কিছু বললেই যে বিষয়টির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে, তা নয়। এমন অনেক মানুষও ছিল, যারা চেয়েছিল আমরাই জিতি। রানার্সআপ বা দ্বিতীয় স্থান অর্জনের পরও মানুষ উদযাপনের জন্য বাইরে বেরিয়ে এসেছিল। এটাই একটা জয়…আমি আশা করি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এভাবেই এগিয়ে যাবে।”