Published : 19 Sep 2026, 06:47 PM
মিরপুরে এখন নিয়মিতই বোলিং করছেন নাহিদ রানা। অনুশীলন করছেন এশিয়ান গেমসগামী বাংলাদেশ দলের সঙ্গে। যদিও গেমসে গেমসে তিনি থাকছেন না। খেলতে পারবেন না আগামী মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচেও। কবে নাগাদ ফিরতে পারবেন দেশের দ্রুততম বোলার, সেটির একটি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া গেল প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের কাছ থেকে।
এশিয়ান গেমসের বাংলাদেশ দল ঘোষণা করা হয়েছিল আগেই। আগামী মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচের স্কোয়াড প্রকাশ করা হয় শনিবার। নাহিদকে রাখা হয়নি এই দলেও।
দলে না থাকলেও দল বাছাইয়ে ভালোভাবেই বিবেচনায় এসেছে তার নাম। এই ফাস্ট বোলারের ফিট হয়ে ওঠার সম্ভাব্য সময়সীমা, তাতে চাইলে তাকে হয়তো আফগানদের বিপক্ষে টেস্টে নামিয়ে দেওয়া যেত। তবে বিসিবির ভিডিও বার্তায় প্রধান নির্বাচক বললেন, সামনের সময়ের কথা মাথায় রেখে কোনো ঝুঁকি তারা নিতে চাননি।
“নাহিদ রানাকে নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করেছি। তাকে পাওয়া যাবে সামনের মাসের ১০ তারিখ থেকে। কাজেই এই টেস্ট থেকে সে এমনিতেই ছিটকে গেছে।”
সামনের টেস্ট ম্যাচগুলোকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট, এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ, এছাড়া আগামী ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট। এই টেস্ট ম্যাচগুলো আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য নাহিদ রানাকে আমরা সম্ভাব্য সেরা সুযোগ দিতে চাই যেন সে সবগুলো ম্যাচ খেলতে পারে।”
সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের পর সেখানে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজেও অংশ নেবে বাংলাদেশ। সেখানেই নাহিদ ফেরানো হবে নাকি দেশে জাতীয় লিগ দিয়ে তিনি ফিরবেন, নির্বাচকরা আপাতত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার অপেক্ষায় আছেন।
“এই টেস্টে (আফগানদের বিপক্ষে) তাকে আমরা পাচ্ছি না। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে (অক্টেবরের শেষে) দুটি টেস্টে তাকে আমরা চাচ্ছি। আশা করি তখন সে সু্স্থ থাকবে। সেক্ষেত্রে তাকে নিয়ে সম্ভাব্য সেরা পথটা কী হতে পারে, সেটিই নিয়েই আমরা আলাপ করছি।”
“যেহেতু ওয়ানডে সিরিজে তাকে পাওয়া যাবে, সেখানে দুটি ওয়ানডে খেলে সে প্রস্তুতি নেবে কি না, অথবা আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট মৌসুম যেহেতু শুরু হচ্ছে, সেখানে খেলে টেস্ট ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নেবে কি না… যেটা ভালো হবে, সেটাই আমরা করব নাহিদ রানার জন্য।”
গতমাসের অস্ট্রেলিয়া সফরের দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াড থেকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে পরিবর্তন আছে দুটি। বাদ পড়েছেন অমিত হাসান। তার বদলে ফিরেছেন জাকের আলি। বিশ্রাম পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ। ফিরেছেন তাওহিদ হৃদয়।
এই মাসের শুরুতে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ট্রিপল সেঞ্চুরি করা হৃদয়ের টেস্ট দলে ফেরায় বিস্ময়ের কিছু নেই। তেমনি তাসকিনের বিশ্রাম নিয়েও প্রশ্ন নেই।
তবে অমিতের বদলে জাকেরের ফেরা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। অস্ট্রেলিয়া সফরে খেলার সুযোগই পাননি অমিত। না খেলিয়েই তাকে কেন বাইরে ঠেলে দেওয়া হলো, কেন জাকেরকে ফেরানো ছিল জরুরি, সেই ব্যাখ্যা দিলেন প্রধান নির্বাচক।
“অমিত হাসানকে আমরা কিপার-ব্যাটার হিসেবে নিয়েছিলাম, যাকে আমরা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করছি। সে খেলছিল, দলের সঙ্গে ছিল। তবে এই মুহূর্তে আমরা জাকের আলি অনিককে ফিরিয়ে এনেছি। সে আমাদের আগের পছন্দ ছিল। পরে ফর্মের কারণে বাদ পড়ে গিয়েছিল। তার পর তার কাছ থেকে আমরা যে আশা করেছিলাম, সে সেসব ভালোভাবেই পূরণ করতে পেরেছে।
সেটা হলো, ‘এ’ দলের খেলাগুলোয় যখন সে খেলেছে, এছাড়াও অস্ট্রেলিয়া সফরে যখন টেস্ট দলের সঙ্গে গিয়েছে, তখন মনে হয়েছে, সে ফর্ম ফিরে পেয়েছে। তাকে খুব ভালো মনে হয়েছে। আমাদের সামনের যে টেস্ট ম্যাচগুলি আছে, বিশেষ করে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচগুলিতে একটু অভিজ্ঞতার প্রয়োজন এবং পরীক্ষিত ক্রিকেটারদের একটু বেশি প্রয়োজন।”
বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যে ম্যাচে ৩৫০ করেছেন হৃদয়, সেটিতেই ৯৪ রানের ইনিংস খেলেছেন জাকের। গত জুনে সিলেটে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচে ফিফটি করেছিলেন দুই ইনিংসেই।
অমিতের জন্য ভবিষ্যতের আশা দেখিয়ে আপাতত জাকেরের ওপরই ভরসা রাখছেন হাবিবুল।
“অমিত মাত্র শুরু করেছে। অবশ্যই ভবিষ্যতে তার সুযোগ আসবে। তবে এই টেস্ট ম্যাচগুলিতে আমরা আমাদের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, যারা আগে খেলেছে, পারফর্ম করেছে, তাদেরকে নিয়েই চিন্তাভাবনা করছি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, জাকের সেই ফর্ম ফিরে পেয়েছে। দ্বিতীয় কিপার-ব্যাটার হিসেবে আমরা তাকেই বেছে নিয়েছি।”