Published : 15 Jun 2026, 11:09 PM
ময়মনসিংহ শহরে নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল সিন্ডিকেটের কাছ থেকে কিনতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক ব্যাংক কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীসহ কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ ওঠেছে।
শহরের বাইপাস সংলগ্ন ময়নার মোড় এলাকায় এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে ব্যাংক কর্মকর্তা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম জানান।
রোববার দুপুরে মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, শেরপুর জেলার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া জনতা ব্যাংক শাখায় কর্মরত। ২০২৩ সালে তিনি ময়নার মোড় এলাকায় চার শতক জমি ক্রয় করেন। ছয়-সাত মাস আগে পাঁচতলা ভিত্তির উপর বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করেন।
স্থানীয় সাইফুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তি দলবল নিয়ে বাড়ি নির্মাণে ব্যবহৃত মালামাল তাদের কাছ থেকে কেনার প্রস্তাব দেন। তবে, এতে রাজি না হয়ে নজরুল ইসলাম নিজের পছন্দমত মালামাল কিনে বাড়ির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হন সাইফুল ইসলাম। তাদের কাছ থেকে মালামাল না কিনলে বাড়ি নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলে একাধিকবার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, রোববার বিকালে আবারও বাসায় গিয়ে তাদের কাছ থেকে মালামাল নেওয়ার কথা বলা হয়। নজরুল ইসলাম এতে রাজি না হলে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাসুমা হায়াত, তার ভাই আজিজুল ইসলাম এবং প্রতিবেশী ব্যাংক কর্মকর্তা সাকিম আহম্মেদ আহত হন। হামলাকারীরা সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে সাকিম আহম্মেদের মাথায় আঘাত করেন এবং অন্যদের মারধর করেন।
সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে তিনজন ব্যক্তি এসে দাঁড়িয়ে থাকা তিনজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে আরও দুজন এবং অন্যদিক থেকে একজন চাকু নিয়ে দৌড়ে এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। তারা এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এ সময় ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।
ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের স্ত্রী মাসুমা হায়াত বলেন, “আমি একা বাসায় থাকি। কয়দিন পর পরই কয়েকজন করে বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে যায়। রোববার ময়নার মোড়ের সাইড থেকে কতগুলো মানুষ এসে অতর্কিত অবস্থায় মারধর করতে থাকে। আমি থামানোর জন্য গেলে আমাকে মারধর করে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, “আমি ব্যাংক ঋণ নিয়ে বাড়ি করছি। তারা এসে আমাকে বলে যে, চাঁদা দিতে হবে, না হলে কাজ দিতে হবে। আমি মনে করছিলাম, হয়তো হুমকি পর্যন্তই থাকবে। কিন্তু এভাবে আক্রমণের শিকার হব, একজন অফিসার হিসেবে আমি এটা কখনোই কল্পনাও করতে পারিনি। আমি এটার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

হামলায় আহত সাকিম আহম্মেদ বলেন, “রোববার বিকালে আমরা তিনজন দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। তখন ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল আমাকে বলছিলেন, কয়েকজন লোক এসে বলে গেল, তাদেরকে কাজ না দিলে কাজ বন্ধ করে দেবে। এই কথা বলার মুহূর্তে হঠাৎ দেখলাম পাঁচ-সাতজন যুবক দ্রুত দৌড়ে আমাদের দিকে এসে আক্রমণ করে। এক পর্যায়ে একজন আমার মাথায় ওই জায়গায় চাকু দিয়ে আঘাত করে।”
যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই সাইফুল ইসলাম নগরের বলাশপুর কলমিস্ত্রি মোড় এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার সিসিটিভি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সোমবার দুপুরে নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাইফুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, চাঁদা না দেওয়ায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “ব্যাংক কর্মকর্তা বাড়ি নির্মাণসমগ্রী সাইফুল ও তার লোকজনের কাছ থেকে কিনতে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাদেরকে মারধর করছে বলে আমরা সংবাদ পেয়েছি। এ ঘটনায় একটি অভিযোগ থানায় পেয়েছি। ঘটনায় জড়িতদেরকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”