Published : 15 Jun 2026, 08:32 PM
রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই যুবক ড্রোন হামলায় নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
তারা ১৭ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তাকে কেন্দ্র করে ড্রোন হামলায় তাদের নিহত হওয়ার খবর পায় স্বজনরা।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, “নিখোঁজের বিষয়টি জেনেছি। শুনেছি তারা দূতাবাসের মাধ্যমে না গিয়ে স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে বিদেশে গেছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব। ওই দুই যুবকের পরিবার লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নিহতরা হলেন- উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের চরগুজামানিকা চাইলেনিপাড়া গ্রামের বানু মিয়ার ছেলে মাফুল ওরফে মফিজ (২৩) এবং সিধুলী ইউনিয়নের রায়ের ছড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আরিফ হোসাইন (২৭)।
স্বজনদের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে দালাল চক্র তাদেরকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। বিদেশে যাওয়ার পর মাফুল ও আরিফ ফোনে পরিবারকে জানিয়েছিলেন, প্রতিশ্রুতি দেওয়া কাজ না দিয়ে তাদের যুদ্ধের এলাকায় নেওয়া হয়েছে।
মাফুলের মা মাহফুজা বেগম, ৭ মে কাজের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান মাফুল ও আরিফ। মাফুলকে চাঁদপুরের এক দালাল এবং আরিফকে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে সেখানে পাঠানো হয়। তাদের রাজমিস্ত্রি ও ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তবে রাশিয়ায় পৌঁছার পর প্রতারণার মাধ্যমে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় বলে পরিবারের সদস্যদের কাছে অভিযোগ করেন তারা। ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন তিনি।
মাফুলের বোন কণিকা বলেন, “সবশেষ ২৯ মে তাদের সঙ্গে কথা হয়। এরপর থেকে দুইজনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেইসবুকে) ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে খবর পাই, ড্রোন হামলায় আমার ভাই ও আর একজন নিহত হয়েছেন।
“আমার ভাইকে রাজমিস্ত্রির কাজের কথা বলে রাশিয়ায় নেওয়া হয়। পরে জানতে পারি, তাদের সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করা হয়। আমার ভাই ফোনে কাঁদতে কাঁদতে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল। এখন তার মৃত্যুর খবর পাইছি।”
মাফুলের চাচা শাহ মনি সেলিম বলেন, “আমার ভাতিজাকে দালাল রাজমিস্ত্রির কাজের কথা বলেছিল। পরে জানতে পারি তাকে বাধ্য করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। বিদেশে যাওয়ার পর সে আমাদের জানিয়েছিল।”
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরিফের বাবা তারা মিয়া। তিনি বলেন, “ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করানোর কথা বলে আরিফকে রাশিয়ায় নিয়ে যায়। আমিনুর ইসলাম সুজা দালালের মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকা দিয়ে তাকে পাঠাইছি। তবে ২৯ মের পর থেকে তার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ হয়নি।”
দালাল চক্র প্রতারণা করেছে জানিয়ে আরিফের চাচাতো ভাই আনন্দ বলেন, “কাজের কথা বলে তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়েছে। ফেইসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, আরিফ রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন। ভাই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচার চাই।”