Published : 13 Jun 2026, 11:34 AM
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে চট্টগ্রামে পুলিশ পরিচয়ে মারধর ও থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে ফেরার পথে নগরীর লালখান বাজার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরে গভীর রাতে নাঈম হাসানের বাবা, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় যায়। এরপর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় আসেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ক্রিকেটার নাঈম হাসান।
ঘটনার বর্ণনায় তিনি শুক্রবার রাতে বলেন, “আজকে (শুক্রবার) প্রিমিয়ার লিগের খেলা চলছিল। খেলে আসার সময় আমার ফ্লাইট ডিলে হয়েছে। ৯টা ৪০ এর ফ্লাইট ১০টা ২০ এ হয়। এরপর আমি যখন আসলাম এয়ারপোর্টে নেমে সিএনজি নিলাম।
“১১টা ২৫ এর দিকে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের নিচে আমার সিএনজি দাঁড়া করাইছে। আমি বের হয়ে দাঁড়িয়েছি। পরে আমাকে কিছু বলেনি। উনার (অটোরিকশা চালকের) গাড়ির কাগজপত্র নিয়েছে। আমি বলেছি, আপনি ব্যাগ চেক করেন। তখন আমাকে বলছে, ‘তুই গাড়িতে উঠ’। গলা চিপে ধরে আমাকে গাড়িতে তুলে ফেলছে।”

নাঈম হাসান বলেন, “তখন আমি বলি, আপনি আমাকে গলা চিপে ধরে কেন তুলতেছেন? আমি ধাক্কা মেরে বের হয়ে গেছি। এরপর উনি আমাকে গলা চিপে ধরে ওদের গাড়িতে রাখছে। আর ওরা ইচ্ছামত হ্যারাজমেন্ট করতেছিল।
“পুলিশ ছিল দুইজন। আরেকজন একটা সাদা পাঞ্জাবি পরা ছিল। ও কিছু পরিচয় দেয় নাই, মারতেছিল একটা পাইপ দিয়ে। মোবাইল কাড়াকাড়ি করতেছে। পরে আমি আব্বুকে কল দিছি। শুধু আব্বু আব্বু করতেছি। আমার গলা চিপে ধরে রাখছিল।”
ওই পরিস্থিতি দেখে সেখানে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয় জানিয়ে নাঈম হাসান বলেন, “প্রায় এক-দেড়শ মানুষ জড়ো হয়। ওরা সবাই আমার পরিচয় দিয়েছে। তাও ও আমাকে মারছিল ওখানে। বলতেছে, ‘তুই আসামি, তুই কথা বলবি না’। আমি পরিচয় দিছি। আইডি কার্ড দেখাইছি। কিছুই হয়নি।
“ও আমার ব্যাগট্যাগ নিছে। এখানে আনছে। এসে বলতেছে, স্যার আনছি। আমি দাঁড়াইছি, ওসি আমাকে বলতেছে, ‘চোখ নিচে নামাই কথা বল’। পরে উনার মোবাইলে কল আসছে। কল আসার পর যখন বলছে, আমাকে বলতেছে, ‘বস তুমি’।”
নাঈম হাসান বলেন, “গাড়িতে আসার (থানায়) সময় ওসিকে কল দিয়ে বলছে ও (পুলিশ সদস্য)। ওসি বলছে, নিয়ে আসতে এখানে। আমি পরিচয় দিছি। সবাই পরিচয় দিছে।
“আজ পর্যন্ত পুলিশ-আর্মি আমাদেরকে ডাকে। আমি নামি, পরিচয় দিই। চেক করে, ছেড়ে দেয়। এরকম তো ভাই আমার গায়ে হাত দিবে কেন? গলা চিপে ধরে কেমনে তুলবে? পুলিশ যে ছিল, সে লাঠি দিয়ে মেরেছে। সোর্সটা পাইপ দিয়ে মেরেছে।”
ক্রিকেটার নাঈম হাসান বলেন, “আমি সুষ্ঠু বিচার চাই সরকারের কাছে। এটা কোনোভাবে নরমালি নেওয়ার কিছু নাই। আজকে আমার সাথে হয়েছে। কালকে আরেকজনের সাথে হলে ও কার কাছে যাবে?
“ওর জন্য আপনি আসবেন? আসবেন না। এতগুলো মানুষ আসবে? কেউ আসবে না। ওই মানুষগুলো ভুক্তভোগী হবে।”
এরপর কান্নায় ভেঙে পড়েন নাঈম হাসান।

শুরুতে তার মোবাইল ফোন রেখে দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে নাঈম হাসান বলেন, “পরে মোবাইল পাওয়ার সাথে সাথে তামিম ভাইকে (ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্ট)কল দিছিলাম। তামিম ভাই, ইসরাফিল ভাইকে (বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরু) কল দিছিলাম।
“উনাদের সাথে (পুলিশ কর্মকর্তা) কথা বলেছেন। তারপর আমি হসপিটালে গেছি। রিপোর্ট আনছি।”
থানায় উপস্থিত হওয়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “নিশ্চিত করছি, উনি ন্যায়বিচারটা পাবেন। আইনানুগ ব্যবস্থা নেব আমরা, পুলিশ সদস্য যেই হোক না কেন। এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। এটার সাথে পুলিশের ইমেজ জড়িত। এ ধরনের কোনো কিছুই আমরা টলারেট করব না।
“অফিসারদের মাধ্যমে যতটুকু জেনেছি, একটা চোরাচালান সংক্রান্ত কিছু পণ্যের তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে উনারা গিয়েছেন। সেই যাওয়া যথযাথ প্রক্রিয়া মেইনটেইন করে করেছে কি না, সেটা আমরা দেখব। তদন্তে সব ভুলত্রুটি বের করে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিব।”
তিনি বলেন, “মারধর করার তো কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ পুলিশের প্রক্রিয়ায় কাজ করবে। এটাই নিয়ম। কেন আনা হয়েছে, সেটা আমরা তদন্তে বের করব। উপযুক্ত জবাব দিতে না পারলে তার শাস্তি হবে।”
ঘটনার বিষয়ে নাঈম হাসানের বাবা সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুব আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নাঈম খেলা শেষে ঢাকা থেকে ফিরছিল। লালখান বাজার ফ্লাইওভারের নিচে তাকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে কয়েকজন লোক আটকায়।
“যে সিএনজিতে করে নাঈম ফিরছিল, সেই সিএনজিতে তুলেই তাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন স্থানীয় লোকজন তাদের ঘিরে ফেলে। এরপর তারা নাঈমকে খুলশী থানায় নিয়ে আসে। সেখানে পরে পুলিশের ডিসি ও এসি এসেছিলেন। রাতে আমরা এজাহার দিয়েছি। তিনজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বলে শুনেছি।”
এই ঘটনার বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, ডিসি (উত্তর) আমিরুল ইসলাম, এসি (বায়েজিদ বোস্তামি) মো. মারেফুল করিম এবং খুলশী থানার ওসি মো. আরিফুল ইসলামকে ফোন করা হলেও তারা কেউ সাড়া দেননি।