Published : 02 Sep 2025, 03:46 PM
ডাকসু নির্বাচনের এক প্রার্থীকে ‘গণধর্ষণের’ হুমকি দেওয়া শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবির নেতা আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। তারা হুমকিদাতাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক শাস্তির দাবিও তুলেছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসের টিএসসি থেকে মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন তারা।
এসময় তারা ‘এসো ভাই, এসো বোন, গড়ে তুলি অঙ্গীকার’; ‘আলী হুসেনের ছাত্রত্ব, বাতিল করো করতে হবে’, ‘নিপীড়কের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’সহ নানা স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে রোকেয়া হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শ্রাবণী আক্তার বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী অন্য আরেকজন শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে গণধর্ষণের হুমকি দিতে পারে না। রাজনীতিতে নারীদেরকে নিরাপদ করে তুলতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি এস এম ফরহাদের ডাকসু প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রোববার হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন ‘অপরাজেয় ৭১, অদম্য ২৪’ প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থী বি এম ফাহমিদা আলম।
৫ অগাস্টের আগে ফরহাদ ‘ছাত্রলীগের কমিটিতে’ ছিলেন, এর পরও তিনি কীভাবে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের জিএস প্রার্থী হলেন, এমন প্রশ্ন তুলে তার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করা হয় রিট আবেদনে।
সোমবার ওই রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচন স্থগিত করে। ঘণ্টা খানেকের মধ্যে এ আদেশ স্থগিত করে দেয় আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
ফাহমিদাকে নিয়ে সোমবার বিকালে ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আলী হুসেন।
“হাই কোর্টের বিপক্ষে এখন আন্দোলন না করে আগে একে গণধর্ষণের পদযাত্রা করা উচিত। কেউ এসব শব্দচয়ন দেখে সুশীল হইয়েন না, যে একে সাপোর্ট করবে ওপরের কথাটা তার জন্যও প্রযোজ্য।”
এই আলী হুসেনকে শিবির নেতা অভিহিত করে মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এর আগে সোমবার রাতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয় ছাত্রশিবির। ‘অপরাজেয় ৭১, অদম্য ২৪’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী নাইম হাসান হৃদয়ও একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশে শামসুন্নাহার হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক বিথি হাসান বলেন, “রাজনীতিতে নারীরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে। একটা গোষ্ঠী আমাদেরকে আটকে রাখতে চায়।
“ডাকসুতে নারী শিক্ষার্থীরা কম অংশগ্রহণ করেছে। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
ছাত্রদল মনোনীত ডাকসুর জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামীম বলেন, “নারী শিক্ষার্থীদের ভোটদানে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। ইসলামের নাম ধরে একটি সংগঠন নারীদের নিরাপত্তার কথা বলে, অথচ তারাই নারীদেরকে হেনস্তা করে।
“বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসু নির্বাচনকে পেছাতে ফাঁকফোকর রেখেছে। আলী হুসেনের বিরুদ্ধে প্রশাসন এখনো ব্যবস্থা নেয়নি। যারা জাতীয় নির্বাচন ও ডাকসু পেছাতে ষড়যন্ত্র করছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদেরকে লাল কার্ড দেখাবে।”
ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, “৫ অগাস্টের পরে নারীদেরদের পোশাকের স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করেছে একটি গুপ্ত সংগঠন; যারা নিজেদের পরিচয় দিতে লজ্জা পায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে আলী হুসেন নামের একজন শিক্ষার্থী তার সহপাঠীকে ধর্ষণের হুমকি দিয়েছে।
“বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে বিন্দু পরিমাণ ব্যবস্থা নেয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রের কাছে আহ্বান জানাই- আলী হুসেনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করবেন। তাকে অ্যাকাডেমিক শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবেন। আমাদের সুস্থ, সুন্দর, নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়তে হবে।”
বিক্ষোভ শেষে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আলী হুসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সহকারী প্রক্টর মুহাম্মদ মাহবুব কায়সারকে প্রধান করে গঠিত কমিটিতে আরও দুই সহকারী প্রক্টর শেহ্রীন আমিন ভূইয়া এবং মো. রেজাউল করিম সোহাগ সদস্য হিসাব রাখা হয়েছে।