Published : 18 Jul 2026, 11:24 PM
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকা দাবানালের ধোঁয়ার জন্য কানাডাকে দোষারোপ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আর বলেছেন, দূষণ মোকাবেলায় হওয়া ‘ধারণাতীত ব্যয়’ তিনি প্রতিবেশী দেশটির পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে যোগ করবেন।
কানাডায় ছড়িয়ে পড়া শত শত দাবানল থেকে নির্গত ধোঁয়া বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যপশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরপূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিশাল এলাকাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল, এর ফলে ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল।
রয়টার্স জানিয়েছে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক থাকা ট্রাম্প বলেছেন, এই ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ পরিস্থিতি নিয়ে কানাডার নেতা কী করার পরিকল্পনা করছেন তা জানতে তিনি তাকে ফোন করবেন।
নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেছেন, “এ ঘটনার জন্য আমরা কানাডাকে দায়ী করছি কারণ তারা তাদের বনগুলো যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করছে না আর যুক্তরাষ্ট্র অকারণে নোংরা, দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর বায়ুতে আক্রান্ত হচ্ছে।
“এটি একটি ইচ্ছাকৃত অবহেলা আর একটি বার্ষিক ঘটনায় পরিণত হচ্ছে, এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শত শত কোটি ডলার খরচ হচ্ছে। এই দূষণের জন্য হওয়া ব্যয় কানাডার বর্তমানে দেওয়া শুল্কের সঙ্গে অবশ্যই যোগ করতে হবে।”
কানাডার জরুরি ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক সহনশীলতা মন্ত্রী এলিনর অলশেভস্কি জানিয়েছেন, তাদের দেশ ক্রমবর্ধমান শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হওয়ায় তাদের সরকার ২০২০ সাল থেকে বনের স্থায়িত্ব রক্ষা ও দাবানল প্রতিরোধ খাতে ১২০০ কোটি কানাডিয়ান ডলার (৮৫৬ কোটি মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করেছে।
তিনি আরও জানান, সীমান্তের উভয়পাশে দাবানলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার অংশীদারভিত্তিক লড়াইয়ের দীর্ঘ ইতিহাস আছে
এক বিবৃতিতে অলশেভস্কি বলেছেন “এই সময়ে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে কানাডীয়দের সুরক্ষা দেওয়া ও সমাজগুলোকে নিরাপদ রাখা।”
ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে কার্নির দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। নিউ জার্সিতে ফিফা বিশ্ব কাপ ফাইনালে এই দুই নেতার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে কানডায় গাছের গুড়িগুলো আরও শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে আর দাবানলের ঘটনাও বাড়ছে। কানাডায় বিশ্বের অন্যতম কয়েকটি বৃহত্তম বনভূমি আছে।