Published : 28 Jun 2026, 11:51 AM
মহাবিশ্বের অন্ধকার অংশ নিয়ে গবেষণার মধ্যেই সাময়িক পথ বদলে মিল্কি ওয়ের কেন্দ্রস্থলের এক চোখধাঁধানো ছবি তুলেছে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ইউক্লিড স্পেস টেলিস্কোপ।
মহাকাশ সংক্রান্ত খবরের বড় অংশ জুড়ে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ থাকলেও ‘ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি’ বা ইএসএ-এর ইউক্লিড টেলিস্কোপের তোলা ছবির বড় অংশই মহাবিশ্বের অন্ধকার বা অদৃশ্য অংশ নিয়ে কাজ করছে।
এ উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় ছবিটি পাওয়া গেছে ইউক্লিডের সাময়িক পথ পরিবর্তনের মাধ্যমে, যার মূল লক্ষ্য ছিল ‘গ্যালাকটিক বাল্জ’, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভাষায় আমাদের মিল্কি ওয়ে বা ছায়াপথের স্ফীত কেন্দ্রস্থল।
এ ছবিটি কেবল চোখধাঁধানো সুন্দর ছবিই নয়, বরং স্ন্যাপশটটি নাসা’র নতুন এক প্রজেক্টকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দেবে, যা এ গ্রীষ্মের শেষদিকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’ এর পাঁচ বছরের মিশন শুরু করতে যাচ্ছে, যার কাজ হবে এ ‘গ্যালাকটিক বাল্জ’-এ নির্দিষ্ট ছোট অংশে তারা ও অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তুর বিভিন্ন পরিবর্তন ধারণ করা। ফলে, রোমান টেলিস্কোপ ডেটা বা তথ্য সংগ্রহ শুরুর আগেই ইউক্লিডের কাছ থেকে এ অঞ্চলের অতিরিক্ত রেফারেন্স বা প্রেক্ষাপট পেয়ে যাওয়া গবেষকদের এমন কিছু ধারণা দেবে, যা এককভাবে কোনো টেলিস্কোপেরই পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।

নাসার ‘জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি’ বা জেপিএল-এর সিনিয়র রিসার্চ সায়েন্টিস্ট ও ইউক্লিড ও রোমান উভয় প্রজেক্টের মার্কিন দলের সদস্য জেসন রোডস বলেছেন, “রোমান টেলিস্কোপের আগামী দিনের জরিপের সঙ্গে ইউক্লিডের এ স্ন্যাপশটটি যোগ করা আমাদের ছায়াপথের আরও নিখুঁত মানচিত্র তৈরি করতে সাহায্য করবে।
“ফলে মহাবিশ্বের দুর্লভ কিছু রত্ন, যেমন বিচ্ছিন্ন ব্ল্যাক হোল ও ভাসমান গ্রহ বা বর্হিগ্রহ খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।”
সম্প্রতি এক গবেষণায় গ্যালাকটিক বাল্জের প্রাচীন বা জীবাশ্ম অবশিষ্টাংশ শনাক্ত করা হয়েছিল এবং গবেষকরা বলেছিলেন, ছায়াপথের এ দুর্গম অংশটি নিয়ে পড়াশোনা বা গবেষণার ক্ষেত্রে এ অনুসন্ধান নতুন ধারণা দিয়েছে।
ইউক্লিডের এ ছবিটি দেখার পর এখন আরও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, এ স্ফীত কেন্দ্রে ঠিক কতটা বিপুল সংখ্যায় তারার মেলা রয়েছে।
‘ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি’র ‘জডরেল ব্যাংক সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স’-এ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. ইমন কেরিন্স ইউক্লিড টেলিস্কোপ সম্পর্কে বলেছেন, “এ ধরনের বৈজ্ঞানিক তথ্য বহির্গ্রহ আবিষ্কারের ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে।
“ফলে আমরা ছায়াপথে থাকা প্রায় ৬ হাজারটি বহির্গ্রহ সম্পর্কে জানার গণ্ডি পেরিয়ে এক লাফে ১ লাখেরও বেশি নতুন গ্রহ খুঁজে পাওয়ার দিকে এগিয়ে যাব।”
মহাবিশ্বের সবচেয়ে নিখুঁত ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি এবং সেটিকে রূপ দেওয়া রহস্যময় অন্ধকার শক্তিগুলোর ওপর নজর দেওয়ার লক্ষ্যে ২০২৩ সালে ১০০ কোটি ইউরোর ইউক্লিড টেলিস্কোপটি মহাকাশে উৎক্ষেপিত হয়েছিল।