Published : 25 Jul 2023, 10:32 PM
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. বুলবুল আহমেদকে খুন করার এক বছরেও শিক্ষার্থীদের চার দফা সব দাবি পূরণ হয়নি।
মঙ্গলবার এই হত্যাকাণ্ডের এক বছর হলেও তার পরিবার এখনও শোকে মূহ্যমান।
বুলবুল আহমেদের বড় বোন সোহাগী আক্তার বলেন, “আমার মা প্রতিদিনই চোখের পানি ফেলেন। ছেলের শোকে গভীর রাতে হঠাৎ আঁতকে উঠেন। ভাইটা আমার কত আদরের ছিল!”
“কিন্তু তার প্রিয় ক্যাম্পাস তাকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। পরিবারের আনন্দটাই মরে গেছে…”, কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন তিনি।
গত বছরের ২৫ জুলাই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের টিলায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদ।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। ২৫ জুলাই সন্ধ্যার ৭টার দিকে ক্যাম্পাসের নিউ জিল্যান্ড টিলায় বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এর প্রায় আধাঘণ্টা পর তিনজন ছিনতাইকারী বুলবুলকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বুলবুলের বোনের অভিযোগ, তার পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ওই ঘটনার হালনাগাদ তথ্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ যে কোনো ব্যক্তিকে ফোন দিলে বুলবুলের পরিবারের মোবাইল নম্বর ব্লক করে রাখেন সংশ্লিষ্টরা; কেউই কথা বলতে চান না।
এদিকে বুলবুল খুনের ঘটনায় ওই সময়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে চার দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছিলেন লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
চার দফা দাবি ছিল, বুলবুল হত্যায় গ্রেপ্তার হওয়া খুনিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করা; নিহতের পরিবারকে এককালীন অথবা মাসিক ভিত্তিতে ৫০ লাখ টাকা প্রদান ও তার পরিবারের একজন সদস্যের চাকরি নিশ্চিত করা; ক্যাম্পাসের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, বুলবুল চত্বর ও হত্যা দিবস ঘোষণা করা।
ওই স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করা লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম আকাশ বলেন, “কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও অধিকাংশ দাবি অপূরণীয় রয়ে গেছে। আসামি গ্রেপ্তার হলেও তাদের এখন পর্যন্ত শাস্তি কার্যকর হয়নি, শুধু নিরাপত্তার স্বার্থে টিলায় নিরাপত্তা প্রহরী বাড়ানো হয়েছে। বাকি দাবিগুলোর একটিও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।”
এ ছাড়া এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা শঙ্কা রয়েছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
তাদের অভিযোগ, মাঝে মধ্যেই ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। বহিরাগতদের দ্বারা হামলার শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ নিরাপত্তাকর্মীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি ওসমান গনি বলেন, “এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আবশ্যকীয়। কিন্তু লক্ষ্য করা যায় প্রশাসন বারবার নিরাপত্তার কথা বললেও তারা তা করতে ব্যর্থ। ফলে প্রায়ই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরেই চুরি, ছিনতাই ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
তিনি আরও বলে, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। গত বছর বুলবুল হত্যার মধ্যে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্বরূপ উন্মোচন হয়েছে। এখনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হয়নি।”
এদিকে বুলবুল হত্যা মামলা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. ফজলুর রহমান।
শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ না হওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের মোবাইলে ফোন দিলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি জানান, তিনি এয়ারপোর্টে আছেন। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়ে প্রক্টর কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য আমাদের তৎপরতা চলমান রয়েছে।”
আরও পড়ুন:
শাবিতে বুলবুল খুন: সহপাঠীদের চার দাবি
শাবি শিক্ষার্থী বুলবুলের শরীরে ৩ আঘাতের চিহ্ন: চিকিৎসক
শাবিতে বুলবুল খুনের দুদিনের মাথায় আদালতে জবানবন্দি
বুলবুল হত্যার ঘটনায় শাবিতে ছাত্রলীগের শোক শোভাযাত্রা
বুলবুলের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা, সহপাঠীদের বিক্ষোভ
শাবির বুলবুল হত্যার পেছনে ছিনতাই: পুলিশ
শাবি শিক্ষার্থী বুলবুল হত্যায় আটক আরও ৩
শাবির বুলবুলের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম
বুলবুলের খুনিদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার ‘আল্টিমেটাম’ শাবি শিক্ষার্থীদের
শাবি শিক্ষার্থী খুন: আশ্বাসে সড়ক ছাড়ল সহপাঠীরা, মামলা দায়ের