Published : 04 Mar 2024, 08:19 PM
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর উঠান বৈঠকে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাক্কুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার খবর পাওয়া গেছে; এসব ঘটনায় সাক্কুর অন্তত সাত কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন।
সোমবার বিকালে নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন চৌধুরীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন দুইবারের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু।
একই সময়ে নগরীর রেইসকোর্স এলাকায় ‘রেড রুফ ইন’ নামক সাক্কুর হোটেল ও রেস্টুরেন্টে হামলার ঘটনা ঘটে।
বাস প্রতীকের প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাহসিন বাহার সূচনার নেতাকর্মীরা হাতবোমা বিস্ফোরণ ও হামলায় জড়িত বলে দাবি সাক্কুর।
হামলায় আহতদের মধ্যে চারজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- সাক্কুর কর্মী মোহাম্মদ ফারুক, রুহুল আমিন সরকার, কবির হোসেন, মোহাম্মদ নাসির।
এর আগে শুক্রবার বিকালে নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গদারমার কলোনিতে টেবিল ঘড়ির উঠান বৈঠকে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।
সোমবার সন্ধ্যায় মনিরুল হক সাক্কু বলেন, “সোমবার বিকালে উঠান বৈঠক চলাকালে হঠাৎ সাত থেকে আটটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনজন আহত হয়। একই সময়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। সেখানে চারজনকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।
“এর আগেও আমার উঠান বৈঠকে হামলা চালিয়ে চেয়ার ও মঞ্চ ভাঙচুর করেছে বাস প্রতীকের প্রার্থীর নেতাকর্মীরা। আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এসেছি এ ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ জানাতে।”
সাক্কু বলেন, “বিভিন্ন স্থানে টেবিল ঘড়ির কর্মীদের ওপর হামলার পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে ভয় দেখানো হচ্ছে। সারা শহরে আমার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। পোস্টার লাগালে তা গায়েব করে দেওয়া হচ্ছে।
“চারদিকে আমার গণজোয়ার দেখে তাদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। এজন্য সন্ত্রাস করে বিজয়ী হতে চাইছে। আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে এসব বিষয়ে কঠোর হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
এ সব বিষয়ে জানতে বাস প্রতীকের প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাহসিন বাহার সূচনার মোবাইল ফোনে কল করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে সূচনার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ খোকন এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সন্ধ্যায় আতিক উল্লাহ খোকন বলেন, “কারা এসব ঘটনা ঘটিয়েছে আমরা জানি না। নিশ্চয়ই প্রশাসন প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। অযথা আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে। তাদের কাজই সারাদিন মিথ্যা অভিযোগ করা।”
হামলার ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন।
৯ মার্চ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএমে) মাধ্যমে কুমিল্লা সিটিতে মেয়র পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি। তবে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দুজন নেতা এবং বিএনপির সাবেক দুজন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।
আরও পড়ুন:
কুমিল্লা সিটি ভোট: সাক্কুর উঠান বৈঠকে হামলা-ভাঙচুর
কুমিল্লা সিটির উপনির্বাচন: কায়সারকে কারণ দর্শানোর নোটিস
‘পরিবর্তনের ইতিহাস রচনা’ করতে চান কায়সার-তানিম
‘নতুন অধ্যায়’ গড়তে চান সূচনা, আরেকবার সুযোগ চান সাক্কু
কুমিল্লা সিটির উপনির্বাচন: প্রতীক নিয়ে মাঠে চার প্রার্থী
কুমিল্লা সিটি উপনির্বাচন: সূচনা ছাড়া সবারই অভিযোগ
২০০৮ সালের পর কারা জমি কিনেছেন সেই তালিকা দেখুন: সাক্কুর স্ত্রী