শৈলকুপার সেই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫

বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালে এই ইউনিয়নে ছয়জন খুন হয়।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 Oct 2023, 02:33 PM
Updated : 26 Oct 2023, 02:33 PM

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার নবগ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে সহকারী পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) অমিত কুমার বর্মন জানান।

আহতদের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সারুটিয়া ইউনিয়নে গ্রামে গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায়ই মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালে এই ইউনিয়নে ছয়জন খুন হয়। বহু বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। তখন বহু মানুষ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সারুটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষে রয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান। অপরপক্ষে রয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জুলফিকার কায়সার টিপু। ওয়ার্ড পর্যায়েও তাদের সমর্থক রয়েছে।   

টিপুর সমর্থক আহত কিরান মণ্ডল (কেরামত) বলেন, তাদের কয়েকজন সমর্থক কিছুদিন আগে প্রতিপক্ষ মান্নানের পক্ষে চলে যায়। পরে তারা আবার টিপুর পক্ষে চলে আসে। এ নিয়ে মান্নান মেম্বার ক্ষুব্ধ হয়, শত্রুতা বাড়ে।

“মান্নান মেম্বারের লোকজন আমার জমির ওপর দিয়ে চলাচল করে। এতে আমি বাধা দেই। তখন মান্নান মেম্বারের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়।

কিরান মণ্ডল বলেন, “পরে দুপক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তারা বাড়িঘরেও হামলা চালায়। আমাদের সাতজন আহত হয়েছে।”

অপরদিকে মান্নান মেম্বারের সমর্থক আহত উজ্জ্বল হোসেন বলেন, তারা গরিব মানুষ। সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক। এতদিন কিরান মণ্ডলের জমির ওপর দিয়ে যাতায়াত করে আসছেন। এখন পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে।

মান্নান মেম্বারের চার সমর্থক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আরও পাঁচজন বাড়িতে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সহকারী পুলিশ সুপার অমিত কুমার বর্মন বলেন, “পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। গ্রামে পুলিশ মোতায়েন আছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় মামলা দেয়নি।

তবে এ ব্যাপারে চেষ্টা করেও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান ও জুলফিকার কায়সার টিপুর সঙ্গে কথা বলা যায়নি।