১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অবন্তিকার মৃত্যু: সহপাঠী আম্মানের জামিন নামঞ্জুর

“তাই আমরা আদালতকে এ বিষয়টি বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, ন্যায় বিচারের স্বার্থে আম্মানকে যেন জামিন দেওয়া না হয়।“

কুমিল্লা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Mar 2024, 05:54 PM

Updated : 24 Mar 2024, 06:17 PM

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তার সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত।

রোববার দুপুরে আম্মানের পক্ষে তার আইনজীবী জামিন আবেদন করলে কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মো. আবু বকর সিদ্দিক তা নামঞ্জুর করেন।

এর আগে দুইদিনের রিমান্ড শেষে বুধবার আম্মানকে একই আদালতে হাজির করে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তখনও জামিন নামঞ্জুর না করে তাকে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিল।

বাদী পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ নুরুর রহমান বলেন, অবন্তিকার আত্মহত্যার বিষয়টি একটি স্পর্শকাতর মামলা। তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আম্মান এ মামলার প্রধান আসামি। সে জামিনে বের হলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রভাবিত করার চেষ্টাসহ মামলার সাক্ষীদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

“তাই আমরা আদালতকে এ বিষয়টি বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, ন্যায় বিচারের স্বার্থে আম্মানকে যেন জামিন দেওয়া না হয়। আদালত তা বিবেচনায় নিয়ে জামিন নামঞ্জুর করেছে।”

আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. আবু তাহের বলছেন, “আম্মান এখনও তদন্তে অপরাধী প্রমাণিত হয়নি। জামিন তার অধিকার। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। জামিন পেয়ে তো আর সে পালিয়ে যাবে না। আমরা বিধি মোতাবেক আবারও জামিন চাইব।”

কুমিল্লা সরকারি কলেজের সাবেক শিক্ষক প্রয়াত অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের মেয়ে অবন্তিকা শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও ‘পিসি পার্ক স্মরণিকা’ নামের ১০ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার বাসায় গলায় রশি বেঁধে ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।

মৃত্যুর ১০ মিনিট আগে নিজের ফেইসবুকে এক পোস্টে তিনি এ ঘটনার জন্য সহপাঠী আম্মানকে দায়ী করেছেন।একইসঙ্গে সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকেও এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন।

ফেইসবুক পোস্টে অবন্তিকা লেখেন, “আমি যদি কখনও সুইসাইড করে মারা যাই তবে আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র দায়ী থাকবে আমার ক্লাসমেট আম্মান সিদ্দিকী, আর তার সহকারী হিসেবে তার সাথে ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে তাকে সাপোর্টকারী জগন্নাথের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম।”

অবন্তিকার মৃত্যুর খবর ক্যাম্পাসে আসার পর তার সহপাঠীসহ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।পরদিন সকালে আম্মানকে বহিষ্কার ও দ্বীন ইসলামকে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে সাময়িক বরখাস্ত হন দ্বীন।

এদিন বেলা ৩টার দিকে ক্যাম্পাসের শান্ত চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। সেটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকা ঘুরে ফের শান্ত চত্বরে এসে সমাবেশে রূপ নেয়। পরে সেখান থেকে ওই দুইজনকে গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল।

অবন্তিকার মা তাহমিনা বেগম শবনম ১৬ মার্চ রাতে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম ব্যাচের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আম্মান সিদ্দিকীকে আসামি করে মামলা করেন।

ডিএমপি পুলিশ এ মামলায় ওই দুইজনকে ১৬ মার্চ রাতে আটকের পর ১৭ মার্চ কুমিল্লা জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরদিন এ মামলায় সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামের একদিন ও সহপাঠী আম্মানের দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। বর্তমানে দুই আসামি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

পুরানো খবর:

অবন্তিকার মৃত্যু: সহপাঠী, শিক্ষককে গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

পুরানো খবর:

চিরনিদ্রায় বাবাকে পাশে পেলেন অবন্তিকা

পুরানো খবর:

কার কাছে বিচার দেব, অবন্তিকার মায়ের বিলাপ

পুরানো খবর:

অবন্তিকার পরিবার মামলা করলে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ: জবি

পুরানো খবর:

শিক্ষক-সহপাঠীকে ‘দায়ী করে’ জগন্নাথ ছাত্রীর আত্মহত্যা