সমাবেশের আগের রাতে পূর্ণ সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ

মাঠের বাইরেও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নগরীর বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থান নেন শুক্রবার রাতে।  

বাপ্পা মৈত্রসিলেট প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Nov 2022, 05:50 PM
Updated : 18 Nov 2022, 05:50 PM

বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের স্থান সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ আগের রাতেই পূর্ণ হয়ে গেছে। 

শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যই বিভিন্ন স্থান থেকে নেতা-কর্মীদের খণ্ড খণ্ড মিছিল আসতে শুরু করে, যা রাতেও অব্যাহত থাকে। 

সিলেট নগরী মিছিলের শহরে পরিণত হয়েছে। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের আশপাশে চলে মোটাসাইকেল শোভাযাত্রা। আগত নেতা-কর্মীদের বেশিরভাগই রাত কাটাবেন মাঠের মধ্যে তৈরি তাঁবুগুলোতে; বাকিরা নগরীর বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারে। 

শনিবার দুপুরে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির সপ্তম বিভাগীয় গণসমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে। 

সমাবেশের আগে পরিবহন ধর্মঘটের শঙ্কায় বিভাগের অন্য তিন জেলা মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামঞ্জ থেকে নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে সিলেটের উদ্দেশে আসতে থাকেন। এক্ষেত্রে তারা নৌকা, বাস, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনও ব্যবহার করেন। সুনামগঞ্জ থেকে দুদিন আগে নেতা-কর্মীরা নৌকায় যাত্রা করেন।     

রাতে মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতা-কর্মীরা উৎসবমুখর পরিবেশে খণ্ড খণ্ড মিছিল করছেন। কেউ কেউ গল্পগুজবে মশগুল রয়েছেন। 

রাতে তারা মাঠেই থাকবেন। খাবারের ব্যবস্থাও হয়েছে এখানে। দুপুরে অন্তত ১০ হাজারের খাবারের ব্যবস্থা হয় মাঠে। 

মাঠের বাইরেও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নগরীর বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থান নেন শুক্রবার রাতে।   

শুক্রবার রাত ৯টায় সিলেট নগরীর সোবাহানীঘাট এলাকায় আগ্রা কমিউনিটি সেন্টারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের জন্য রান্না হচ্ছে। খাবার টেবিলে বসে রয়েছেন কয়েকজন নেতা-কর্মী। 

এ সময় রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের ৫ নম্বর কানিশাইল ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মনাফ মিয়া বলেন, তাদের উপজেলা থেকে আসা ৫ হাজার নেতা-কর্মীর জন্য রান্না চলছে। রান্না করা খাবার মাঠেও হচ্ছে। অনেক নেতা-কর্মী আবার সেন্টারে এসে খাবেন। তারপর বসে গল্প করবেন; এভাবে তাদের রাত কাটবে। 

“গণপরিবহন বন্ধ থাকায় আমরা ভেঙে ভেঙে বা কোথাও কোথাও পায়ে হেঁটে এসছি। শনিবার গাড়ি না পেলে হেঁটে বাড়িতে চলে যাব আমরা।”   

নগরীর ধোপাদিঘীরপাড়ে অবস্থিত ইউনাইটেড কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আবুল কাহের শমীম নেতা-কর্মীদের নিয়ে গল্প করছেন। 

সেন্টারে বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের জন্য রান্না হচ্ছে। 

তিনি বলেন, “রাতে এক হাজার লোকের জন্য রান্না করা হয়েছে। এখানে বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের নেতা-কর্মীরা খাবেন-থাকবেন। পথে পথে আমাদের নেতা-কর্মীদের বাধা দেওয়া হয়েছে। অনেক নেতা-কর্মী পায়ে হেঁটে এসেছেন। আমাদের মাঠ বর্তমানে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে আছে।”        

বিকালে সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকশ মোটরসাইকেল নিয়ে মিছিল সহকারে মাঠে আসেন নেতাকর্মীরা। 

এ সময় মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “ধর্মঘট দিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ঘরে আটকে রাখা যায়নি। আজকে আমার সাথেই ছাতক থেকে প্রায় ১০ হাজার নেতা-কর্মী সমাবেশে এসেছেন। কাল সকালে আরও অনেকে আসবেন।” 

এদিকে, শুক্রবার রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেট এসে পৌঁছেছেন।     

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সিলেট এসে পৌঁছেছেন। রাত ১১টার পর তিনি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে গিয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেছেন। রাতে মাঠে অবস্থান করবেন না। 

কিন্তু জেলা ও মহানগর নেতারা রাতে মাঠে থাকবেন বলে তিনি জানান।

মির্জা ফখরুলের সঙ্গে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জীবন, চেয়ারপারসনের উপচেষ্টা এনামুল হক ও খন্দকার মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।  

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ নানা দাবিতে দলটি আট বিভাগ ও দুই সাংগঠনিক বিভাগে সমাবেশ করছে।  

ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও ফরিদপুরে (সাংগঠনিক বিভাগ) সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ময়মনসিংহ ছাড়া আর সব সমাবেশের সময় পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল। ময়মনসিংহে ধর্মঘট না থাকলেও যান চলাচল করেনি।

সিলেটের সমাবেশের আগে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক