তরুণীর সঙ্গে আপত্তির ভিডিও: ‘এমপি আজিজের ব্যাপারে কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেবে’
দিনভর সভা শেষে নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ এ কথা বলেন।
এক তরুণীর সঙ্গে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে কেন্দ্রই সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির এক নেতা।
শুক্রবার দিনভর সভা শেষে নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, “সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ সাহেবের ভিডিওটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এটা নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করেছি সভায়। আমরা গঠনতন্ত্র নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি, গঠনতন্ত্রে ৫ এর গ ধারায় বহিষ্কারের যে বিষয়টি আছে, আমরা জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটি একজন যুগ্ম আহ্বায়কে কোনো অবস্থাতেই বহিস্কার করতে পারি না। বহিস্কারের আগে কেন্দ্রে অবহিত করতে হবে।
“আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তার যে বিষয়গুলো আমরা দেখেছি, এগুলো আমরা লিপিবদ্ধভাবে এবং মৌখিকভাবে কেন্দ্রকে অবহিত করবো। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে, আমরা আপনাদের জানিয়ে দিবো। আজকের সভায় আব্দুল আজিজ সম্বন্ধে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
গুরুদাসপুরের পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল আহমেদ হত্যা, সেই মামলায় সংসদ সদস্যের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের মধ্যে বুধবার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে আব্দুল আজিজকে খালি গায়ে একজন তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর কথাবার্তা বলতে দেখা যায়।
গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম আসনের এই সংসদ সদস্য এসব ভিডিওকে ‘বানোয়াট এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ষড়যন্ত্রের অংশ’ বলে দাবি করেছেন।
ভিডিওটির সত্যতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে ভিডিওটি তার নির্বাচনি এলাকায় বেশ আলোচনায় জন্ম দিয়েছে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা বিএনপির সভা বসে। আব্দুল আজিজ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক।
সভার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, “ছাত্রনেতা শাকিল হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করা হয়েছে এবং প্রশাসনের উপরের আমরা চাপ সৃষ্টি করেছি। আজকেও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজকের সভায় শাকিলের বিচারের দাবিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।
“শাকিলকে যারা হত্যা করেছে, তারা কে, কার সন্তান- সেটা দেখার বিষয় নয়। অপরাধের বিচার করতে হবে। আমরা সেখানে কোনো জাত-কূল দেখি নাই।”
পুলিশ জানায়, ১৪ অক্টোবর রাতে হেলমেট পরে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি চাঁচকৈড় বাজারপাড়া সড়কে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছে গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল আহমেদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দুটি গুলি করা হয়।
পালানোর সময় শহিদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে শাকিলকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।
অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পিজি হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১২ দিন পর সোমবার অক্টোবর না ফেরার দেশে চলে যান শাকিল।
এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়। পরে সেই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
মঙ্গলবার রাতে শাকিলের মরদেহ ঢাকা থেকে গুরুদাসপুর বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাযার জন্য আনা হয়। এতে বিএনপির নেতাকর্মীসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন।
জানাযায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বক্তব্য শুরু করলে মানুষ ক্ষোভ জানাতে থাকেন। এর মধ্যেই শাকিলের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার কথা করেন সংসদ সদস্য। তখন মানুষ ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে চিৎকার করেন।
সোমবার রাতে সংসদ সদস্যের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে মঙ্গলবার তাকে হত্যায় মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
