তরুণীর সঙ্গে ভিডিও: ‘ষড়যন্ত্র’ বলছেন নাটোরের এমপি আজিজ
সংসদ সদস্য এসব ভিডিওকে ‘বানোয়াট এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ষড়যন্ত্রের অংশ’ বলে দাবি করেছেন।
গুরুদাসপুরের ছাত্রদল নেতা শাকিল আহমেদ হত্যা নিয়ে প্রবল আলোচনার মধ্যে এক তরুণীর সঙ্গে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।
ভিডিওতে আব্দুল আজিজকে খালি গায়ে একজন তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর কথাবার্তা বলতে দেখা যায়।
গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম আসনের এই সংসদ সদস্য এসব ভিডিওকে ‘বানোয়াট এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ষড়যন্ত্রের অংশ’ বলে দাবি করেছেন।
এসব ভিডিও এমন একটি সময়ে ছড়িয়েছে যখন সংসদ সদস্যের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টু ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা মামলায় রিমান্ডে রয়েছেন।
ভিডিওটির সত্যতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে ভিডিওটি তার নির্বাচনি এলাকায় বেশ আলোচনায় জন্ম দিয়েছে।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বুধবার রাতে বলেন, “এগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট। আমার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য একটি পক্ষ উঠেপড়ে লেগেছে। ইন্টারনেটের যুগে নানা ঘটনা নানাভাবেই তুলে ধরা যেতে পারে। আমার সুনাম ও সুখ্যাতি নষ্ট করার জন্য এই কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।”
তিনি বলেন, ছাত্রদল নেতা শাকিল আহমেদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি এমনিতেই বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে এ ধরনের ভিডিও ছড়িয়ে তাকে আরও বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান সংসদ সদস্য।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে, আগামী শুক্রবার জেলা বিএনপির জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। যেখানে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
“অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংসদ সদস্য হওয়ায় বিষয়টি বিএনপির হাইকমান্ডকেও জানানো হবে।”
পুলিশ জানায়, ১৪ অক্টোবর রাতে হেলমেট পরে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি চাঁচকৈড় বাজারপাড়া সড়কে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছে গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল আহমেদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দুটি গুলি করা হয়।
পালানোর সময় শহিদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে শাকিলকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।
অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পিজি হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১২ দিন পর সোমবার অক্টোবর না ফেরার দেশে চলে যান শাকিল।
এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়। পরে সেই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
মঙ্গলবার রাতে শাকিলের মরদেহ ঢাকা থেকে গুরুদাসপুর বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাযার জন্য আনা হয়। এতে বিএনপির নেতাকর্মীসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন।
জানাযায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বক্তব্য শুরু করলে মানুষ ক্ষোভ জানাতে থাকেন। এর মধ্যেই শাকিলের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার কথা করেন সংসদ সদস্য। তখন মানুষ ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে চিৎকার করেন।
সোমবার রাতে সংসদ সদস্যের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে মঙ্গলবার তাকে হত্যায় মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
