নাটোরে ছাত্রদল নেতা খুন: এমপিপুত্রের ‘ঘনিষ্ঠ’ প্রবাসীর শপিংমলে হামলা ও লুটপাট
জানাজায় বক্তব্য দেওয়ার সময় সংসদ সদস্য নিহত শাকিলের পরিবারের জন্য ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিলে উপস্থিত লোকজন ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।
নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর শপিংমলে।
শপিং মলটির মালিকের সঙ্গে নাটোর-৪ আসানের বিএনপির সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর ‘ঘনিষ্ঠতার’ বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এর জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
বুধবার রাত ১১টার দিকে চাঁচকৈড় বাজারে ‘রাস আরবান স্টাইল’ নামের শপিংমলে এ ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক রাসেল হোসেন।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতে খায়ের আলম বলছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় পুলিশ এখনও কোনো অভিযোগ পায়নি বলেও জানান তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক রাসেল হোসেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। তিনি গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবাড়িষা ইউনিয়নের খাকরাদহ গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা রবিউল করিমের ছেলে।
নিহত শাকিল গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ছিলেন। তিনি পৌরসভার খামারনাচকৈড় খোয়ারপাড়া এলাকার রবিউল মিস্ত্রির ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গত ১৪ অক্টোবর রাতে চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা একদল ব্যক্তি শাকিলকে গুলি ও কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়। ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
শাকিলের বাবা রবিউল মিস্ত্রি জানিয়েছেন, ছেলেকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় গত ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেছিলেন তিনি।
তার অভিযোগ, নুরুজ্জামান মিন্টু ছাড়া এ ঘটনায় পুলিশ অন্য কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এদিকে শাকিল হত্যার ঘটনায় বিচারের দাবিতে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার গভীর রাতে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
নাটোর কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসমাউল হক জানান, মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানায়। পরে শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে ছাত্রদল নেতা শাকিলের দ্বিতীয় জানাজা মঙ্গলবার রাতে গুরুদাসপুর বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
জানাজায় বক্তব্য দেওয়ার সময় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ নিহত শাকিলের পরিবারের জন্য ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিলে উপস্থিত লোকজন ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এতে তিনি ক্ষুব্ধ উপস্থিত ব্যক্তিদের রোষের মুখে পড়েন বলে স্থানীয়রা জানান।
তখন শাকিলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ বলেন, “অপ্রত্যাশিত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার সন্তান জড়িত থাকলেও তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।”
ছেলের ফাঁসি হলেও জনগণের সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রতি জানান এমপি আজিজ।
এদিকে মঙ্গলবার রাত ১০টা ৪৯ মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজে একদল মুখোশধারী ব্যক্তিকে ‘রাস আরবান স্টাইল’ শপিংমলে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, গ্রেপ্তার নুরুজ্জামান মিন্টুর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মালিক রাসেল হোসেনের ‘ঘনিষ্ঠতা’ রয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা শপিংমলটিতে হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন বলে তারা ধারণা করছেন।
এক ভিডিও বার্তায় রাসেল দাবি করেন, ষড়যন্ত্র করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে তার প্রতিষ্ঠানের পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার ক্ষতি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতে খায়ের আলম বলেন, “এ ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা বাড়িয়ে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে আমরা এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি।”
বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “লুটপাটের বিষয়টি আমরা বিশেষভাবে তদন্ত করে দেখছি।”
