Published : 09 Apr 2023, 11:51 PM
পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে হানাহানি নতুন কিছু নয়; কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে ‘শান্ত জেলা’ হিসেবে পরিচিত বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে একসঙ্গে বম সম্প্রদায়ের আটজনকে গুলি করে হত্যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বান্দরবানে এর আগে এতবড় ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’ ঘটেনি বলেই জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। ২০১৮ সালের ৩ মে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেএসএস (এম এন লারমা) নেতা শক্তিমান চাকমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।
পরদিন ৪ মে শক্তিমান চাকমার অন্তোষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে যাওয়ার পথে খাগড়াছড়ির বেতছড়িতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (গণতান্ত্রিক) নেতা তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মাসহ পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
পর পর দুদিনে ছয়জনকে হত্যার প্রায় পাঁচ বছর এবার বান্দরবানের এই হত্যাকাণ্ড দেখল পাহাড়।
বৃহস্পতিবার রাতে খামতাং পাড়ার এই হত্যাকাণ্ডের পর রোববার পর্যন্ত ভয় আর আতঙ্কে বম, খিয়াং সম্প্রদায়ের প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
শনিবার নিহত আটজনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সন্ধ্যায় ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী জুরভারং পাড়ায় তাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হয়। পাড়াটিতে শোক বিরাজ করছে।
এ ঘটনার পর থেকে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। পাড়া কারবারি, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় পাড়াবাসী কেউ এ নিয়ে কথা বলতে চান না। হত্যাকাণ্ডের পর খামতাং পাড়া, পাইক্ষ্যং পাড়া, জুরভারং পাড়া, ক্যপ্লং পাড়ার বাসিন্দারা ভিটেমাটি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন।
রোববার সন্ধ্যায় এলাকার পরিস্থিতি জানার জন্য জুরভারং পাড়ার বাসিন্দা এবং পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য অপৈ বমকে ফোন করা হলে জানান, তিনি এক সপ্তাহ ধরে বান্দরবান শহরে অবস্থান করছেন।
বলেন, “আমি এলাকা বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানি না। আপনারা দয়া করে, স্থানীয়ভাবে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলুন।“
বান্দরবানের সমাজকর্মী ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অংচমং মারমা বলেন, “একটি শান্তিপূর্ণ জেলা দিন দিন খারাপ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। শহরে যারা রয়েছে তারা পর্যন্ত চরম আতঙ্কে বসবাস করছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও আতঙ্কিত। হত্যাকাণ্ডের ঘটনা শহর থেকে খুব বেশি দূরে তো নয়। শহরে কারও ঘরে ঢুকে কাউকে হত্যা করবে না এই নিরাপত্তা এখন কে দেবে?
“নিরীহ মানুষজন গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যেতে হচ্ছে, এটা খুবই অমানবিক। এটা হওয়া উচিত না। এটা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু কে করবে, কীভাবে করবে এই কৌশলগত বিষয় নীতি-নির্ধারকরা ঠিক করবেন।
তিনি বলেন, “মোটের ওপর আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। গ্রামকে গ্রাম খালি পড়ে থাকবে। লোকজন পালিয়ে বেড়াবে। পরবর্তীতে কোনো একটা পরিস্থিতিতে আবারও গ্রাম খালি হয়ে যাবে, এটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।”
রোববার রাতে বান্দরবান সেনা জোনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এফ এম মাহমুদুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা সেখানে সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছি। যারা পাড়া ছেড়ে গেছেন তারা কবে নাগাদ ফিরতে পারবেন সেটা স্থানীয় প্রশাসন দেখবে। আমরা তাদের নিরাপত্তার জন্য কাজ করছি।”
আটজনের হত্যাকাণ্ডকে পাহাড়ে ‘বড় ঘটনা’ উল্লেখ করে জেলা পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, “পার্বত্য তিন জেলার মধ্যে বান্দরবানই সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ এলাকা ছিল। আমার জানা মতে, এর আগে এত বড় ঘটনা কোথাও ঘটেনি।
“তবে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কেউ মামলা পর্যন্ত করতে আসে না। অনেক সময় নিহতের নাম-ঠিকানাও ঠিকমত পাওয়া যায় না। এই আট হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনও মামলা পর্যন্ত হয়নি। থানায় কেউ অভিযোগ-মামলা করতে আসেনি।”
‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা, যোগসূত্র নেই’
বৃহস্পতিবার রাতে রোয়াংছড়ি ও রুমা সংযোগ সড়কের মাঝামাঝি খামতাং পাড়ায় পাহাড়ি দুটি সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলিতে আটজন নিহত হয়। পরে জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে খবর পেয়ে শুক্রবার দুপরে ঘটনাস্থলে গিয়ে আটজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
কোন দুটি সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে এ ব্যাপারে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং এলাকাবাসী কোনো কথা না বললেও শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ‘ভা তে কুকি’ নামের একটি পেইজ থেকে রোয়াংছড়ির হত্যাকাণ্ডে নিহত সাতজনের নাম প্রকাশ করা হয়।
‘ব্রাশফায়ারে’ এই হত্যাকাণ্ডের জন্য কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে ‘মদদপুষ্ট সংস্কারপন্থিদের’ দায়ী করা হয়েছে। এই ফেইসবুক পাতাটি থেকে কুকি-চীন ন্যাশনাল ফ্রন্টের কার্যক্রমের প্রচার চলতে দেখা যায়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এই পাতার সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
বান্দরবানের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বান্দরবানে একসময় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের শক্তিশালী অবস্থান ছিল। কিন্তু গত তিন-চার বছরের মধ্যে দলটির অনেক নেতা মামলার মুখে পড়ে আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য হন।
জেলাটিতে ইউপিডিএফের কাজ আছে। সে তুলনায় জেলায় ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এর সংগঠন কম। রোয়াংছড়ি এলাকায় ‘সংস্কারপন্থি’ বলতে এই সংগঠনটিকেই বোঝান স্থানীয়রা।
যদিও গোলাগুলির ওই ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এর বান্দরবান জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক উবা মং মারমা। আর শুক্রবার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে প্রসীত খিসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ।
কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে কোন দুটি সংগঠন এই গোলাগুলি করেছে, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। পাড়াবাসী বলছেন, রাতের আঁধারে গোলাগুলি হয়েছে বলে তারা জানেন না।
রোববার বিকালে এ নিয়ে পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আসলে ওই দিন রাতের আঁধারে কোন দুটি সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে তা এখনও পর্যন্ত জানা যাচ্ছে না। কোনো সংগঠনের নাম উল্লেখ করে বলতে হলে আমাকে প্রমাণ দিয়ে কথা বলতে হবে। এগুলোর জন্য আরও কাজ করতে হবে। আরও তদন্ত ও যাচাই করে বলতে হবে।
“তবে বাইরে থেকে চলে আসা কর্মীদের একটা সংগঠনের কথা শোনা যাচ্ছে। এই এলাকায় কেউ বাইরে থেকে এসে কাজ করবে, খারাপ কাজ করে যাবে, এটা যাতে না হয় স্থানীয়দের আরও সচেতন হতে হবে।”
তবে জেলা পুলিশের প্রধান ‘এগুলো একেকটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা, আগের কোনো ঘটনার সঙ্গে যোগসূত্র নেই’ বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনা পুলিশের একার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। পাড়ার কারবারি, হেডম্যান, সামাজিক নেতা ও সুশীল সমাজ সবাইকে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে হবে।”
`মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে'
খামতাং পাড়া থেকে যে আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তাদের মধ্যে ছয়জনই জুরভারং পাড়ার বাসিন্দা, একজন পাইক্ষ্যং পাড়ার এবং একজন রনিন পাড়ার। এরা সবাই বম। নিহতদের মধ্যে মধ্য বয়সী, কিশোর ও সরকারি কর্মচারীও ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, জুরভারং পাড়া থেকে খামতাং পাড়ার দূরত্ব প্রায় ছয় কিলোমিটারের মত। দুই পাড়ায় যোগাযোগের পথ পাহাড়ি রাস্তা। আর পাইক্ষ্যং পাড়া থেকে খামতাং পাড়ার দূরত্ব হবে সাত কিলোমিটারের মত। এটি ইটের রাস্তা। আর রোয়াংছড়ি উপজেলা সদর থেকে খামতাং পাড়ার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটারের মত।
হত্যাকাণ্ডের পর এসব পাড়া থেকে মানুষ অন্যত্র আশ্রয়ে চলে গেছে। আগেও গোলাগুলির মধ্যে পাড়াবাসী গ্রাম ছেড়েছে; আবার ফিরেও গেছে। কিন্তু এবার এক অজানা অতঙ্ক তাদের মধ্যে ভর করেছে। বমদের সামাজিক সংগঠন বম সোস্যাল কাউন্সিলের (বিএসসি) দায়িত্বশীল কেউ এ বিষয় নিয়ে প্রথমে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পরে বম সোস্যাল কাউন্সিলের এক কর্মকর্তা ফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন বম সম্প্রদায়ের কেউ বাজারে এসে দুই কেজির বেশি চাল কিনতে পারে না। এমনিতে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পড়ে এ বছর ঠিকমত জুমচাষও করতে পারেনি। বম পাড়াগুলোতে নীরবে খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি ভাল না হলে একটা মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।“
তিনি বলেন, “বাজারে জিনিসপত্রও ঠিকমত বিক্রি করতে পারে না। অনেকের হাতে নগদ টাকাও নেই। প্রতিদিন কেউ না কেউ টাকা চেয়ে ফোন করে। কয়েক দিন আগেও সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু পাড়ায় ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। কয়েক দিন পর পর এভাবে কতজনকে সহযোগিতা করতে পারব?
“এক সময় দেখা যাবে, খাদ্য সংকটে কেউ কেউ না খেয়ে আছে। আমাদের ধারণা, টিকতে না পারলে অধিকাংশ বম জনগোষ্ঠীর লোকজন প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যাবে।”
বম স্যোশাল কাউন্সিলের সাবেক এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পাহাড়ে একটা বিশেষ মহল রয়েছে। যারা এখানে শান্তি-স্থিতিশীলতার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পাহাড়ে মানুষদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ও স্বাধীন জীবনযাপনকে নষ্ট করার জন্য সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।
“পরিকল্পিতভাবে তাদেরকে দেশান্তরে বাধ্য করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনা একটা ধারাবাহিকতা রয়েছে। কিন্তু ভয়ে কেউ কিছু বলতেও চাই না। এসব ঘটনা আর পুলিশের তদন্ত দিয়ে হবে না। বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে কিছুটা হলে সুবিচার পেতে পারে। এ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”
গত বছর অক্টোবর থেকে রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ, যা স্থানীয়ভাবে ‘বম পার্টি’ নামে পরিচিত) এবং নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার হিল হিন্দাল শারক্বীয়া‘র বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরুর পরও জানুয়ারিতে মানুষ পাড়া ছেড়েছিল।
মার্চের শুরুর দিকে স্থানীয় কারবারি, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন জানায়, অভিযানের মধ্যে ‘আতঙ্কে’ বান্দরবানের রুমা থানা ও আশপাশের এলাকা থেকে ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। অন্তত ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সে সময় বন্ধ হয়ে যায়। বাড়িছাড়া হওয়ায় অনেকে জুম চাষের ক্ষতির কথাও বলেছিলেন; যা পাহাড়ি মানুষদের সারা বছরের খাবারের সংস্থানের উপায়।
এখন আবার মানুষকে সেই অবস্থার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জেলা পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, “কয়েকটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কারণে সেসময় আতঙ্কে বম জনগোষ্ঠীর লোকজন ভারতে মিজোরারামে চলে গেছে শুনেছি। ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমেও দেখেছি। এরকম যাতে না হয় সতর্ক রাখা হচ্ছে। তবে তারা ফেরত চলে আসছে কিনা জানা নেই বলে জানান তিনি।
`নির্বাচন এলে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়'
বান্দরবানের আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলিতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও সেখানকার জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোও এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রোববার জেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের এক নেতা জানিয়েছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বান্দরবান পৌরসভার মেয়র বেবী ইসলাম রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকের সভায় বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে উঠেছে। আটজনকে হত্যার মত ঘটনা ঘটেছে। যেটা হয়েছে হয়েছে, আর যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেই ব্যাপারে কথা হয়েছে। প্রশাসনের সবাই এ নিয়ে কাজ করছেন। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে।”
এ ঘটনার প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, “বান্দরবানে জাতীয় নির্বাচন এলে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে কিছু অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়। কেউ কেউ এটা তৈরি করে এর থেকে ফায়দা লুটতে চায়। এ ঘটনার পর অনেক মানুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছে, বাড়িছাড়া হয়েছে। এটা যাতে না হয় সে ব্যাপারে আমাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন এই অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরির ফাঁদে পা না দেয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।”
জেলা বিএনপির সভাপতি মাম্যাচিং মারমা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পাহাড়ে বর্তমান পরিস্থিতি কেন এমন হচ্ছে এটা বললে আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম শুরুর ঘটনা থেকে ভাবতে হবে। এখন দিন দিন পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। এটা সরকার ও জনগণকে একসঙ্গে ভাবতে হবে। আলাদা ও বিচ্ছিন্নভাবে চিন্তা করলে হবে না। ব্যক্তিগতভাবে অথবা রাজনৈতিক দল হিসেবে শুধু বিএনপিকে ভাবলে হবে না। বিষয়টি নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে।“
বিএনপি নেতা আরও বলেন, “আমরাও চাই দেশ ও সমাজ শান্ত ও স্থিতিশীল থাকুক। তবে কিভাবে সেটা থাকবে তা নিয়ে হয়তো দৃষ্টিভঙ্গি ও পদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে। আমরা গণতান্ত্রিক পন্থায় রাজনীতি করছি। গণতান্ত্রিক আন্দোলনই করব। অন্যরা কিভাবে কী করছে সেটা তাদের ব্যাপার। আমাদের পদ্ধতির বিষয়ও না।”
প্রায় আড়াই দশকের হানাহানির পর আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি করে। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন, পাহাড়ে হানাহানির অবসান ঘটবে এবং শান্তি ফিরে আসবে।
এই শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করে পরের বছর ১৯৯৮ সালে জেএসএস ছেড়ে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) গঠন করেন প্রসীত খিসা। এরপর এই দুটি সংগঠনের মধ্যে আবার সংঘাতের রাজনীতি শুরু হয়।
২০১০ সালে জনসংহতি সমিতি ভেঙে সুধা সিন্ধু খীসার নেতৃত্বে গঠিত হয় জেএসএস (এমএন লারমা)।
অপরদিকে ২০১৭ সালের মধ্য নভেম্বরে তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মার নেতৃত্বে ইউপিডিএফের সংস্কারবাদী একটি অংশ ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নামে নতুন দল গঠন হয়।
বান্দরবানের এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে রোববার চেষ্টা করেও এই চারটি আঞ্চলিক সংগঠনের কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন:
পুরানো খবর:
বান্দরবানে গোলাগুলিতে নিহত ৮ জনই বম জনগোষ্ঠীরপুরানো খবর:
গোলাগুলির আতঙ্ক, রুমার পাড়ায়-পাড়ায় স্কুল বন্ধপুরানো খবর:
‘আতঙ্কে’ বমপাড়ায় জুমচাষের ‘ক্ষতি’পুরানো খবর:
পাহাড়ে সশস্ত্র দল; এই ‘বম পার্টি’ কারা?পুরানো খবর:
নতুন জঙ্গি দলের ‘পাহাড়ি যোগ’ পেয়েছে র্যাবপুরানো খবর:
জঙ্গি আর পাহাড়ি দলের মিলে যাওয়ার বিপদ যেখানেপুরানো খবর:
র্যাবের জালে নতুন জঙ্গি দল, কারা এরা?