Published : 13 Jul 2026, 10:59 PM
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের বিরোধের জেরে মঙ্গলবার থেকে সব পথে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিকালে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে তার সম্মেলন কক্ষে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বৈঠক হয়। কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সেখান থেকে বেরিয়ে শ্রমিকদের একাংশ এই ধর্মঘটের ডাক দেন।
পরে জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এরশাদ আলী পল্টু বলেন, “মালিকপক্ষ নিজেদের পছন্দের নেতৃত্ব আনতে চায়। তাই নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে মালিকদের প্রতিনিধি রাখার বিরোধিতা করেছি। বাস মালিক নেতা নজরুল ইসলাম হেলালসহ সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।”
বৈঠকে উপস্থিত একজন বলেন, শ্রমিক ও মালিকদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে কমিটিতে শ্রম অধিদপ্তর, মহানগর পুলিশ ও শ্রমিক ফেডারেশনের একজন করে প্রতিনিধি রাখার বিষয়ে উপস্থিতরা একমত হন।

তবে কমিটিতে বাস মালিক সমিতির একজন প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাব উঠলে বিরোধ দেখা দেয়। জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এরশাদ আলী পল্টু এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করলে বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হট্টগোল শুরু হলে বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।
এরপর শ্রমিকদের একটি অংশ বাস টার্মিনালে গিয়ে সব পথে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। সন্ধ্যায় প্রায় এক ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ থাকার পর রাতে আবার চলাচল শুরু হয়।
বৈঠকে উপস্থিত আরেকজন বলেন, “বৈঠকে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন, যারা নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন এবং বাস চলাচল বন্ধের হুমকি দেন।”
নগরীর শিরোইলে দূরপাল্লার বাস কাউন্টারের এক কর্মকর্তা বলেন, “সন্ধ্যার আগে কয়েকজন শ্রমিক এসে কাউন্টার বন্ধ রাখতে বলেন। তাদের নির্দেশে একটি বাসের যাত্রা বাতিল করতে হয়। পরে আবার বাস চলাচল শুরু হয়। তবে মঙ্গলবার ভোর থেকে ধর্মঘটের কথা জানানো হয়েছে।”
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, “একটি পক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচন চায় না। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তারা অযথা বিরোধিতা করছে।
“নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বৈঠক শেষে তারা আন্তঃজেলা ভদ্রা কাউন্টারে ভাঙচুর ও টাকা লুটের চেষ্টা করে। পরে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয়।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এরশাদ আলী পল্টু।
এ বিষয়ে জানতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামকে মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি।