Published : 10 Jul 2025, 11:41 AM
টানা বৃষ্টিতে শরীয়তপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। পৌরসভার নিম্নাঞ্চলের অনেক বসতঘরেও ঢুকে পড়েছে বৃষ্টির পানি।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের চর পালং, বাগিয়া এলাকা, শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল, শিশু পার্ক, নিরালা আবাসিক এলাকা, শান্তিনগর, ধানকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের নিচু এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে সির্ভিল সার্জন অফিস, শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলখানা সড়ক, পালং উত্তর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তাগুলো তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিসগামী লোকজনকেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। স্কুলে যাওয়ার পথে একাধিক শিশু জলকাদায় পড়ে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বৃষ্টির কারণে বেচাকেনা না থাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে বহু দোকানপাট।
টানা বৃষ্টির কারণে কাজ না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। সড়কে যানবাহনও চলাচল করছে তুলনামূলক কম।

শহরের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি শরীয়তপুর পৌরসভা বা উপজেলা প্রশাসন। সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছরই সামান্য বৃষ্টিতেই এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে।”
পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিপন শেখ বলেন, “তিন দিনের টানা বৃষ্টিতেই শরীয়তপুর পৌরসভা এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি পৌরসভার অধিকাংশ সড়ক ভাঙাচোরা।
“রিকশা-অটোরিকশা কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। রাস্তায় পানি জমে থাকায় কেউই চলাচল করতে চায় না। বাসা থেকে অফিসে পৌঁছাতে হিমশিম খেতে হয়েছে।”
পৌরসভার চৌরঙ্গী এলাকার বাসিন্দা মাইন উদ্দিন বলেন, “শরীয়তপুর পৌরসভার ভেতরের খালগুলো প্রভাবশালীরা ভরাট করে রেখেছে। পাশাপাশি পুরো শহরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধাতা সৃষ্টি হয়।
“শরীয়তপুরে নেতার অভাব নাই, কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছে আগেও ছিল না, এখনো নাই। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। তা না হলে প্রতি বছর বর্ষায় একই দুর্ভোগ পোহাতে হবে সাধারণ মানুষকে।”
শরীয়তপুর পৌরসভার সচিব এনামুল হক বলেন, “অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা হয়েছে। আবার ড্রেনেজ ভরাট হয়ে গেছে। এই পানি জমে গেছে। আমরা ভরাট ড্রেনেজ পরিষ্কার করার চেষ্টা করছি।”
এ বিষয়ে জানতে শরীয়তপুর পৌরসভার দায়িত্বে থাকা পৌর প্রশাসক মো. ওয়াহিদ হোসেনকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।