১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘প্রি-পেইড মিটার’ স্থাপন নিয়ে রংপুরে মামলা, নেসকোর ৬ কর্মকর্তা আসামি

আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পরবর্তী শুনানির জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছে।

রংপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Jul 2026, 07:29 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:43 PM

বিদ্যুতের সচল পোস্ট-পেইড মিটার খুলে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়ে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি-নেসকোর রংপুর বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী, রংপুর জেলা প্রশাসকসহ ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

বুধবার ‘রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির’ সদস্য আব্দুর জব্বার সরকারসহ ১৫ জন গ্রাহক রংপুর সিনিয়র সহকারী জজ (সদর) আদালতে মামলাটি করা হয় বলে জানিয়েছেন আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ।

আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করে বলে জানান তিনি।

আসামিরা হলেন- নেসকো রংপুর অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম মণ্ডল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোছাদ্দেক কবির, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজার রহমান ভূঁইয়া, হিসাব শাখার ব্যবস্থাপক কানিজ ফাতেমা এবং রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

‘মহানগর নাগরিক কমিটির’ সদস্যসচিব পলাশ কান্তির অভিযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন সংযোগ কিংবা নষ্ট পোস্ট-পেইড মিটারের পরিবর্তে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কথা থাকলেও নেসকো অনেক ক্ষেত্রে সচল পোস্ট-পেইড মিটার খুলে জোর করে প্রি-পেইড স্থাপন করছে।

তিনি বলেন, রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলে ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে নয় লাখ প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রাহকদের আপত্তি ও আন্দোলনের পরও কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় প্রি-পেইড মিটার স্থাপনকে অবৈধ ঘোষণা এবং তা বন্ধের আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা।

পলাশ কান্তির দাবি, প্রি-পেইড ব্যবস্থায় গ্রাহকদের আগাম অর্থ জমা দিতে হয়। এ ছাড়া প্রতিবার রিচার্জের সময় মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট কেটে নেওয়া হয়। পোস্ট-পেইড ও প্রি-পেইড মিটারে বিদ্যুতের ইউনিট মূল্য একই হলেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের যৌক্তিকতা নিয়ে আপত্তি রয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের আগে আইন অনুযায়ী ১৫ দিনের নোটিস দেওয়ার বিধান থাকলেও প্রি-পেইড মিটার ব্যবস্থায় সেই নীতি কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।

এ ছাড়া কয়েকদির মধ্যে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আরেকটি আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন ‘মহানগর নাগরিক কমিটির’ সদস্যসচিব।