Published : 23 Jul 2026, 07:42 PM
একচ্ছত্র আধিপত্যের অপব্যবহার করে সার্চ ইঞ্জিনে নিজস্ব সেবাকে প্রাধান্য দেওয়া ও প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোকে কোণঠাসা করার অভিযোগে গুগলকে ১০০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে ইউরোপীয় কমিশন।
বাজার প্রতিযোগিতা বিঘ্নিত করার দায়ে ইইউ’র ‘ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট’ বা ডিএমএ-এর অধীনে মার্কিন এ প্রযুক্তি জায়ান্টটিকে মোটা অংকের জরিমানা করেছে সংস্থাটি।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, নিজেদের বাণিজ্যনীতিকে ‘অন্যায্য’ হিসেবে বর্ণনা করে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যেখানে পাল্টা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছে সেখানে ইউরোপের এমন পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হল।
ইউরোপীয় কমিশন বলেছে, সার্চ ইঞ্জিনে বাজারে নিজেদের একচ্ছত্র অবস্থানের সুবিধা নিয়ে গুগল অন্যায্যভাবে তাদের নিজস্ব কেনাকাটা, ভ্রমণ ও গেইমস’সহ অন্যান্য পরিষেবাকে জোর করে প্রাধান্য দিয়েছে।
সার্চের ফলাফলে গুগলের নিজস্ব বিভিন্ন পরিষেবাকে ওপরের দিকে রেখে প্রতিযোগী বিভিন্ন কোম্পানির পরিষেবাকে তলানিতে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ নিয়ন্ত্রকদের।
বিবৃতিতে ইউরোপীয় কমিশন বলেছে, “ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট’ বা ডিএমএ-এর অধীনে গেটকিপার কোম্পানিগুলো র্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের সেবার চেয়ে নিজেদের সেবাকে বেশি সুবিধা দিতে পারবে না। র্যাংকিং বা তালিকার ক্ষেত্রে তাদের স্বচ্ছ, ন্যায্য ও বৈষম্যহীন শর্ত প্রয়োগ করতে হবে।”
কমিশন আরও বলেছে, প্লে-স্টোর ব্যবহারকারীদের বিকল্প পেমেন্ট সুবিধা সম্পর্কে জানাতে অ্যাপ ডেভেলপারদের বাধা দিয়েছে গুগল। ফলে গুগলকে অতিরিক্ত ফি দেওয়া এড়িয়ে অ্যাপ নির্মাতারা ব্যবহারকারীদের সাশ্রয়ী মূল্যে বিকল্প উপায়ে সেবা দিতে পারেননি।
এসব পদক্ষেপ ২০২২ সালে পাস হওয়া ডিএমএ আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন, যা বাজারে বড় বিভিন্ন প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের সক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকানোর জন্য তৈরি করেছিল কমিশন।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রতিযোগিতা নীতি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট তেরেসা রিবেরা বলেছেন, “সেরা সেবা বা পণ্যগুলো তখনই সফল হওয়া উচিত যখন সেগুলো সত্যিই উন্নত, সার্চ ইঞ্জিন পরিচালনকারী কোনো কোম্পানির মালিকানাধীন হওয়ার কারণে নয়। ডিজিটাল বাজারে সকল ইউরোপীয় নাগরিকের স্বার্থে সততা, পছন্দ ও উদ্ভাবন নিশ্চিত করাই আমাদের ডিএমএ আইনের মূল লক্ষ্য।”
ইউরোপীয় কমিশনের নির্দেশ অনুসারে গুগলকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে। অন্যথায় তাদের বিশ্বজুড়ে বাৎসরিক লেনদেনের পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।
কমিশনের এমন সিদ্ধান্ত ইউরোপের ব্যবহারকারীদের জন্য ক্ষতির কারণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন গুগলের প্রধান আইনি পরামর্শক কেন্ট ওয়াকার।
তিনি বলেছেন, “এটা কোনো সৎ প্রতিযোগিতার বিষয় নয়, বরং সেবার মান নষ্ট করার চেষ্টা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ হওয়া উচিত পণ্যের মান উন্নত করা, খারাপ করা নয়।”
সম্প্রতি প্রকাশিত প্রান্তিক আয়ের প্রতিবেদনে গুগলের ১১ হাজার ২১০ কোটি ডলারের রেকর্ড মুনাফার তথ্য উঠে এসেছে। সেই আর্থিক হিসাব অনুসারে কমিশনের ১০০ কোটি ডলারের জরিমানাটি গুগলের সার্বিক ত্রৈমাসিক লাভের এক শতাংশেরও কম।
অন্যদিকে, মার্কিন পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এ জরিমানার কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা।
ইউরোপের কাছ থেকে গুগলের জরিমানার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০১৮ সালে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে ৪৭০ কোটি ডলারের এক অ্যান্টিট্রাস্ট জরিমানার আদেশের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আপিলে এ মাসের শুরুতেই হেরে গেছে গুগল।
এ ছাড়া ২০১৭ সালে শপিং সার্চে একচ্ছত্র আধিপত্যের জন্য তাদের ২৮০ কোটি ডলার জরিমানা করা হয়, যা ২০২৪ সালের আপিলেও বহাল ছিল।