Published : 23 Jul 2026, 07:46 PM
এক সাংবাদিককে মারধর এবং তার মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনতাইয়ের মামলার এক আসামিকে আদালত চত্বর থেকে পাকড়াও করার চেষ্টা করেছে ডিবি।
এ নিয়ে হৈচৈ, উত্তেজনার পরে জামিন পাওয়ার তথ্য পেয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে শাহাবুদ্দিন ওরফে ডাবারু নামের ওই আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। আদালত তাকে জামিনের আদেশ দেন।
এরপর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-সিএমএম আদালতের চতুর্থ তলা থেকে নেমে আসেন শাহাবুদ্দিন। নিচে নামামাত্র ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা-ডিবি সদস্যরা তাকে আটকের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
তাকে টেনে হিচড়ে আদালতের বাইরে নিয়ে আসা হয়। এসময় শাহাবুদ্দিন তাদের চিৎকার করে বলতে থাকেন, তিনি জামিন নিয়েছেন। তবে ডিবি পুলিশের সদস্যরা তাকে রায়সাহেব বাজারের দিকে নিয়ে আসেন। এ সময় কয়েকজন আইনজীবী বাধা দেন।
দৈনিক সময়ের কন্ঠ পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক আবু হাসান মিয়াকে মাদক নিয়ে প্রতিবেদন করার জের ধরে গেল বছরের ২৭ এপ্রিল রাতে উত্তরায় মারধর করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ঘটে। এ ঘটনায় আবু হাসান পরদিন উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে গত ৩১ জানুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই আরিফুল ইসলাম শাহাবুদ্দিনসহ চারজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন।
অপর আসামিরা হলেন-ফয়সাল ইসলাম রাকিব ওরফে রিফাত, জামিরুল ইসলাম ওরফে হৃদয় ও রাবেয়া আক্তার রিতা।
গত ২ মার্চ ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। শাহাবুদ্দিন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অপর তিন আসামি জামিনে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান শাহাবুদ্দিন। তার পক্ষে শুনানি করেন ঈসমাইল হোসেন।
শুনানির আদালত এক হাজার টাকা মুচলেকায় আগামী ধার্য দিন ৩ অগাস্ট পর্যন্ত জামিনের আদেশ দেন বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন।
এরপর এজলাস থেকে নেমে আদালতের নিচে আসেন শাহাবুদ্দিন। তখনই সাধারণ পোশাকে থাকা ডিবির সদস্যরা তাকে আটকের চেষ্টা করেন।
আসামি শাহাবুদ্দিন তখন চিৎকার করে তাদের বলছিলেন, “আমি জামিনে আছি।” তার কথায় কর্ণপাত না করে তাকে জোর করে নিয়ে যাচ্ছিলেন ডিবির সদস্যরা। তার চিৎকারে লোকজন জড় হয়ে যায়।
এসময় সাধারণ পোশাকে থাকা ডিবি সদস্যরা তাদের পরিচয় দেন।
আসামি শাহাবুদ্দিনকে রাস্তায় আনার পর একটি মাইক্রোবাসে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে দেখে মাইক্রোবাসটি থামিয়ে তাকে মাইক্রোবাসে তোলা হয়। কিন্তু মাইক্রোবাসে অন্য আসামি থাকায় তাকে তুলতে অস্বীকৃতি জানান পুলিশ সদস্যরা।
এসময় কয়েকজন আইনজীবী সেখানে উপস্থিত হন। ছিলেন সাংবাদিকসহ সাধারণ লোকজনও। টানা-হেঁচড়ায় শাহাবুদ্দিনের পরনে থাকা টি-শার্ট ছিঁড়ে যায়।
তিনি ডিবি সদস্যদের বলেন, “এই মাত্র ৫ নম্বর কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এসেছি।” ডিবির এক সদস্য তাকে বলেন, “জামিন হলে ছেড়ে দেব।”
শাহাবুদ্দিন তার আইনজীবীকে ফোন করলে আইনজীবী তার সহকারীকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি ডিবি সদস্যদের বলেন, শাহাবুদ্দিন জামিন পেয়েছেন।
ডিবি সদস্যরাও আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখা থেকে ফোন করে খবর নেন।
পরে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় ডিবি। খুলে দেওয়া হয় তার হাতকড়া।
ডিবির কোতোয়ালি জোনের এডিসি এনায়েত কবির শোয়েব বলেন, “আমরা ডিবি পুলিশের লোক। আমরা আটজন আছি। কোতোয়ালি থানার এক পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে। কোর্ট প্রাঙ্গণ না, তাকে রাস্তা থেকে ধরার জন্য অপেক্ষা করছি।”
তিনি বলেন, “তিনি একজন মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে। ওয়ারেন্ট মূলে আমরা এখানে আসছি।”
শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন ডিবির এই কর্মকর্তা।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, আবু হাসান মিয়া উত্তরা ও টঙ্গী এলাকার মাদক কারবার নিয়ে প্রতিবেদন করে আসছিলেন। তার প্রতিবেদনের ফলে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাদক কারবারিদের আটক করছিল। ফলে শাহাবুদ্দিনসহ অপর আসামিরা তার উপর ক্ষিপ্ত হয়। তাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে।
গত বছরের ২৭ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে আবু হাসানকে ফোন করে রেবেকা আক্তার রেবা পরিচয় দেন এক নারী। ধর্ষিত হয়েছেন জানিয়ে সাহায্য চান। তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন।
এরপর উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকা থেকে আবু হাসানকে একটি অটোরিকশায় করে উত্তরা পশ্চিম থানার ১৩ নম্বর সেক্টরের কালভার্ট রোডে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর একটি মাইক্রোবাস আসে সেখানে।তাকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে মারধর করা হয় এবং তার কাছে থাকা এক লাখ ১৭ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।