Published : 19 Oct 2025, 09:48 PM
ফরিদপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদের গণসংযোগ হামলার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় হামলাকারীরা দুটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে।
তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরে এ কে আজাদ তার গাড়িবহর নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে জানায় পুলিশ। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা যুবদল।
রোববার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে সদর উপজেলার কৃষ্ণ নগর ইউনিয়নের পমানন্দপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান।
এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহরে একটি মশাল মিছিল বের করেন। এ সময় তারা এ কে আজাদকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ বলে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলটি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে জনতা ব্যাংকের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল ৪টার দিকে এ কে আজাদ ১৫টি গাড়িতে নেতাকর্মীদের নিয়ে পরমানন্দপুর বাজারে যান। বাজার এলাকায় গণসংযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।
এ সময় ফরিদপুর সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লুৎফর রহমান ও কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি নান্নু মোল্লার নেতৃত্বে একটি মিছিল ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিক্ষোভকারীরা এ কে আজাদকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ সময় এ কে আজাদের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী তাকে ঘিরে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যুবদলের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের কথা-কাটাকাটি হয়।

বিকাল সোয়া ৫টার দিকে পুলিশ পাহারায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় এ কে আজাদের বহরের শেষের দুটি গাড়িতে একদল লোক আখ দিয়ে আঘাত করে ভাঙচুর করেন।
ফরিদপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “সদর উপজেলার ইউনিয়নে যুবদলের কোনো কমিটি নেই। পরমানন্দপুরে আমার কোনো লোক এ ঘটনা ঘটায়নি।”
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এ কে আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, “এমন সহিংসতার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। গত নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী শামীম হকও এ জাতীয় আচরণ করেননি।
“নায়াব ইউসুফের (বিএনপি নেত্রী) কাছ থেকে এ জাতীয় আচরণ এলাকাবাসী প্রত্যাশা করেনি। এ সব ঘটনা রাজনৈতিক সংকটকে ঘনীভূত করবে।”
এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেছেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।
এ কে আজাদের অভিযোগ অস্বীকার করে ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক নায়ব ইউসুফ বলেন, “আমি এসবের মধ্যে নাই। আমার নেতাকর্মীদের বলেছি, এ জাতীয় কোনো কাজ না করতে।”
এ ঘটনায় ফরিদপুর পুলিশ সুপার ও কোতোয়ালি থানার ওসিকে নজর রাখতে বলেছেন বিএনপির এ নেত্রী।
ওসি আসাদউজ্জামান বলেন, “পরমানন্দপুরে আজ হাটের দিন ছিল। সেখানে এ কে আজাদ গণসংযোগ করতে গিয়েছিলেন। অপরদিকে যুবদলের লোকজনও গণসংযোগ করছিলেন। এ সময় দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থায় চলে এলে, সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।”
পরে পুলিশ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এ কে আজাদের গাড়িবহর নির্বিঘ্নে পার করিয়ে দেয় বলে জানান তিনি।