রাকসু: ‘জীবনে প্রথম ভোট দিয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হলাম’
রবীন্দ্র ভবন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বলেন, “এক শিক্ষার্থী এমন দাবি করেছিলেন, তবে আমরা তাকে নতুন করে কোনো ব্যালট দেইনি।”
শুধু নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনেই প্রথমবারের মত ভোট দিয়েছেন এমন না; অনেকে জীবনে প্রথমবারের মত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেও আনন্দিত।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসু, হল সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দিয়ে তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। নিজের হাতের আঙ্গুলের অমোচনীয় কালি দেখিয়ে বলেছেন, ‘ইতিহাসের অংশ হওয়ার মত অনুভূতি’ কাজ করছে তাদের মধ্যে।
সাড়ে তিন দশক পর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সপ্তদশ রাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। বেলা ১০টার পর থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে। কেন্দ্রের সামনে আড্ডায়ও মেতেছেন শিক্ষার্থীরা। বিকাল ৫টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আবু হুরায়রা কাব্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। রাকসু নির্বাচনে প্রথম ভোট দিয়েছেন তিনি।
সেই অনুভূতি জানিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রথমবারের মতো রাকসু নির্বাচনে ভোট দিচ্ছি, একটা আলাদা উচ্ছ্বাস কাজ করছে।
“দীর্ঘদিন পর এই গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হতে পারছি, এটা শুধু একজন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নয়, এক ধরনের গর্বও। ব্যালটের প্রতিটি দাগে নিজের মত, বিশ্বাস আর ভবিষ্যতের আশার প্রতিফলন থাকে। এই অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয় পরিবর্তনের শুরু হয় অংশগ্রহণ থেকেই।”
সমাজকর্ম বিভাগের আবু হেনা শাকিল বলেন, “রাকসুতেই কেবল নয়, জীবনের প্রথম ভোট দিলাম। এটা অন্য রকম আনন্দের।”
রাকসু নির্বাচনেই জীবনের প্রথম ভোট দিলেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আফরিন জাহান আশা।
এই শিক্ষার্থী বলেন, “এর আগে কখনোই ভোট দেওয়া হয়নি। এবারই প্রথম ভোট দিলাম। এজন্য খুব আনন্দ কাজ করছে।”
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা জ্যোতি বলেন, “প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে রাকসু নির্বাচনের এই সময়টা আমার কাছে শুধু ভোটের নয়, ইতিহাসের অংশ হওয়ার অনুভূতি।
“বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় প্রথমবার ভোট দিতে পারব এই ভাবনাই গায়ে কাঁটা দেয়। সিনিয়রদের গল্পে শোনা রাকসু এখন চোখের সামনে ফিরে আসছে, আর আমি তার সাক্ষী। এটা যেন এক ধরনের নবজাগরণ, যেখানে আমরা নিজেরা আমাদের কণ্ঠস্বর খুঁজে নিচ্ছি।”
প্রথম বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী মিথুন আহমেদ ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর কাকে ভোট দেবেন, তা ভুলে যান বলে জানান।
এই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, “ভোট দেব, এটা নিয়ে খুবুই ‘এক্সাইটেড’ ছিলাম। কিন্তু কেন্দ্রে ঢুকে ভুলে গেছি প্রার্থীদের নাম।
“সব মিলিয়ে ৪৩টা ভোট তো মনে রাখা সম্ভব না। পরে কয়েকটা মনে ছিল, সেগুলোতেই ভোট দিয়েছি।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসুর রাকসুর ২৩টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৩০৫ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে থেকে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দেবেন প্রায় ২৯ হাজার ভোটার। হল সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনও একইসঙ্গে হচ্ছে।
ভোট তথ্য
>> ভোটগ্রহণ শেষে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে
>> মোট ভোটার ২৮ হাজার ৯০১ জন; তাদের ১১ হাজার ৩০৫ নারী, আর পুরুষ ১৭ হাজার ৫৯৬ জন
>> রাকসুর ২৩টি পদে মোট প্রার্থী ৩০৫ জন
>> ১৭টি হল সংসদের ২৫৫টি পদে মোট ৫৫৫ জন প্রার্থী হয়েছেন
>> সিনেটে পাঁচটি পদে ৫৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন
>> বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১২ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন
ভোট কীভাবে
নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ জানান, একজন প্রার্থী নির্দিষ্ট কেন্দ্রে ঢুকে পোলিং কর্মকর্তার কাছে সই করে ছয়টি ব্যালট পেপার পাবেন। এসব ব্যালট গোপন বুথে নিয়ে তা পূরণ করে স্বচ্ছ বাক্সে জমা দিতে হবে।
প্রথম ব্যালট পেপারে থাকছে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থীর তালিকা।
দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ব্যালটে আছে বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদপ্রার্থীদের নাম। পঞ্চম ব্যালটে থাকছে সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি পদপ্রার্থীদের নাম। আর ষষ্ঠ ব্যালটে থাকছে হল সংসদের প্রার্থীদের নাম।
আরও পড়ুন:
