Published : 06 Oct 2025, 06:08 PM
দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, দাবি-দাওয়া ও তারিখ পরিবর্তনের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য আবার প্রচার শুরু হয়েছে।
২২ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের তারিখ পিছিয়ে ১৬ অক্টোবর নির্ধারণ করে। এর মধ্যে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি ও শারদীয় দুর্গোৎসবের ছুটি মিলিয়ে কিছু দিন ক্যাম্পাস ছিল নীরব।
ছুটি শেষে রোববার থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করেছেন। সোমবার দ্বিতীয় দিনে ক্যাম্পাসে নির্বাচনি উচ্ছ্বাস ও সরব প্রচারের আমেজ দেখা গিয়েছে প্রার্থীদের মধ্যে।
ছুটির পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর, পরিবহন মার্কেট, একাডেমিক ভবন সংলগ্ন সড়কসহ পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে বিভিন্ন প্যানেলের উপস্থিতি বেড়েছে। প্রার্থীরা নতুন উদ্যমে প্রচারপত্র বিলি করছেন, শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন ব্যালট নম্বর, পরিচিতি ও নির্বাচনি অঙ্গীকার। অনেকে ক্লাসের বিরতিতে বা ক্যাম্পাসে আড্ডার ফাঁকে প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন, জানাচ্ছেন নিজেদের প্রত্যাশাও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটসহ ক্যাম্পাস এলাকায় সকাল থেকে প্রচার চালিয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন আবীর।
তিনি বলছিলেন, “‘পোষ্য কোটা’ ইস্যুতে শিক্ষার্থীরা রাকসু নির্বাচনের আমেজ থেকে দূরে সরে গিয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আমরা তাদের কাছে যাচ্ছি। আবার সেই আমেজ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।

“কোনো আধিপত্য গোষ্ঠী বা পেশিশক্তির চাপে যেন তারা আমেজ থেকে দূরে সরে না যায়, এটি নিয়ে কাজ করছি। কারণ শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত শক্তিই আসল। ভয়ভীতিমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”
ছাত্রদল মনোনীত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদপ্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কাফী প্রচারে বেছে নিয়েছেন ভিন্ন এক পন্থা। নবাব সিরাজউদ্দৌলা সেজে তিনি প্রচার চালাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাফী বলেন, “সংস্কৃতি শুধুই প্রমোদের জন্য নয়। সমাজের দর্পন হল সংস্কৃতি। এটি শুধুই দেশের নয়। আমাদের ক্যাম্পাসের সংস্কৃতি ধারক-বাহক আমরাই। সেই জায়গা থেকে আমি এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। নবাব সিরাজউদ্দৌলা পলাশির প্রান্তরে পরাজিত হয়েছিলেন, আমি নবাব সেজে আজকে আপনাদের সামনে এসেছি; আমাকে পরাজিত হতে দিয়েন না।”
ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী ফাহিম রেজাকে দেখা গেছে প্রচারে।
ফাহিম রেজা বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল, সেটি আসলে যায়নি। এত প্রতীক্ষার পর যে রাকসু নির্বাচন সেটি আসলে আমাদের সবারই দাবি। আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এটি এখনও দেখতে পাচ্ছি।”
রাকসুর অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে ফাহিম রেজা বলেন, “আমরা জানি, আমাদের এখানে একটি রাকসু বানচালকারী গোষ্ঠী আছে। তারা যদি আবারও রাকসু বানচালের কোনো প্রচেষ্টা চালায়, তাহলে আমরা তাদেরকে চিহ্নিত করে দেশ ও জাতির কাছে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে তুলে ধরব।”

ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির ছাড়াও এবারের নির্বাচনে আরও নয়টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। প্যানেলগুলো হলো- ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ছাত্র ফেডারেশনের ‘রাকসু ফর র্যাডিক্যাল চেঞ্জ’, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ‘সচেতন শিক্ষার্থী পরিষদ’; ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের ‘অপরাজেয় ৭১, অপ্রতিরোধ্য ২৪’, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক তিন সমন্বয়কের নেতৃত্বে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’, সামাজিক সংগঠন ইউনাইটেড স্টুডেন্টস ডেমোক্রেটিক ফোরামের (ইউএসডিএফ) ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী জোট’, ‘ইউনাইটেড ফর রাইটস’ এবং ‘ইন্ডিপেনডেন্ট স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স’।
প্যানেলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও ক্যাম্পাসে সরব উপস্থিতি দেখা গেছে।
স্বতন্ত্র সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী বিল্লাল হোসেন বলেন, “এখনও অনেক শিক্ষার্থীই ক্যাম্পাসে ফেরেনি, এটি প্রচারে অনেকটা বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি। হল, মেস, ক্যাম্পাসে তাদের কাছে গিয়ে নিজের কথা জানাচ্ছি, তাদের কথাও শুনছি। আশা করি, যথাসময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এফ নজরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের সবরকম প্রস্তুতি এরই মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন পিছানোয় প্রার্থীরা প্রচারের জন্য আরও কিছুদিন সময় পাচ্ছেন। আচরণবিধি কেউ ভাঙলে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।”
প্রায় সাড়ে তিন দশক পর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২৮ জুলাই তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত সময়সীমা অনুযায়ী ১৪ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।
১৬ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নয়টি ভবনে ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগ্রহণ শেষে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
আরও পড়ুন:
রাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামে
রাবির 'কমপ্লিট শাটডাউন': কর্মকর্তারা কাজে ফিরবেন, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ
রাবির 'কমপ্লিট শাটডাউন': কর্মকর্তারা কাজে ফিরবেন, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ দ্বিতীয় দিনে
নানা তালগোলে রাকসু ভোট পিছিয়ে ১৬ অক্টোবর
'শিক্ষক লাঞ্ছনা': জড়িতদের শাস্তির দাবিতে রাবিতে মানববন্ধন
'পোষ্য কোটা': মধ্যরাতে হল থেকে বেরিয়ে রাবির ছাত্রীরাও আন্দোলনে
‘পোষ্য কোটা’: অবরুদ্ধ রাবির প্রোভিসি-প্রক্টর-রেজিস্ট্রার, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা
'পোষ্য কোটা': রাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ধস্তাধস্তি, উত্তেজনা
রাবিতে 'পোষ্য কোটা' পুনর্বহালের পর বৃষ্টির মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ