শাহজালাল মাজারের দানের টাকা দ্বিতীয় বারের মত প্রকাশ্যে গণনা চলছে
এর আগে ২২ জুন মাজারের সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্স খুলে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়।
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা দ্বিতীয় বারের মত প্রকাশ্যে গণনা শুরু হয়েছে।
শনিবার সকালে দানবাক্স খুলে টাকা সংগ্রহের পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাজার প্রাঙ্গণে টাকা গণনা শুরু হয়েছে বলে মাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত কমিটির সদস্য এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির বৈঠকে দ্বিতীয় বার দানবাক্সের টাকা গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তার ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল ১০টার দিকে মাজারে আসেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, কমিটির সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ ও মাজার সংশ্লিষ্টরা।
পরে তারা মাজারের ঐতিহাসিক দানের তিনটি ডেগ সিলগালা অবস্থা থেকে খোলেন। ডেগ থেকে টাকা বস্তাবন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয় মসজিদ সংলগ্ন মাঠে টাকা গণনার স্থানে।
সেখানে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে টাকা গণনায় অংশ নিয়েছেন মাদ্রাসার ২৫-৩০ জন শিক্ষার্থী।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্যরা মাজার এলাকায় অবস্থান করছেন।
মাজার কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, “মাজারের দানের টাকার গণনা শুরু হয়েছে। আমরা কমিটির সদস্যসহ সবাই রয়েছি।”
মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ১২ জুন প্রথমবারের মতো দানের টাকা গণনার উদ্যোগ নেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজার প্রাঙ্গণে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেগ এবং দানবাক্সগুলো সিলগালা করা হয়।
এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই ২১ জুন সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
পরদিন ২২ জুন তিনি মাজারের সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনার ব্যবস্থা করেন। ওইদিন গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। পরে অর্থগুলো সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।
পরবর্তীতে মাজারের আর্থিক কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা আনতে গত ২৬ জুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোর সুপারিশ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই কমিটির বৈঠকেই ফের দানবাক্সের টাকা গণনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
আরও পড়ুন
