Published : 11 Jul 2026, 01:56 PM
দুজন দুই প্রজন্মের। তবে তাদেরকে এক বন্ধনীতে রেখেছে পারফরম্যান্স। সময়ের সেরা স্ট্রাইকারদের দুজন তারা, দুই দলের আক্রমণভাগের ভরসাও। সেই দুজনই এবার মুখোমুখি হচ্ছেন বিশ্বকাপের মঞ্চে। ম্যাচের আগে দুজনকে নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা ও বিশ্লেষণও চলছে। কেইন অবশ্য সেই তুলনায়ই যেতে চাইলেন না। আর্লিং হলান্ডকে স্তুতিতে ভাসিয়ে ইংল্যান্ড অধিনায়ক বললেন, নিজেকে তিনি অন্য ঘরানার স্ট্রাইকার মনে করেন।
বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে শনিবার মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে হলান্ডের নরওয়ের মুখোমুখি হবে কেইনের ইংল্যান্ড।
এখনও পর্যন্ত এই দুই দলের ছুটে চলায় দুই ফরোয়ার্ডের ভূমিকা প্রবল। প্রথম বিশ্বকাপে এসেই হলান্ড করেছেন সাত গোল, তার ঠিক পেছনেই আছেন ছয় গোল করা কেইন।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে কেইনকে জিজ্ঞেস করা হলো, দুজনের মধ্যে সেরা কে। কিন্তু এই তুলনাকে উপযুক্ত মনে করেন না ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সফলতম গোলস্কোরার।
“আমার জন্য এটির উত্তর দেওয়া অসম্ভব। প্রথমত, আমি মনে করি আমরা প্রায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের খেলোয়াড়। আমি জানি আমাদের দুজনকেই স্ট্রাইকার হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু সত্যি বলতে গেলে, এটা প্রায় দুটি ভিন্ন পজিশন।”
“আর্লিং অবিশ্বাস্য, তার গোল করার রেকর্ড অসাধারণ। শারীরিকভাবে সে একটি মেশিন, সে এক দানব। তার ফিনিশিং সর্বোচ্চ পর্যায়ের, এবং অবশ্যই, তার গোল করার রেকর্ডই তার পরিচয় তুলে ধরে।”
এই মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখ এবং ইংল্যান্ডের হয়ে কেইনের গোল সংখ্যা ৭৩। দেশের জার্সিতে ১১৯ ম্যাচে তার গোল ৮৫টি।
হলান্ড ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে গত মৌসুমে করেছেন ৪৬ গোল এবং চার বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট। ২৫ বছর বয়সেই সবাইকে অনেকটা ছাড়িয়ে নরওয়ের ইতিহাসের সফলতম স্কোরার তিনি। দেশের হয়ে ৫৪ ম্যাচেই করে ফেলেছেন ৬২ গোল।
তবে স্ট্রাইকার হলেও নিজেকে আলাদা ঘরানার বলে মনে করেন কেইন। তার আশা, এই ম্যাচটিতে অকার্যকর থাকবেন হলান্ড।
“আমি নিজেকে একজন ভিন্ন ধরনের ফুটবলার হিসেবে দেখি, যদিও আমি একই সংখ্যক গোল করি। আমি হয়তো আরেকটু বেশি বল স্পর্শ করতে, খেলায় আরেকটু বেশি সম্পৃক্ত থাকতে পছন্দ করি, তবে পুরোদস্তুর ‘নাম্বার নাইন’ হিসেবেও খেলতে পারি। আমার মনে হয় না, আমাদের মধ্যে তুলনা করাটা ঠিক হবে।
একজন ফুটবলার এবং একজন সহকর্মী পেশাদার হিসেবে আমি তাকে অনেক সম্মান করি। তবে অবশ্যই আশা করছি, আগামীকাল তার দিনটি শান্ত কাটবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার সামগ্রিক পারফরম্যান্সই তার পরিচয় দেয়। সে একজন অসাধারণ খেলোয়াড়।”
ইংল্যান্ডের পথচলা এখনও পর্যন্ত খুব দাপুটে ছিল না। গ্রুপে শীর্ষে থাকলেও তাদের পারফরম্যান্স ছিল না প্রত্যাশিত। পরে ডিআর কঙ্গোকে কেইনের শেষ মুহূর্তের দুটি গোলের প্রয়োজন হয়েছিল। শেষ ষোলোয় তো হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ৩-২ গোলে হারায় তারা মেক্সিকোকে।
কেইন অবশ্য সেটিকে বড় ব্যাপার মনে করেন না। অধিনায়কের আশা, এখন সেরা চেহারায় দেখা যাবে তার দলকে।
“সবাই টুর্নামেন্টটা নিখুঁতভাবে শুরু করতে চায়। আদর্শ পরিস্থিতিতে সবাই চায় প্রতিটি ম্যাচ জিততে, হেসেখেলে জিততে, অসাধারণ ফুটবল খেলতে। কিন্তু সবসময় এমনটা হয় না। ইতিহাস দেখায় যে, বড় টুর্নামেন্টের বিজয়ীরা খুব কমই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মসৃণভাবে খেলে।
আমরা এখন এমন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করছি, যেখানে কোয়ার্টার-ফাইনালে নিজেদের সেরাটা দেখাতে হবে। দল হিসেবে আমরা যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারি, যা এই টুর্নামেন্টে আমরা এখনও পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি, তা দেখাতে হবে। এখনই তা মেলে ধরার সময়। আশা করি, দল হিসেবে সেরা ফর্মে পৌঁছানোর জন্য য়োজনীয় সব কাজ আমরা প্রকরে ফেলেছি। আমরা এমন এক মুহূর্তে প্রবেশ করছি যেখানে কোয়ার্টার-ফাইনাল, সেমি-ফাইনাল এবং ফাইনাল, সবগুলোই আট দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে, তাই সময়টা খুব দ্রুত চলে এসেছে।”