Published : 22 Jun 2026, 08:07 PM
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের তিনটি ডেগসহ আটটি দানবাক্সে মাত্র চার দিনে সাড়ে ১৭ লাখ টাকার পাশাপাশি সোনা ও বিদেশি মুদ্রা পাওয়া গেছে।
সোমবার বেলা ২টার দিকে দানবাক্সগুলো খুলে প্রকাশ্যে গণনার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাজার প্রাঙ্গণে এ হিসাব তুলে ধরেন সিলেটের ওয়াকফ অফিসার মো. সজল মিয়া।
তিনি বলেন, “জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ১৮ জুন বিকাল ৪টার তিনটি ডেগসহ দানবাক্স সিনগালা করা হয়। পিতলের মোট তিনটি ডেগ, মহিলা ইবাদত খানার ছোট একটি দানবাক্স আমরা সিনগালা করেছিলাম। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা চারটি দানবাক্স স্থাপন করেছিলাম।
“এদিন বেলা ২টার দিকে আমরা দানবাক্সগুলো খুলেছি। এতে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সাত আনা স্বর্ণ ও সৌদি পাঁচ রিয়াল করে দুটি নোট পেয়েছি। প্রাপ্ত টাকা হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার হিসাবে সোনালি ব্যাংক শাখায় জমা করা হবে।”
বদলির আদেশের একদিন পর এদিন দুপুরে মাজারের শত শত বছরের প্রচলিত রীতি ভেঙে প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনার উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে গণনা শুরুর কিছু সময় পর সারওয়ার আলম চলে যান।
মাজারে উপস্থিত লোকজন বলেন, এই প্রথম মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা চলছে; যা আগে কখনো হয়নি।
টাকা গণনায় থাকা লোকজন বলেন, জোহরের নামাজের পর পর গণনার কাজ শুরু হয়। মোট ৩৬ জন স্বেচ্ছাসেবক গণনার কাজ করেছেন। আরও দুই থেকে তিনজন ছিলেন তদারকিতে। এ ছাড়া দরগাহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও এতে সহযোগিতা করেছেন।
সম্প্রতি মাজারের দান ও আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিলেটজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে সিলেট জেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার শাহজালালের (র.) মাজারে নতুন কয়েকটি দানবাক্স স্থাপন করে। সেই সঙ্গে মাজারে থাকা দানের ঐতিহাসিক তিনটি ‘ডেগ’ সিলগালা করা এবং ‘নিরাপত্তার জন্য’ আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়; যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাজার ভক্তরা।
পরদিন সিলেটের হযরত শাহপরাণ (র.) মাজার পরিদর্শন করে মাজারটির আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও মাদকের আসর বন্ধে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম।
এমন পরিস্থিতিতে রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপ-সচিব হিসেবে ন্যস্ত করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে তার প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সিলেটে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
সোমবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন কয়েকটি সংগঠন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় চলা এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ডিসি সরওয়ারের বহাল চেয়ে মানববন্ধন, মাজারের দানবাক্স সিলগালা প্রত
শাহপরাণ মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও মাদক বন্ধের নির্দেশ সিলেট ডিসির
সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে সরানো হল