Published : 14 Jul 2026, 12:30 AM
এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে খুলনা নগরীতে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে ওই দম্পতির বাড়ির উঠোন থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।
খুলনা মহানগর পুলিশের সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, সোমবার দুপুরে হরিণটানা এলাকার একটি বাড়ির উঠোন খুঁড়ে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ সময় ৩০ বছর বয়সী বাড়ির মালিক এবং ২২ বছর বয়সী তার স্ত্রীকে আটক করছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তের বরাতে পুলিশ জানায়, আটক নারী যৌনকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই সূত্রেই কয়েক মাস আগে ওই বাড়ির মালিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পরও স্বামীর সহযোগিতায় আগের পেশায় যুক্ত ছিলেন।
পুলিশের ধারণা, রমজানের মাঝামাঝি নিহত ব্যক্তিকে বাড়িতে ডেকে আনা হয়েছিল। এরপর তাকে খাবারের সঙ্গে কোনো কিছু খাইয়ে অচেতন করা হয়। একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রী মিলে তাকে গলা টিপে হত্যা করেন। তারপর মরদেহ বাড়ির সামনের উঠোনে পুঁতে রাখা হয়।
পরে ইজিবাইকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে আলাদা আলাদা করে বিক্রি করে দেন তারা। বাড়িটি নির্জন এলাকায় হওয়ায় বিষয়টি কারও চোখে পড়েনি।
সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী সোমবার থানায় এসে ঘটনাটি জানান। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের বেশিরভাগ অংশ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও সিআইডির সদস্যরা কাজ করছেন।
তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তি একজন ইজিবাইক চালক বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনও তার নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
হরিণটানা থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে ইজিবাইকের নম্বর প্লেট পাওয়া গেছে। সেটির সূত্র ধরে খুলনা সিটি করপোরেশনে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। সেখানে জানা যায়, নিবন্ধিত মালিক মোস্তফা নামের এক ব্যক্তি প্রায় চার বছর আগে এটি বিক্রি করে দিয়েছেন।
ওসি বলেন, নিহত ব্যক্তি মারুফ নামের কেউ হতে পারেন বা অন্য কেউ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির একটি পা ছিল না।