তাজরীন ট্রাজেডির ১০ বছর, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১৭ জন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান।

সাভার প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Nov 2022, 11:12 AM
Updated : 24 Nov 2022, 11:12 AM

ঢাকার সাভারে ভয়াবহ তাজরিন ফ্যাশন অগ্নিকাণ্ডে ১০ বছর পূর্তিতে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ করেছেন আহত শ্রমিক ও নিহতদের স্বজনরা। 

বৃহস্পতিবার আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরিন ফ্যাশনের অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে এমন আক্ষেপ জানান তারা। 

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুরে এলাকায় তুবা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান তাজরীন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১৭ জন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন দুই শতাধিক শ্রমিক। 

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাজরিন ফ্যাশনের পরিত্যক্ত ভবনের মূলফটকের সামনে প্রতি বছরের মতো জড়ো হতে থাকেন শ্রমিকরা। এরপর নিহত শ্রমিকদের স্বজন, আহত শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে নিহতদের স্মরণ করেন। 

এ সময় নিহতদের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। 

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গামের্ন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম বলেন, “বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা বিচারহীনতার নামান্তর।” সরকারপক্ষ তাজরীন মালিকসহ অপরাধীদের রক্ষাকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন এ শ্রমিক নেতা। 

পরে গামের্ন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন, গামের্ন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ টেক্সটাইল গামের্ন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, গামের্ন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট, গামের্ন্টস শ্রমিক সংহতির ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন থেকে নিহত ও আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণসহ পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়। 

তাজরীন ট্রাজেডি: ক্ষতিপূরণের আশায় আশায় ৭ বছর

স্মরণে তাজরীন অগ্নিকাণ্ডে নিহতরা

এ সময় তাজরীনের আহত শ্রমিক নাছিমা আক্তার সেই দিনের ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। 

তিনি বলেন, “আজ তাজরীন ঘটনার ১০ বছর হয়ে গেলো। তারপরও আমরা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পেলাম না। বেঁচে থাকার জন্য শারিরীক ও মানসিক যন্ত্রণা নিয়েই ঝুটের গোডাউনে অল্প বেতনে কাজ করছি। 

“চিকিৎসা না পেয়ে আমাদের বেশ কয়েকজন শ্রমিক মারা গেছেন। সবাই এই দিনটির কথা ভুলে গেলেও আমরা কোনোভাবেই ভুলতে পারি না।” 

বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, “কর্মস্থলে শ্রমিককে পুড়িয়ে হত্যার বিচার দেশের প্রচলিত আইনে এত বছরেও সম্ভব নয়। তাই এমন দুর্ঘটনার জন্য স্পেশাল অ্যাক্ট তৈরি করতে হবে। 

“অপরাধীর যখন বিচার হয় না তখন কর্মক্ষেত্রে একের পর এক এধরণের ঘটনা ঘটে। তাই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে তাজরীন ঘটনায় কারখানা মালিক দেলোয়ারসহ দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।” 

অন্যথায় গণআন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দেন এই শ্রমিক নেতা। 

আরও পড়ুন

তাজরীন ট্রাজেডি: কার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ?

নাশকতা, সন্দেহ বিজিএমইএ’র

তুবা গ্রুপের মালিককে গ্রেপ্তারের দাবি

তাজরিনে প্রাণহানি: সাক্ষীর অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

তাজরীনের বীমার টাকা আদায়ে আন্দোলনের হুমকি নৌমন্ত্রীর

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক