গফরগাঁওয়ে নিখোঁজের পর এক শিশুর লাশ উদ্ধার, আরেক শিশুকে জীবিত চায় পরিবার
মুক্তিপণ দিয়েও পাঁচ বছর বয়সি শিশুটির খোঁজ মেলেনি।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকা থেকে দুই শিশু নিখোঁজের একদিন পর এক শিশুর লাশ উদ্ধার হয়েছে পরিত্যক্ত পুকুর থেকে। অন্য শিশুটির পরিবার তাদের সন্তানকে জীবিত ফেরত চেয়ে আকুতি জানিয়েছে।
শনিবার সকালে পাঁচবাগ ইউনিয়নের চর শাখচূড়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে ১১ বছর বয়সি সিফাতের ঘাড় ভাঙা মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে পাগলা থানার ওসি মোহা. ফেরদৌস আলম জানান। সিফাত একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী নূরুল ইসলামের ছেলে।
অন্যদিকে একই ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের ৫ বছর বয়সি শিশু আইমান সাদাবের সন্ধান এখনও মিলেনি।
সাদাব জেলার নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের বারঘুরিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী আল আমিনের ছেলে। সে তার মায়ের সঙ্গে নানা বাড়ি গফরগাঁওয়ে বসবাস করছিল। সাদাবের মা তার সন্তানকে জীবিত ফেরত চেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আকুতি জানিয়েছেন।
নিখোঁজ সাদাবের মা সুমাইয়া আক্তার আহাজারি করতে করতে বলেন, “থানা পুলিশকে আমার ছেলে নিখোঁজের বিষয়টি জানানো হয়েছে। পুলিশ শুধু বাড়িতে আসে আর যায়। কিন্তু আমার ছেলের কোনো সন্ধান দিতে পারেনি। আমার ছেলেকে জীবিত অবস্থায় সন্ধান চাই।”
তিনি আরো জানান, তার ছেলেকে ফেরত দেবে বলে একটি নম্বর থেকে দুই দফা ফোন করে ২৮ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু শিশুটির খোঁজ মেলেনি এখনো।
পাগলা থানার ওসি মোহা. ফেরদৌস আলম বলেন, “সাদাবের স্বজনদের কাছ থেকে যে নম্বর থেকে দুইবার ফোন করে ২৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে; আমরা ‘লোকেশন ট্র্যাক করে’ তার পরিচয় জানতে পেরেছি। সে অনুযায়ী কাজ করছি। চেষ্টা করছি, যেন সাদাবকে দ্রুত উদ্ধার করা যায়।”
নিহত সিফাতের বিষয়ে ওসি বলেন, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সিফাত শুক্রবার দুপুর থেকে নিখোঁজ ছিল। দিনভর তার স্বজনরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেন।
তবে কোথাও তার খোঁজ না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ও উদ্ধারে অভিযান চালান। কিন্তু কোথাও সিফাতের সন্ধান মেলেনি।
সকালে একটি পুকুরে সিফাতের মরদেহ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত শিশু সিফাতের মা সাবিনা আহাজারি করতে করতে বলেন, তার ছেলেকে খুন করে পুকুরে ফেলা দেওয়া হয়েছে। যদিও তাদের কোনো শক্র নেই।
নিখোঁজ সাদাবের বিষয়ে ওসি ফেরদৌস আলম বলেন, সম্ভাব্য সব স্থানে জায়গায় খোঁজাখোঁজি করেও শিশু সাদাবকে না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার মা।
শিশুটির স্বজনদের বরাত দিয়ে ওসি আরো বলেন, শুক্রবার রাতে দুই দফা একটি নম্বর থেকে কল করে সাদাবকে ফেরত দেবে বলে ২৮ হাজার টাকা নেয় একটি চক্র। যদিও চক্রটি শিশুকে ফেরত দেয়নি। এরপর থেকে ওই মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, তবে তারা ওই নম্বরটির অবস্থান শনাক্ত করতে পেরেছেন এবং সে অনুযায়ী কাজ করছেন।
একইকথা জানিয়েছেন জেলার এসপি কাজী আখতার উল আলম।
