Published : 23 Nov 2025, 08:43 PM
৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার সময় পরিবর্তনের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এতে ময়মনসিংহ থেকে জামালপুর, নেত্রকোণা, জারিয়া ও কিশোরগঞ্জের সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এদিকে, যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পর একটি ট্রেন ছেড়ে দেয় শিক্ষার্থীরা।
রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুরগামী আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন লাল কাপড় দেখিয়ে আটকে জব্বারের মোড়ে কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। রাত ৮টায় শিক্ষার্থীরা রেললাইন থেকে সরে যান। তখন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শনিবার বিকাল ৫টায় একই দাবিতে একই এলাকায় রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ পথে ট্রেন চলাচল তিন ঘণ্টা বন্ধ ছিল।
এরপর রাত ১১টার দিকে আবারও জব্বারের মোড়ে রেললাইনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এক ঘণ্টা পর রাত ১২টার দিকে রেললাইন থেকে শিক্ষার্থীরা সরে যান। পরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে আন্দোলনস্থলে আটকে রাখে শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখায় এই ট্রেনের যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। একপর্যায়ে কিছু যাত্রী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। পরে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে বেলা আড়াইটার দিকে শুধু তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। তবে তারা অবরোধ কর্মসূচি চলমান রাখে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি মো. আক্তার হোসেন বলেন, “৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অবাস্তব ও বৈষম্যমূলক সময় নির্ধারণের প্রতিবাদে ফের রেললাইন অবরোধ করে পরীক্ষার্থীরা। সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জব্বারের মোড় তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে বিক্ষোভ করেন। পরে রাত ৮টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।”

তিনি বলেন, অবরোধের ফলে ফাতেমানগরে মোহনগঞ্জগামী মহুয়া কমিউটার, আউলিয়ানগরে তারাকান্দিগামী অগ্নিবীনা এক্সপ্রেস, গফরগাঁও স্টেশনে মোহনগঞ্জগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস, ময়মনসিংহ জংশনে ঢাকাগামী বলাকা কমিউটার এবং দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার আটকা পড়ে।
রেলপথ অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা ‘সবাই পায় ছয় মাস, আমরা কেন দুই মাস’, ‘এক দুই তিন চার, পিএসসি তুই স্বৈরাচার’, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “দাবি না মানা পর্যন্ত রেলের চাকা ঘুরবে না। শুধু আমরা নই, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজকে বৃহৎ আন্দোলন হচ্ছে। আমাদের দাবি, রুটিন প্রকাশের অন্তত দুই মাস পর পরীক্ষা হতে হবে। পিএসসি থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
মেহরাজ রাকিব নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “নতুন বাংলাদেশে কোনো বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না। আমাদের যৌক্তিক দাবি মানতে হবে। অন্যথায় রেলের চাকা ঘুরবে না।”
তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনে থাকা যাত্রী সোজেল রানা বলেন, “শিক্ষার্থীরা যেন সময় নিয়ে ভালোভাবে পড়ালেখা করে বিসিএস ক্যাডার হতে পারে সেজন্য সময় পেছানোর দাবিতে যৌক্তিক আন্দোলন করছে। তবে তারা ট্রেন আটকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এভাবে আন্দোলন করতে পারে না। ট্রেনে অনেকে জরুরি প্রয়োজনে নির্দিষ্ট জায়গায় যাচ্ছে। ট্রেনে রোগীসহ বয়স্ক মানুষও রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এসব বিষয় চিন্তা করেনি।”
একই ট্রেনের আরেক যাত্রী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবি কতটুকু যৌক্তিক, সে বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। তবে, কিছু হতে না হতেই ট্রেন অবরোধ, মহাসড়ক অবরোধ করা একেবারেই যৌক্তিক না। এভাবে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে দাবি আদায় অন্যায়। সরকারের অবশ্যই এদিকে নজর দেওয়া উচিত।”
আরও পড়ুন: