১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা: আসামিদের পক্ষে আদালতে না দাঁড়ানোর ঘোষণা আইনজীবীদের

“পুলিশি তৎপরতা, সাংবাদিকগণের সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত পুলিশের তদন্ত এবং কার্যক্রম সঠিক পথেই আছে বলে আমরা মনে করছি।”

রংপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Aug 2026, 01:40 PM

Updated : 16 Sep 2026, 01:01 PM

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার মামলায় আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আইনজীবী সমিতি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন।

তিনি বলেন, “আইনজীবী সমিতির সদস্যদের আলোচনা সাপেক্ষে একই পরিবারের চার সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

“তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে রয়েছি এবং তাদের সবধরনের আইনি লড়াইয়ে আমরা তাদের পাশে আছি। ”

আফতাব উদ্দিন বলেন, “রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনাটি নিকৃষ্টতম ঘটনা। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা কয়েকজন সরকারি আইনজীবী রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।” 

তিনি বলেন,  এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে এবং তাদের দেওয়া তথ্য মতে লুণ্ঠিত গহনা উদ্ধার হয়েছে। আটকরা ১৬৪ ধারায় আদালতে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। 

“পুলিশি তৎপরতা, সাংবাদিকগণের সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত পুলিশের তদন্ত এবং কার্যক্রম সঠিক পথেই আছে বলে আমরা মনে করছি।”

এ আইনজীবী বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা রকমের গুজব ও গল্প সাজিয়ে প্রচার করছেন। কেউ কেউ এটাকে নিয়ে রাজনৈতিক প্রচার চালানোর চেষ্টা করছেন। 

“আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে অনুরোধ এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না। কোনো প্রকার গুজব ছড়াবেন না।”

তিনি এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের আহবান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, অ্যাডভোকেট সাহেদ কামাল ইবনে খতিব, অ্যাডভোকেট কাওছার আলীসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। তিনি আগে রংপুর শহরের বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরে নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। জমিটি ২০১০ সালে কেনা হলেও অনেক পরে সেখানে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

সেই বাড়ির দোতলায় প্রায় তিন বছর ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেনে গণপতি চক্রবর্তী। তবে নিচতলার কাজ এখনো শেষ হয়নি। অবসরে যাওয়ার পর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে রোগীও দেখতেন তিনি।

২২ অগাস্ট রাতে ওই বাসা থেকে গণপতি (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চারজনকে হত্যার এ ঘটনায় রোববার নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

ওই দিন ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামের দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতেই তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়।

আরও পড়ুন

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যাজমি আর 'দাস-ব্রাহ্মণের ব্যবধানের' কথা

আদালতে জবানবন্দি: গণপতি পরিবারকে খুনের রাতে বন্ধু ‘সীমান্তের বাসায় ইয়াবা সেবন করেন’ মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা মামলা ডিবিতে

রংপুরে শিক্ষক পরিবারকে হত্যা: 'এক ভয়াবহ বার্তা'

রংপুরে গণপতি পরিবার হত্যা: মা-মেয়েকে ধর্ষণের ‘আলামত পাননি’ ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা: ‘সিসিটিভি ক্যামেরার ভয়েই বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন করেন সিদ্ধার্থ’

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যামুগ্ধ-সিদ্ধার্থের গ্রেপ্তার নিয়ে বাবা

রংপুরে শিক্ষক পরিবারে ৪ খুনআদালতে দুই আসামির 'স্বীকারোক্তি'

গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারকে হত্যার পর খুনিরা 'বাসায় গোসল করে খেজুর খায়'

'ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায়রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার খুনপুলিশ

গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের আর কেউ রইল না

'ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায়রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার খুনপুলিশ

ফোনে না পেয়ে বাসায় এসে বোনসহ চারজনের লাশ পেলেন পূজা চক্রবর্তী

রংপুরে ৪ খুনশিক্ষক পরিবারের লাশ পড়েছিল ছাদে-সিঁড়িতে-ঘরে